মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ক্লাব প্রতিনিধিদের অবস্থান, আশ্বাসে তিন ঘণ্টা পর ফিরলেন 

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:১৫ PM
যবিপ্রবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ক্লাব প্রতিনিধিরা

যবিপ্রবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ক্লাব প্রতিনিধিরা © টিডিসি

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে নিয়ম ভঙ্গ করে একটি অনিবন্ধিত ক্লাবকে ফুল দিতে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধিত ক্লাবগুলো ফুল দেওয়া অনুষ্ঠান বয়কট করে মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়। তিন ঘণ্টা পর যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ এসে ওই ঘটনার এক কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আশ্বাস দিলে ক্লাব প্রতিনিধিরা ফিরে যায়।

২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ক্লাব প্রতিনিধিদের প্রশ্ন ছিল—জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরাম নামক সংগঠনটি নিবন্ধিত নাকি অনিবন্ধিত, সে ঘোষণা করতে হবে; গঠনতন্ত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা না দিলে বেনামি কেন হবে না; শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য নিয়ম ভঙ্গ করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রশাসনের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না।

এদিকে এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরাম জানায়, জাতীয়তাবাদী মানে হচ্ছে দেশপ্রেম। তাই সব ক্লাবের ঊর্ধ্বে হচ্ছে জাতীয়তাবাদ। এ কারণেই অন্যান্য ক্লাবের আগে ফুল দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে যবিপ্রবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাত ১২টায় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ডিনস কমিটি, বিভাগ ও দপ্তরসমূহ পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে নিবন্ধিত ক্লাবগুলোর পুষ্পস্তবক অর্পণ পর্ব শুরু হয়।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ফুল দেওয়া শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট ক্লাবের ফুল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিবেট ক্লাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকায় নিয়ম ভঙ্গ করে অনিবন্ধিত ক্লাব ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরাম, যবিপ্রবি’-এর নাম ঘোষণা করা হয়। এতে নিবন্ধিত ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন, ফুল দেওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কট করেন এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠান শেষ হলে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ নিবন্ধিত ক্লাবগুলো তাদের ফুলসমূহ শহীদ মিনারে নিবেদন করে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত আয়োজক কমিটি ও অন্য শিক্ষকরা ক্লাব প্রতিনিধিদের প্রশ্নসমূহের সঠিক জবাব দিতে না পারায় পরবর্তী সময়ে রাত দেড়টার দিকে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। তিন ঘণ্টা পর, শেষ রাত চারটায় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত হন। আগামী এক কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর রিপোর্ট আকারে প্রকাশের আশ্বাসে উপাচার্যের বাসভবন ছেড়ে আসে শিক্ষার্থীরা।

নিবন্ধিত ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব দপ্তর ও বিভাগ পুষ্পস্তবক প্রদান করছিল। সেখানে একটি অনিবন্ধিত ও বেনামি সংগঠন ফুল দেওয়ার জন্য শহীদ মিনারে ওঠে। এই সংগঠনের কোনো গঠনতন্ত্র প্রশাসনের কাছে নেই। বিষয়টি জানার পর আমরা ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালককে জানাই। তিনি পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেন। একটি অনিবন্ধিত সংগঠন অন্য সব নিবন্ধিত ক্লাবের আগে ফুল দিতে যাবে কেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসন আমাদের কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেনি। পরে আমরা নিবন্ধিত ক্লাবগুলো নিজ উদ্যোগে পুষ্পস্তবক প্রদান করি। 

তারা আরও বলেন, ‘ঘটনাস্থলে থাকা আয়োজক কমিটি ও অন্য শিক্ষকরা আমাদের কোনো সমাধান দিতে পারেননি। উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলার জন্য আমরা তাঁর বাসভবনের সামনে তিন ঘণ্টা ধরে অবস্থান করি। এক পর্যায়ে উপাচার্য আসলে আমরা আমাদের প্রশ্নগুলো করি এবং এক কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশ করার আল্টিমেটাম দিই। উপাচার্য স্যার তা বাস্তবায়নের কথা দিলে আমরা ফিরে আসি। তবে রিপোর্ট প্রকাশে ব্যর্থ হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।’

এ বিষয়ে ফুল দেওয়া আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাফিউল হাসান বলেন, ‘আজ শহীদ মিনারে পুষ্প অর্পণের জন্য প্রায় ২০টি ক্লাবের তালিকা করা হয়েছিল। সেখানে একটি ক্লাব অনুপস্থিত থাকায় তার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা একটি ফোরামকে পুষ্প অর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়। মাঝখানে অন্য একটি সংগঠনকে সুযোগ দেওয়া অন্যান্য ক্লাবের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে। আমাদের দ্বারা এটি করা ঠিক হয়নি। এ জন্য আমি দুঃখিত।’

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, ‘ঘটনাটি আমার নজরে ছিল না। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ২১শে ফেব্রুয়ারির আয়োজক কমিটি ও প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে বসে ঘটনার অদ্যোপান্ত জেনে তাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হবে।’

ইমাম-মুয়াজ্জিন-পুরোহিতদের সম্মানী কার্যক্রমের উদ্বোধন শনিবা…
  • ১৩ মার্চ ২০২৬
পুরান ঢাকার ফুটপাতে বাহারি ইফতার
  • ১৩ মার্চ ২০২৬
তিতুমীর কলেজের হলের কর্মচারীদের ঈদ উপহার দিলেন ছাত্রদল নেতা…
  • ১৩ মার্চ ২০২৬
ইরানের অনুমতি নিয়ে হরমুজ পার হল তুরস্কের জাহাজ
  • ১৩ মার্চ ২০২৬
রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের বিষয়ে সংসদে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়…
  • ১৩ মার্চ ২০২৬
ইরানে স্কুলে হামলায় নিহত শিক্ষার্থীদের জন্য ২ লাখ ডলার অনুদ…
  • ১৩ মার্চ ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
22 April, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081