উপজাতি কর্তৃক শিক্ষক হত্যা ও জা‌তিগত দাঙ্গার প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ

০৪ অক্টোবর ২০২৪, ০৮:১২ PM , আপডেট: ২২ জুলাই ২০২৫, ১২:০৮ PM
ছবি

ছবি © টিডিসি

পাহা‌ড়ে উপজাতি কর্তৃক স্কুল শিক্ষকে পিটিয়ে হত‌্যা ও জা‌তিগত দাঙ্গার প্রতিবাদে বি‌ক্ষোভ সমা‌বেশ ক‌রে‌ছে স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢা‌বি) একটি সংগঠন। 

 শুক্রবার (৪অক্টোবর) বিকা‌লে ঢাবির সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা। এসময় জা‌তিগত দাঙ্গা সৃ‌ষ্টি ও দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় সাত দফা দাবি উত্থাপন করা ক‌রে তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশের উদ্দেশ্য ছিলো পাহাড়ে উপজাতি সম্প্রদায় কর্তৃক স্কুল শিক্ষক সোহেল রানাকে হত্যা করে জাতিগত দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগে  বিচ্ছিন্নতাবাদী উপজাতি সশস্ত্রগোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে ৭ দফা দাবি পেশ করা।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে মার্কিন-ভারতের মদদে পাহাড়ে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছাড়া‌নো হ‌চ্ছে দা‌বি ক‌রে সংগঠনের আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক ব‌লেন, ‘বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারত উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে। তাছাড়া সম্প্রতি ভারত থেকে প্রকাশ্যে বাংলাদেশের পাহাড়কে বিচ্ছিন্ন করার হুমকী আসছে। একই কাজ যদি ভারতের সেভেন সিস্টার্সের ক্ষেত্রে বাংলাদেশও করে তখন কিন্তু ভারতও শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না। ভারতের সেভেন সিস্টার্স বা চিকেন নেকের কণ্ঠ চেপে ধরার অনেক উপাদানই বাংলাদেশের নাগালে রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা পছন্দ করে না। একইভাবে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আমেরিকার স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশ যদি এখানে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করে মার্কিন স্বার্থের বিপরীত ব্লকে চলে যায় তাহলে কিন্তু আমেরিকা এই অঞ্চলে সুবিধা করতে পারবে না।’

তি‌নি বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা 'আদিবাসী' স্বীকৃতি আদায় করতে পারলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। নতুন আরেকটি তথাকথিত স্বাধীন 'জুম্মল্যান্ড' তৈরী হবে। এর কারণ হচ্ছে- বিশ্বব্যাপী বিতর্কিত আদিবাসী বিষয়ক জাতিসংঘ চার্টার। জাতিসংঘের উক্ত চার্টারে বর্ণিত বিতর্কিত বিষয়গুলো আদিবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও কোনো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা উপজাতিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। এই কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের উপজাতি সম্প্রদায় ২০০১ সাল থেকে হঠাৎ করে নিজেদেরকে আদিবাসী দাবী করে বসছে, স্বীকৃতি চাইছে। কিন্তু তাদের আদিবাসী দাবী চরম ভণ্ডামী, জালিয়াতী ও ইতিহাস বিকৃতি। ইতিহাস ও নৃতত্ত্ব অনুযায়ী- তাদের আদি নিবাস হচ্ছে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমার, ভারত, কম্বোডিয়া ইত্যাদি রাষ্ট্রসমূহ। তারা ওখানকারই আদিবাসী বা আদি বাসিন্দা, বাংলাদেশের নয়।’

আরও পড়ুন: ৩০ বছরে ইবির কেন্দ্রীয় মসজিদের নির্মাণকাজ হয়েছে ৫০ শতাংশ

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে তাদের মধ্যে একটা অংশ দখলদার যারা দস্যুবৃত্তি করতে করতে অবৈধভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রবেশ করে জোরপূর্বক বাঙ্গালীদের ভূমি দখল করেছে। অনেক বাঙ্গালী পরিবারকে ভূমিচ্যুতও করেছে। তাদের আরেকটা অংশ আশপাশের অঞ্চল থেকে নিপীড়নের শিকার হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। উপজাতি বা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের এই উভয় শ্রেণি-ই বাংলাদেশের আদিম কিংবা প্রকৃত অধিবাসী নয়। তাদেরকে 'আদিবাসী' বলে প্রচার করা মানে একটি ঐতিহাসিক ও নৃতাত্ত্বিক সত্যকে অস্বীকার করা; যে প্রচারণার পেছনে আমেরিকা, ভারত, খ্রিস্টান মিশনারি ও বিভিন্ন দেশি-বিদেশি এনজিওর মদদ রয়েছে। যাদের মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে তথাকথিত জুম্মল্যান্ড নামে আলাদা একটি রাষ্ট্র গঠন করা।’

সমাবেশে হিল হিউম্যান রাইটস এক্টিভিস্ট মিনহাজ ত্বকি বলেন- ‘দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় বাঙালি শিক্ষকদেরকে বের করে দেওয়ার জন্য একটা ট্রামকার্ড ব্যবহার করে সেটা হলো ধর্ষক নাটক। সোহেল রানা হত্যাও এর ব্যতিক্রম নয়। এভাবে পাহাড়ে সেনাবাহিনীকে একটা ক্রিমিনাল রোলে এটাক করে, বাঙালিদেরকে সেটেলার কার্ড ব্যবহার করে। আসলে পাহাড়ে উপজাতি ছাড়া আর কেউ থাকতে পারবে না এটাই বলতে চায়। আমি বলবো সাবধান হয়ে যাও, না হয় তোমাদের ট্রাম্পকার্ড তোমাদের গায়ে গিয়ে পড়তে পারে।’

আরও পড়ুন: সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি শিক্ষকদের

এসময় তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করে ৭ টি দাবি তুলে ধরেন, দাবিগুলো হলো:
১. বাংলাদেশের উপজাতিদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের অখণ্ডতাবিরোধী পরিভাষা ‘আদিবাসী’ ও ‘জুম্ম’ শব্দ ব্যবহার এবং বাংলাদেশের বাঙ্গালীদের সম্বোধনে ‘সেটেলার’ শব্দ ব্যবহারকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারী করতে হবে। ব্যক্তি, এনজিও, মিশনারী, গণমাধ্যম কিংবা প্রতিষ্ঠান যারাই উপরোক্ত শব্দ ব্যবহার করবে তাদেরকে কালো তালিকাভুক্ত করে এদের বিরুদ্ধে শাস্তিযোগ্য আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো বিদেশী ওসব শব্দ ব্যবহার করলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে শক্তভাবে তার প্রতিবাদ জানাতে হবে এবং রাষ্ট্রের অভন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ আখ্যা দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালা অনুয়ায়ী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া।

২. অন্তর্বর্তী সরকারের সংবিধান সংস্কার কমিটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্র ও সংবিধানবিরোধী জাতিগত বৈষম্যমূলক প্রচলিত আইন, চুক্তি ও বিধিসমূহ সংস্কার করে দেশের সকলের জন্য এক সংবিধান ও এক আইন প্রণয়ন ও জারী করতে হবে। সংবিধান সংস্কারে পার্বত্য চট্টগ্রাম সংশ্লিষ্ট আইন, চুক্তি ও বিধি সংস্কার, সংশোধন কিংবা নতুন আইন/বিধিমালা প্রণয়নে সরকারকে অবশ্যই 'স্টুডেন্টস ফর সভারেন্টি’র সুপারিশ, পরামর্শ ও প্রতিনিধিত্ব রাখা।

৩. উপজাতি সন্ত্রাসী কর্তৃক পাহাড়ের বাঙ্গালী মুসলমান নিধনের জাতিগত ধারাবাহিক কিলিং মিশনের শিকার পাহাড়ের স্কুল শিক্ষক সোহেল রানা হত্যার সাথে জড়িত ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে এবং পার্বত্য সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া,

৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারী চাকুরিতে উপজাতি কোটা বাতিল করতে হবে। পাহাড়ের বাঙ্গালীদের বাদ দিয়ে উপজাতিদের জন্য কোটা রাখা মারাত্বক রকমের বৈষম্য। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ফসল নতুন বাংলাদেশে উপজাতি কোটা সম্পূর্ণ বাতিল করা।

আরও পড়ুন: ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের চূড়ান্ত ভর্তি কাল থেকে, ক্লাস শুরু ২০ অক্টোবর 

৫. ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজিতে প্রবেশ করিয়ে বাংলাদেশকে ভারত-আমেরিকা বনাম চীন দ্বন্দ্বের প্রক্সি স্টেট বা বলির পাঠা বানিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আরো বেশি অস্থিতিশীলতা ও ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়া যাবে না। ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্রাটেজির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অবশ্যই নিরপেক্ষ ও ভারসাম্যমূলক ভূমিকা পালন করা।

৬. পার্বত্য অঞ্চলে চলমান অস্থিতিশীলতা নিরসন, সন্ত্রাস দমন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যাক সেনা ক্যাম্প বাড়ানো।

 ৭. ১৯৯৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী উপজাতি কর্তৃক সশস্ত্র কার্যক্রম বন্ধ না করায় সংবিধানবিরোধী পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি এবং ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি বাতিল করতে হবে।

সমাবেশে হিল হিউম্যান রাইটস এক্টিভিস্ট মিনহাজ ত্বকি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের উপজাতি অধ্যূষিত এলাকায় বাঙালি শিক্ষকদেরকে বের করে দেওয়ার জন্য একটা ট্রামকার্ড ব্যবহার করে সেটা হলো ধর্ষক নাটক। সোহেল রানা হত্যাও এর ব্যতিক্রম নয়। এভাবে পাহাড়ে সেনাবাহিনীকে একটা ক্রিমিনাল রোলে এটাক করে, বাঙালিদেরকে সেটেলার কার্ড ব্যবহার করে। আসলে পাহাড়ে উপজাতি ছাড়া আর কেউ থাকতে পারবে না। এটাই বলতে চায়। আমি বলবো সাবধান হয়ে যাও, না হয় তোমাদের ট্রাম্পকার্ড তোমাদের গায়ে গিয়ে পড়তে পারে।’

এছাড়াও সমাবেশে অন্যান্য বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীরা ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি আদায় করতে পারলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। নতুন আরেকটি তথাকথিত স্বাধীন ‘জুম্মল্যান্ড’ তৈরী হবে বলে জানান। 

ট্যাগ: ঢাবি
মালিকবিহীন পরিত্যক্ত ব্যাগে মিলল ৯২ রাউন্ড গুলি
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি করলে ছয় মাসের দণ্ড
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিখোঁজ শিশুর পা কেটে করানো হয় ভিক্ষাবৃত্তি, ৭ মাস পর মাহফিল…
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১৫
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফোডেনের লাল কার্ড, ১০ জনের সিটির ডার্বি জয়
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রকে অত্যাচারী সমাজে পরিণত করেছিল: স্পিকার
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
FALL 2026
Application Deadline Wednesday, 16 Sept 2026
Apply Now

Admission Test Schedule

  • Test Date: Friday, 18 Sept 2026
  • Written Exam: 10:00 – 11:00 AM
  • Oral Viva: 11:30 AM onwards

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9