চবিসাসের মানববন্ধন © টিডিসি ফটো
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ঢাবিসাস) সদস্যদের উপর ছাত্রদলের ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদ এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (চবিসাস)।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত এ মানববন্ধনে অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে সাংবাদিকরা বলেন, সাংবাদিকদের প্রতি হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতার অন্তরায়। এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে এর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধনে চবিসাসের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে বিভিন্ন সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদল হামলা ও নির্যাতন শুরু করেছে। আপনারা যদি পেশিশক্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করতে চান, তাহলে মনে রাখবেন আপনাদের পেশি শক্তি যদি হয় পাহাড় সমান, তাহলে সাংবাদিকদের কলমের শক্তি আকাশ সমান। বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে একমাত্র সাংবাদিকরাই আপনাদের ক্যাম্পাসগুলোতে প্রাসঙ্গিক করে রেখেছিল। এখন সুসময়ে ফিরেছে আপনাদের। আপনারা বিগত ১৭ বছর মজলুম ছিলেন, এখন ক্ষমতা পেয়ে জালিমকারী হয়েন না।
তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের কলমের মাধ্যমে সকলের অন্যায়-অবিচার ও নির্যাতন বাংলাদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরবো। কেউ আমাদের দমিয়ে রাখতে পারবে না। আমাদের ভয় দেখাবেন না। আমরা কখনো ভয় পেয়ে আমাদের কলম বন্ধ রাখবো না। ভয় দেখাতে চাইলে পরিনতি খারাপ হবে।
চবিসাসের সহ-সভাপতি আজিম সাগর বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হলো সংবাদমাধ্যম। ছাত্রদল সেই স্তম্ভের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা খুবই লজ্জাজনক কাজ। সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের দর্পণ। পেশিশক্তির জোরে তাদের ওপর হামলা চালালে তা সাংবাদিক সমাজ কখনোই মেনে নেবে না। থানার ভেতরে গিয়ে সাংবাদিক মারধরের মতো দুঃসাহসিক কাজ ইতোপূর্বে কেউ করেনি। এই ঘটনায় অবশ্যই জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনি বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
সভাপতি রেফায়েত উল্যাহ রুপক বলেন, ঢাবির সাংবাদিকদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা শুধু ব্যক্তিগত আঘাত নয়; বরং এটি ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্তমূলক এবং কলঙ্কজনক ঘটনা হিসেবে থেকে যাবে। ঢাবিসাস শুধু একটি সংগঠন নয়, এটি দেশের সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখান থেকে জাতীয় পর্যায়ে সাংবাদিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনায় ছাত্রদলের কিছু নেতৃবৃন্দ জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আমরা আশা করি, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের গঠিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত তদন্ত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ঢাবি প্রশাসনও যেন অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন, চবিসাসের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ শুভ্র, সহ-সভাপতি সুমন বাইজিদ, নির্বাহী সদস্য আতিকুর রহমানসহ সমিতির বর্তমান নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা।