অবস্থান কর্মসূচী © টিডিসি ছবি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাবি আইন ও বিচার বিভাগের শিক্ষার্থীরা তিন দফা দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। আজ রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৪ টার দিকে তারা পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সভাকে কেন্দ্র শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করেন।
তাদের দাবিগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৯ তম ব্যাচ থেকে ৫১ তম ব্যাচ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সকল পরীক্ষার ফলাফল পুনর্মূল্যায়ন, আইন অনুষদ অর্থাৎ আইন ও বিচার বিভাগে স্বতন্ত্র ইউনিটে ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা, আইন অনুষদের স্থায়ী ভবন বরাদ্দ।
এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা জানান, আইন ও বিচার বিভাগের সাবেক ডিন ও চেয়ারম্যান তাপস কুমার দাস এবং সহযোগী অধ্যাপক সুপ্রভাত পাল বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে অন্যায় এবং অবিচার করে এসেছে। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে শিক্ষার্থীরদের পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে দিতো এবং তাদের পছন্দের শিক্ষার্থীদের নম্বর বাড়িয়ে দিতো। এছাড়াও তারা তাদের অ্যাকাডেমিক কক্ষ সংকটের কথাও বলেন।
এসময় আইন ও বিচার বিভাগের ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি মো. আসিফুল হাসান অমিত বলেন, দীর্ঘ প্রায় ৬ মাস যাবত আমরা আইন অনুষদের স্থায়ী ভবন ও ৪৯ ব্যাচ থেকে ৫১ ব্যাচের প্রশ্নবিদ্ধ ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের দাবিতে আন্দোলন করে আসছি। প্রশাসন বারংবার আশ্বাস দিলেও তদন্ত কমিশন গঠন ছাড়া কোন দৃশ্যমান ফল দেখতে পাইনি।
স্বৈরাচারী শিক্ষক তাপস কুমার দাস ও সুপ্রভাত পালের অন্যায়ের বিচার ও ফলাফল পুনর্মূল্যায়নের জন্য গঠিত হওয়া তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আজকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল থেকে একটা শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত আসবে।
তিনি আরো বলেন, আইন ও বিচার বিভাগের ভবনের বিষয়ে কোন সুষ্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। আইন অনুষদে মাত্র ২ টি ক্লাস রুম। ফলে সঠিক ভাবে ক্লাস কার্যক্রম পরিচালনা করা একেবারেই অসম্ভব। আমরা আইন অনুষদের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমাদের এসব ন্যায্য দাবির বিষয়ে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিয়েই ফিরব।
এছাড়াও তিনি আইন অনুষদের জন্য অর্থাৎ আইন ও বিচার বিভাগের ভর্তি পরীক্ষা স্বতন্ত্র ইউনিটে নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, যদি আমাদের স্বতন্ত্র ইউনিটে পরীক্ষা নিতে না দেয় তাহলে ঢাবির অনুরূপ জাবিতেও বি ইউনিটে কলা, আইন ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ সম্মিলিতভাবে পরীক্ষা নিতে হবে।