জাবি অফিসার সমিতির নির্বাচন
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় © সংগৃহীত
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) অফিসার সমিতির আসন্ন কার্যনির্বাহী পরিষদের ২০২৬–২৭ মেয়াদের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচনে জুলাই হামলায় অভিযুক্ত ও বহিষ্কৃত দুই কর্মকর্তাসহ মোট পাঁচজন বহিষ্কৃত কর্মকর্তাকে বৈধ ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিভিন্ন অভিযোগে বহিষ্কৃত হয়েও পাঁচ কর্মকর্তার নাম ভোটার তালিকায় রাখা হয়েছে। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত বহিষ্কৃত কর্মকর্তাদের মধ্যে দু’জন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন শাখায় কর্মরত ডেপুটি রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খান এবং শিক্ষা শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার রাজিব চক্রবর্তী।
এছাড়া বহিষ্কৃত অন্য তিন কর্মকর্তার মধ্যে একজন হলেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার সুদীপ্ত শাহিন। ২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ছাত্রলীগ নেতা শামীম মোল্লা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। অপর দুইজন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল ও কলেজের কর্মকর্তা। তারা হলেন ডেপুটি কম্পট্রোলার রাজ কান্ত বর্ধন ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা সুলতান আহাম্মেদ। রেজাল্ট জালিয়াতির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাথমিক খসড়া ভোটার তালিকায় এসব বহিষ্কৃত কর্মকর্তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর অনুষ্ঠিত একটি সাধারণ সভায় বহিষ্কৃত কর্মকর্তাদের ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর প্রেক্ষিতেই নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাদের নাম সংযুক্ত করে।
বিষয়টি নিয়ে চলমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও শারীরিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিম মিয়া বলেন, জুলাই হামলায় অভিযুক্তসহ বহিষ্কৃতদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা সাধারণ সভায় ছিল না। বিবিধ আলোচনার অংশে একজন সদস্য বিষয়টি উত্থাপন করলে সেটি সভায় পাশ হয়।
এ বিষয়ে অফিসার সমিতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে বহিষ্কৃত কর্মকর্তাদের ভোটার তালিকায় রাখিনি। পরে অফিসার সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর সংবলিত একটি অফিসিয়াল চিঠির মাধ্যমে জানানো হয় যে, সাধারণ সভায় বহিষ্কৃতদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাদের নাম রাখা হয়।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কুমার দেবুল দে-এর সঙ্গে পরামর্শ করি। তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বহিষ্কৃত কর্মকর্তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন।
এ বিষয়ে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, জুলাই হামলায় বহিষ্কৃত কর্মকর্তাদের অফিসার সমিতির ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা শহিদদের প্রতি অবমাননাকর। আমরা আশা করি দ্রুত তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে উপাচার্য বরাবর চিঠি দেওয়া হবে।