রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাবির সনদ শাখা © টিডিসি ফটো
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সনদ শাখায় গেলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির যেন শেষ থাকে না। সনদ উত্তোলনে একজন শিক্ষার্থীকে নানারকম জটিলতায় পড়তে হয়। শিক্ষার্থীদের এসব হয়রানি থেকে মুক্ত করতে ২০২২ সালের শুরুর দিকে শাখাটিকে অটোমেশনের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়। কিন্তু দেড় বছর পার হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অটোমেশনের আওতায় আনতে সনদ শাখার টেন্ডার পাস হলেও এখনো পর্যন্ত মূল কাজ শুরুই হয়নি। কোনো সফটওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির পর অটোমেশনের কাজ শুরু হবে।
এর আগে ২০২২ সালে ১৮ মে দেশের একাধিক গণমাধ্যমে ‘অটোমেশনের আওতায় আসছে রাবির সনদ শাখা’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে বলা হয়েছিল, অল্প কিছুদিনের মধ্যে অটোমেশনের কাজ শুরু হবে। কিন্তু দেড় বছরের বেশি সময় পার হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিক্ষাজীবন শেষে সার্টিফিকেট তুলতে একজন শিক্ষার্থীকে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে সনদ শাখায় গিয়ে ফরম তুলতে হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে পাওয়া যায় না। ফলে নানা ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয় তাদের। একজন শিক্ষার্থীর সনদ হাতে পেতে সময় লাগে প্রায় ১৫-২০ দিন। জরুরি ভিত্তিতে আবেদন করলেও হাতে পেতে প্রায় ১২-১৫ দিন লেগে যায়।
কিন্তু অটোমেশনের আওতায় আসলে ঘরে বসে অনলাইনে টাকা জমা দিয়ে শিক্ষার্থীরা সহজেই সনদপত্র তুলতে পারবেন। ফলাফল পাওয়ার পরদিন থেকেই সনদ তুলতে আর বেগ পেতে হবে না তাদের।
বিভিন্ন জটিলতা শেষে ১৮ দিন পর অনার্সের সনদ হাতে পান অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র শফিকুল। তিনি বলেন, অনেকদিন আগেই শুনেছি এ শাখাটি অটোমেশনের আওতায় আসছে। কিন্তু কবে আসবে? এত বড় একটা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রশাসন আন্তরিক হলে দ্রুতই অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসতে পারে এ শাখাটিকে। তাহলে আর আমাদের এমন হয়রানির শিকার হতে হয় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোনোরূপ ঝামেলা ছাড়াই সনদ তুলতে পারবেন।
শিক্ষাজীবন শেষে সার্টিফিকেট তুলতে একজন শিক্ষার্থীকে ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে সনদ শাখায় গিয়ে ফরম তুলতে হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসে পাওয়া যায় না। ফলে নানা ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয় তাদের।
ঢাকার কর্মস্থল থেকে ছুটি নিয়ে সনদ তুলতে এসেছেন ২০১১-১২ সেশনের শিক্ষার্থী রবিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, সনদ উত্তোলন করতে অনেকদিন ধরে ঘুরছি। সনদ শাখায় গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঠিকমতো পাওয়া যায় না। তাদের তদারকি করার মতো যেন কেউ নেই। এ শাখাটি যদি অটোমেশনের আওতায় আসে তাহলে আমার মতো যারা সনদ তুলতে আসবে তাদের আর বেগ পেতে হবে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সনদ শাখার দায়িত্বে থাকা আলমগীর হোসেন সরকার বলেন, অটোমেশন নিয়ে প্রথম ২০১৬ সালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরে তা আর আলোর মুখ দেখেনি। এখন আবার আমরা কাজ শুরু করেছি। অটোমেশনের আওতায় নিয়ে আসা একটা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। এ বিষয়ে আমাদের কমিটি রয়েছে। দ্রুত অটোমেশনের আওতায় আনার জন্য আমাদের কমিটি নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বাইরের কোনো সফটওয়্যার কোম্পানি পেলেই আমরা কাজ শুরু করবো।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা বলেন, অটোমেশনের জন্য একটি টেন্ডার পাস হয়েছে। এখন কোম্পানি সিলেকশন হলে এটি কার্যকর হবে।