রাবিতে তথ্য কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পেলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘পৃষ্ঠপোষক’

০৩ মার্চ ২০২৫, ১১:৪৮ PM , আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৫, ০৩:৫৪ PM
রাশেদুল ইসলাম ও রাবি লোগো

রাশেদুল ইসলাম ও রাবি লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জনসংযোগ দপ্তরে অনুসন্ধান কাম তথ্য কর্মকর্তা পদে অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ‘পৃষ্ঠপোষক’ রাশেদুল ইসলাম। 

সোমবার (৩ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ নিয়োগ দেওয়া হয়। 

তার নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘রাশেদুলকে কোনো কোটায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।’ এদিকে এই নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে আগামীকাল (৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি রাকিব হোসেন। 

আদেশে উল্লেখ করা হয়, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ দপ্তরে টাকা ২২,০০০-৫৩০৬০/- বেতন স্কেলে মাসিক টাকা ২৩,১০০/- (তেইশ হাজার একশত) টাকা মাত্র বেতনে অনুসন্ধান কাম তথ্য অফিসার পদে অ্যাডহক ভিত্তিতে ছয় মাসের জন্য নিয়োগ করা হলো। এ নিয়োগ যোগদানের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।’

নিয়োগপ্রাপ্ত রাশেদুল ইসলাম রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগ থেকে ২০১৯ সালে স্নাতক (সম্মান) চূড়ান্ত পরীক্ষায় ২ দশমিক ৭৭৮ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। একই বিভাগ থেকে তিনি ২০২০ সালে ৩ দশমিক শূন্য ৭ পেয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তার বাসা রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে গত ২৯ জুলাই রাজশাহী নগরের কোর্ট স্টেশন এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী কয়েকজন রাশেদুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যান। পরে ৩১ জুলাই তাকে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে তিনি মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সভা–সেমিনারে তাকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের ‘পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি রাকিব হোসেন। তিনি বলেন, এটি একটি অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁদের আধিপত্য ধরে রাখার জন্য নিয়োগ দিয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো সার্কুলার দিয়েছিল কি না, আমরা জানি না। সমন্বয়কদের কোনো কোটায় চাকরি দেওয়া হচ্ছে কি না, সেটাও আমাদের বোধগম্য নয়। কাউকে পুরস্কৃত করছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখার বিষয়। চাকরির একমাত্র মানদণ্ড হোক মেধা। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

পলাশ নামের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এইসব নিয়োগ যা হলো তা একেবারে হাসিনা স্টাইলে নিয়োগ।দেশে এত বিপ্লব , এত রক্ত ও শহিদের বিনিময়ে সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো এই যদি হয় নিয়োগের ফর্মুলা তাহলে হাসিনার সাথে কী পার্থক্য থাকল? ১৬ গ্রেডের ৩য় শ্রেণির চাকুরিতেও আজকাল তীব্র প্রতিযোগিতা হয়। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় যখন যার হাতে ক্ষমতা সেই নিয়োগ দেয় ইচ্ছে মতো তথাকথিত ভার্সিটির রুলসে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা সচেতন শিক্ষার্থীদের এখনই সোচ্চার হওয়া উচিত। এই প্রশাসনের এমন অনিয়ম কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আরাফাত রহমান তার ফেসবুক লিখেছেন, রাবির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সোবহান নিয়োগ দিতেন ছাত্রলীগের ছেলেদের। বর্তমান উপাচার্য নিয়োগ দিলেন জুলাই অভ্যুত্থানে রাবি থেকে অংশগ্রহণকারী আলোচনায় থাকা সাবেক এক শিক্ষার্থীকে।

আরেক সাবেক শিক্ষার্থী সাঈদ সজল লিখেছেন, ক্যাম্পাস লাইভ ২৪ এবং রেডিও পদ্মায় রাশেদ রাজন ভাই খুব ভালো রিপোর্ট করতেন এবং উক্ত খণ্ডকালীন পদে তাকে আমি যোগ্যতার বিচারে উপযুক্ত মনে করি। আমি যখন ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা করতাম ভাইকে অনেক সাহসী রিপোর্ট করতে দেখেছি। তার ডেডিকেশনকে কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক দিয়ে গুলিয়ে ফেললে হবে না। এমনকি ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে লেখার কারণে তার রেজাল্ট কম দিয়েছে বিভাগ এবং সনদ দিতেও দীর্ঘায়িত করেছে। তারপরও সার্কুলার দিয়ে নিয়োগটা হলে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে সাহস পেত না। তার নিয়োগ নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কিছু দেখছি না।

জাহিদুল ইসলাম জয় নামে আরেক সাবেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, রাশেদ রাজন খুব ভালো লিখতো। তার অনেক সাহসী প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছেপেছে। সে আমার দেখা অনেক ডেডিকেটেড ও যোগ্যতা সম্পূর্ণ ছেলে। অনৈতিক কোনো কিছুতে জড়াতে দেখিনি।

তিনি আরো লিখেছেন, জনবল সংকট থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু রাজনকে এডহকের ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করেছে, সেটা খারাপ কিছু দেখছি না। তবে তার সার্কুলার ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে সাময়িক সময়ের জন্য যে কাউকে নিয়োগ দিতে পারেন। আমি চাই তাদের মতো যোগ্যতা সম্পূর্ণ ছেলেরা দেশের নিয়ম মেনে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের সেবার কাজে মনোনিবেশ করুক।

নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, উপাচার্যের আদেশেই রাশেদুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে অ্যাডহক ভিত্তিতে আগামী ছয় মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, মিডিয়ার ব্যাপারে তার যে চিন্তাভাবনা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে সে জায়গা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। আমি আমার বিবেচনায় তাকে নিয়োগ দিয়েছি। আমার ধারণা, তিনি তার যোগ্যতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।’

সামরিক ড্রোন কারখানা স্থাপনে চীনের সাথে চুক্তি করছে বাংলাদেশ
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, কোপে বিচ্ছিন্ন এক কর্মীর নাক
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ঢাবির ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের সুযোগ শেষ…
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যার সন্দেহভাজন আটক
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
ফের বিশ্বসেরা ১০ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ডুয়েটের সাবেক শিক্…
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু
  • ১২ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9