খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকসভা

০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪০ PM
খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকসভায়

খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকসভায় © সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে তার জীবন ও কর্ম নিয়ে শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

রবিবার (৪ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এ শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। সূচনা বক্তব্য ও শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন শোকসভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ। 

শোকসভা কোরআন তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং মরহুমার রুহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এরপর ‘শিক্ষা ও জাতীয় ঐক্যে খালেদা জিয়া’ শীর্ষক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। শোকসভা সঞ্চালন করেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্যের এক বিরল প্রতীক। যিনি গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হয়ে বহুমাত্রিক অবদানের মাধ্যমে এদেশের মানুষকে একত্রিত করতে সক্ষম হয়েছেন।

তিনি বলেন, মরহুমার জানাজায় সারাদেশের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তার ঐক্য সৃষ্টির সক্ষমতার ঐতিহাসিক প্রমাণ।

উপাচার্য জানান, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম নিয়ে একাডেমিক গবেষণা, সাহিত্যকর্ম ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ গ্রহণের প্রস্তাবগুলো বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।

সূচনা বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের এক অনন্য রাষ্ট্রনায়ক ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, সাংবিধানিক শাসন এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি আপসহীন নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নে তার অবদান এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করছে এবং তার আদর্শকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে। এসময় তিনি একটি শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন এবং সেটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

শোকসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক। যার ফলে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষক সমাজের প্রতি বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহানুভূতি ও অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বিশেষ করে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দরিদ্রতা হ্রাস, নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশের নারীরা কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার স্বীকৃতি পেয়েছে। 

এ সময় তিনি এসিড নিক্ষেপ বন্ধে বেগম খালেদা জিয়া সরকারের করা আইনের প্রশংসা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের অঙ্গীকারে আপসহীন নেতা। একজন গৃহিনী থেকে তিনি ক্রমেই আপসহীন নেত্রী, প্রধানমন্ত্রী, দেশনেত্রীতে পরিণত হয়েছেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নারী শিক্ষার বিস্তৃতি, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কঠোর দেশপ্রেম ও নৈতিক দৃঢ়তার কারণে নিপীড়ন ও শারীরিক কষ্টের মধ্যেও তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছেন এবং দেশের জনগণের জন্য অসামান্য অবদান রেখে গেছেন।

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের প্রতীক। যিনি আধিপত্যবাদ ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাসে অনন্য স্থান অর্জন করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে সুসংগঠিত করে জনগণের ভোটাধিকার ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আজীবন সংগ্রাম করা এই নেত্রীর প্রয়াণে দেশ এক প্রজ্ঞাবান অভিভাবককে হারিয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার সততা, দেশপ্রেম ও মানবিক নেতৃত্বের মাধ্যমে এদেশের মানুষের হৃদয়ে অনন্য স্থান করে নিয়েছেন। তিনি মরহুমার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং স্মরণসভা আয়োজনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

শোকসভায় আরও বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি সাদিক কায়েম ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস। 

এর আগে, মিলনায়তনের বাইরে স্থাপিত শোকবই উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বাক্ষরের জন্য শোকবই আগামী তিনদিন আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে রাখা থাকবে।

ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা ইসির, প্রতিমন্ত্রী বললেন, ‘সরকা…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘আল্লাহ আমাদের খাবার দাও’—চুলায় কয়েক বেলা আগুন না জ্বলা সেই…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হাসপাতালে অগ্নিকান্ড, হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে নিহত শাহজাহানের…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংসদ অধিবেশন না থাকায় এখনও সুযোগ দেখছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাঁজা সেবনকালে হাতেনাতে আটক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্…
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সৌদি আরবের ৩ শহরে হুতিদের ড্রোন হামলা
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9