‘এই বেয়াদব ছেলে, গেট আউট’ রাকসুর জিএসকে রাবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার

১০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৪০ AM , আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০১:৪৬ AM
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা © টিডিসি ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ ও রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। রবিবার ( ৯ নভেম্বর) বেলা ২টার দিকে রেজিস্ট্রারের কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের সাথে রাজশাহী মহানগর এনসিপির নেতাকর্মীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ চলছিল বলে জানা গেছে। 

এক ভিডিওতে দেখা যায়, সালাহউদ্দিন আম্মার রেজিস্ট্রারকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আমি স্যার ভিতরে আসব না?’ তখন রেজিস্ট্রার বলেন, ‘তোমাকে আমি বাইরে ১০ মিনিট ওয়েট করতে বলেছি।’ তারপর আম্মার বলেন, ‘আপনি স্যার চিঠি (ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সভাপতি অপসারণের চিঠি) আটকায় রাখছেন।’ রেজিস্ট্রার বলেন, ‘এই বেয়াদব ছেলে, কীসের চিঠি আটকায় রাখছি আমি?’ তখন আম্মার বলেন, ‘বেয়াদব তো আমি। ডেফিনেটলি বেয়াদব।’

রেজিস্ট্রার বলেন, ‘আমার সাথে বেয়াদবি কেন? তুমি কে ওই ডিপার্টমেন্টের? তখন সালাউদ্দিন আমার বলেন, ‘আমি কে মানে? আমি রাকসুর নির্বাচিত জিএস।’

সালাউদ্দিন আম্মারের পিছে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ করে রেজিস্ট্রার বলেন, ‘তোমরা কারা?’, তারা উত্তরে বলেন, ‘আমরা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।’ তখন তিনি বলেন, ‘তোমরা আসো।’ তখন সালাউদ্দিন আমার বলেন, ‘ওরা কথা বলবে! আমিও তো শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি।’সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রার বলেন, তোমাদের শিক্ষকদের সাথে কথা হয়েছে। আমাকে প্রতিটা দিনের জন্য জবাবদিহি করতে হবে নাকি।’

পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ফিসারিজ বিভাগের ডিন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান মণ্ডলকে দেখিয়ে আম্মারকে রেজিস্ট্রার বলেন, ‘ডিন স্যার বাইরে ওয়েট করতেছিল। তুমি এর ভিতরে ঢুকেছ কেন?

আম্মার বলেন, ‘আমি ঢুকব না? আমি নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমি কেন ঢুকতে পারব না?’ রেজিস্ট্রার আম্মারকে বলেন, ‘গেট আউট? আম্মার বলেন, ‘কেন গেট আউট।’ রেজিস্ট্রার আরও বলেন, ‘তুমি সবসময় মিথ্যাচার করো। এখানে বিএনপির কেউ নাই। তারা এনসিপির নেতাকর্মী।’ তখন আম্মার বলেন, ‘আপনার সচিবকে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেছেন বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে মিটিং চলছে।’

রেজিস্ট্রার বলেন, ‘গেট আউট, আমার অফিসে আমার পারমিশন নিয়ে ঢুকতে হবে। এনারা (এনসিপির নেতাকর্মীরা) ১৫ দিন আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে রাখছে।’ আম্মার বলেন, ‘আমার শিক্ষার্থীর অধিকার আগে, এটা ইমার্জেন্সি। আমাকে এখানে আসতে হবে।’ রেজিস্ট্রার বলেন, ‘অবশ্যই ইমার্জেন্সি। তোমাকে ওখানে বসতে (ওয়েট) বলেছি।’ তখন এনসিপির এক নেতা এসে আম্মারকে বলেন, ‘আমরা বিএনপি'র কেউ না। আমরা এনসিপির নেতাকর্মী।’

আরও পড়ুন: রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে সভা, ক্ষোভ শিক্ষার্থীদের

ঘটনার বিষয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগে টানা ২৩ দিন ধরে চেয়ারম্যান অপসারণের দাবিতে আন্দোলন চলছিল। গত বৃহস্পতিবার উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব ওই বিভাগের চেয়ারম্যানকে অপসারণের আদেশে স্বাক্ষর করে তা রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠান। কাগজটি রবিবার পর্যন্ত রেজিস্ট্রার দপ্তরে আটকে রাখা হয়। তিনি বিষয়টি জানতে রেজিস্ট্রার অফিসে গেলে দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, ভিতরে মহানগর বিএনপির প্রোগ্রাম চলছে, পরে আসুন।’ এরপর সালাহউদ্দিন আম্মার ভিতরে প্রবেশ করলে সেখানে শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা।

তবে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ জানান, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির বিষয়ে আইনগত সব দিক বিবেচনা করে সকাল থেকেই কাজ করছিলাম। ১২টার পর ভিসি স্যার-এর ফাইনাল অ্যাপ্রুভ হয়। এরপর অফিসিয়াল বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ যেটা নরমালি একদিন লাগেই। আমি সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করি যে আজ দেওয়া যায় কি না। বিকেলে শেষ মুহূর্তে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা দেখা করতে গেলে তখনও স্মারক নম্বর বসানোসহ কিছু কাজ বাকি ছিল। তাদের বুঝিয়ে বলায় অত্যন্ত ভদ্রতার পরিচয় দিয়ে তারা চলে যায়। আমি তাদের বলেছি রেডি হলে আজ পাবে; আর তা না হলে আগামীকাল পাবে। এর সাথে আম্মারের যাওয়া; না যাবার কোনও সম্পর্ক নেই।

তবে রেজিস্ট্রারের সাথে বিএনপির নেতাকর্মীদের নয়; বরং এনসিপির নেতাকর্মীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ চলছিল বলে জানান এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের রাজ। তিনি জানান, কাকতালীয়ভাবে, খুবই অপ্রত্যাশিত ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মাঝে পড়ে গেছি আজকে! সালাহউদ্দিন আম্মার ও রেজিস্টার স্যারের সাথে উত্তপ্ত বাগ্‌বিতণ্ডার সময় ওখানে বিএনপির কেউ ছিল না। আমার উপস্থিতিতে রাজশাহী মহানগর এনসিপির নেতৃবৃন্দ ছিল। আমরা ওখানে সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু রেজিস্ট্রার স্যারের পিএস সম্ভবত আমাদের বিএনপির নেতাকর্মী ভেবে তাদের ইনফর্ম করে। এখান থেকে ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত হয়।

ঘটনার বিষয়ে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ফেসবুকে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণের আন্দোলন চলছে প্রায় ২৩ দিন। তাদের ক্লাস পরীক্ষা সবকিছুই বন্ধ, শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে এর থেকে বড় প্রেশানি আমার কাছে আর কিছুই হতে পারে না বা হওয়া উচিতও নয়। আমি ভিসি মহোদয়কে বারবার অনুরোধ করেছি মঙ্গলবারে (৪ নভেম্বর) যেন স্যার এটার সমাধান করেন, পরে স্যার বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) তাদের বিভাগের চেয়ারম্যানকে অপসারণের কাগজে স্বাক্ষর করেন বেলা আড়ায়টার দিকে। 

তিনি আরও লেখেন, স্বাক্ষর করে স্যার রেজিস্ট্রার মহোদয় বরাবর প্রেরণ করেন এই কাগজ, এখন শুধু একটাই কাজ সেটা হলো রেজিস্ট্রার ফর্মালিটিসগুলো মেইন্টেইন করে বিভাগে ইস্যু করবেন। এটা চাইলে বৃহস্পতিবার করা যেত কিন্তু একটা জিনিস ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সবাই, সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই জানে যে বিভাগের চেয়ারম্যান রেজিস্ট্রার মহোদয়ের প্রত্যক্ষ সমর্থনে সভাপতি হয়েছিলেন। সেই কাগজটা রবিবার বেলা ২টা পর্যন্ত আটকে রাখা হলো, তার মানে ২৪তম দিনের মতো ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগে তালা মারা।

‘পরে ভিসি মহোদয়ের সচিবকে কল দিলে উনি বললেন রেজিস্ট্রারের তো এটা অনেক আগে ইস্যু করার কথা। তখন আমি রেজিস্ট্রার স্যারকে কল দিলে উনি ধরেননি।’

এরপর বাধ্য হয়ে আমি রেজিস্ট্রার দপ্তরে যাই ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ভাইবোনদের নিয়ে। দপ্তরে ঢুলে রেজিস্ট্রার দপ্তরের সম্ভাবত একান্ত সচিব জানালেন, ভিতরে মহানগর বিএনপির সাথে স্যার একটা প্রোগ্রাম করতেছেন, আপনাকে পরে আসতে বলছে!’

তিনি আরও জানান, এটা শুনে আপনাদের কার কী মনে হবে জানি না; তবে আমার সাড়ে ১১ হাজার ভোটের আমানতের কথা চিন্তা করে মাথায় রক্ত উঠে গেল। রেজিস্ট্রার দপ্তরে রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করবেন সেটার জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু সাইড হয়ে থাকবে? আমি আবার ওনাকে বললাম, স্যারকে বলেন! রাজনৈতিক প্রোগ্রাম করবে করুক কিন্তু এটা আর্জেন্ট। উনি ফিরে এসে একই কথাই বললেন, আমাকে পরে আসতে বলেছে।

আম্মার জানান, আমি তখন নিজেই ঢুকে গেলাম, স্যারকে জিজ্ঞাসা করলাম যে চিঠি আজ ইস্যু হবে কি না; তখন উনি চড়াও হওয়া শুরু করলেন যার পুরোটাই ভিডিওতে দেখবেন। আর শেষে ভিডিও কেটে গেছে সম্ভবত যিনি ভিডিও করছিলেন তার দিকে স্যার তেড়ে আসেন, উনি ভয়ে কেটে দেন ভিডিও। সেখান থেকে বেরিয়ে আসি শিক্ষার্থীদের নিয়ে। কারণ আমার কাছে সমাধান বেশি জরুরি। ব্যক্তি সালাহউদ্দিন আম্মার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছুই না। কিন্তু যে পদে আমি আছি সেটার সম্মান আজ ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমি শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং সিনেট সদস্য।

আরও পড়ুন: ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সুন্দরবনে এসে নিখোঁজ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রিয়ানা

ঘটনার বিষয়ে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসউদ বলেন, আমার দপ্তরে এলে সবাই অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়েই আসেন। তারাও (এনসিপি নেতাকর্মীরা) এক সপ্তাহ আগে থেকেই দেখা করার কথা বলে রেখেছিলেন এবং আজ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। এরই মধ্যে আরও কয়েকজন শিক্ষকও দেখা করতে এসেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রায় দশ মিনিটের মতো ছিলেন তারা। ঠিক তখনই আম্মার আসে, আমি তাকে অপেক্ষা করতে বলি। দুই মিনিটও হয়নি, সে বিনা অনুমতিতে আমার রুমে ঢুকে পড়ে। আমি তখন তাকে বলি, ‘তুমি বিনা অনুমতিতে আমার রুমে কেন ঢুকেছ?’ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির বিষয়টিতে এখন আর শিক্ষার্থীদের কিছু করার নেই, যা করার সব প্রশাসনেরই সিদ্ধান্ত।

তিনি আরও বলেন, সে ভালোভাবেই জানে সেখানে কারা ছিল। সে এখানে বিএনপিকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করছিল, যেটা তার স্বভাব। সে সবসময় মিথ্যা বলে এবং ফুটেজবাজি করে। সে সেখানে উপস্থিত সবাইকে চেনার পরেও সেখানে গিয়ে ওদেরকে দেখার পরেই বলছে উনারা বিএনপির নেতাকর্মী বৈঠক করছে। এরপর সে আমাকে উত্তেজিত করতে থাকলে এক পর্যায়ে আমি তাকে বের হয়ে যেতে বলি।

শিক্ষকদের বদলি শুরুতে বাধা আর্থিক জটিলতা, সমাধান কবে?
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬
অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ মিজানুর রহমান আজহারীর
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬
কর্মকর্তা নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্…
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের মোটরসাইকেলে আগ…
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬
আম্পায়ার সৈকত ইস্যুতে ব্যাখ্যা দিল বিসিবি
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬
বাকৃবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দলের সভাপতি ড. হ…
  • ০৪ আগস্ট ২০২৬