রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

৫ দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও কাজ শেষ নিয়ে শঙ্কা

২১ মার্চ ২০২৩, ০২:৫৯ PM , আপডেট: ২১ আগস্ট ২০২৫, ১১:২৫ AM
৫ দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও কাজ শেষ নিয়ে শঙ্কা রাবিতে

৫ দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়লেও কাজ শেষ নিয়ে শঙ্কা রাবিতে © টিডিসি ফটো

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নির্মিত হচ্ছে দুটি আবাসিক হলসহ ২০ তলাবিশিষ্ট একটি একাডেমিক ভবন।  প্রকল্পের এক দফা মেয়াদ বাড়ানোর পরও ভবনগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি। দ্বিতীয় দফায়ও কাজ শেষ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে খোদ প্রকল্প পরিচালক।

ধুলাবালিতে নাজেহাল শিক্ষার্থীসহ আশেপাশের রেঁস্তোরা ও মুদি দোকানিরা। কবে এই নির্মাণ কাজ শেষ হবে প্রশ্ন তুলে ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসনের সুষ্ঠু তদারকির অভাব, অদক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও জনবল দিয়ে কাজ করানোর ফলে কাজে ধীরগতি চলছে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল দপ্তরের ব্যর্থতায় প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো কাজ শেষ হয়নি। কিন্তু এই অনিয়মের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তর কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রকল্পের জন্য পাস হয় ৩৬৩ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের আওতায় শেখ হাসিনা হল, এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান হল, ১০ তলা ভবনবিশিষ্ট শিক্ষক কোয়ার্টার, ২০ তলা একাডেমিক ভবন, ড্রেন নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা হয়।

পরবর্তীতে এক দফা মেয়াদ বাড়িয়ে ২০১৯ সালে বাজেট সংশোধিত হয়ে ৫১১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১০ তলাবিশিষ্ট শহীদ এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান আবাসিক হল ও ২০ তলাবিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মজিদ সন্স’। ১০ তলাবিশিষ্ট শেখ হাসিনা হল নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্যা বিল্ডার্স’। এই কাজের মেয়াদ শেষ হবে ২০২৩ সালে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২০ তলাবিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এখন পর্যন্ত নিচ তলার ফ্লোর ঢালাইয়ের কাজও সম্পন্ন হয়নি। শেখ হাসিনা হল নির্মাণের কাজও চলছে ধীরগতিতে। দৃশ্যমান হয়েছে মাত্র ১ তলা ভবন। অন্যদিকে এ.এইচ.এম. কামারুজ্জামান হল নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ১০ তলাবিশিষ্ট এ ভবনটির নির্মাণ কাজের ৬ তলা দৃশ্যমান হয়েছে।

এদিকে এই ভবনগুলোর নির্মাণ সামগ্রী নিয়ে ক্যাম্পাসের শহীদ শামসুজ্জোহা, সোহরাওয়ার্দী, মাদারবখ্শ, জিয়াউর ও হবিবুর রহমান হলের সামনের রাস্তায় দিনরাত চলছে মালবাহী গাড়ি। এতে ধুলাবালির কারণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে শিক্ষার্থীরা।

শেখ হাসিনা হলের নির্মাণ কাজের দেখভাল করছেন প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে এই ভবন। ইতোমধ্যে নির্মাণ কাজের প্রায় ৩৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগস্টের মধ্যে টোটাল স্ট্রাকচার সম্পূর্ণ হয়ে যাবে। এপ্রিল থেকে গাঁথুনি শুরু হবে।

২০ তলাবিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের সাইড ইঞ্জিনিয়ার ইমরুল হাসান বলেন, এতো বিশাল একটা বিল্ডিংয়ের আসল কাজ ছিল ফাউন্ডেশন করা। সেই মূল কাজটাই শেষ হয়ে গেছে। কাজ থেমে নেই। বাকি ওপরের কাজ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। তবে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি।

c37de27c-beb9-4bd0-800f-3d96b08c448e

কামারুজ্জামান হল নির্মাণের প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, আমাদের প্রজেক্টের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৬২ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে মোট ব্যয় অনুযায়ী আমাদের নির্মাণ কাজের প্রায় ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। সাত তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কাজ শেষ হয়ে যাবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প পরিচালক খন্দকার শাহরিয়ার বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় শহীদ কামারুজ্জামান হল নির্মাণ কাজের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ হয়েছে। আগামী এপ্রিল মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি। অন্যদিকে ২০ তলা অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের নিচ তলার ঢালাইয়ের কাজ চলছে।

তার দাবি, এই প্রকল্পের কাজ হয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। আগামী ৭-৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে। ১০ তলাবিশিষ্ট শেখ হাসিনা হল নির্মাণ কাজের প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দৃশ্যমান হয়েছে দু’তলা ভবন।

তিনি আরও বলেন, গত বছরের ২২ জুন প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। এক দফা বাড়ানো মেয়াদ শেষ হবে এই বছরের ২৩ ডিসেম্বরে। প্রকল্পের মেয়াদ এক দফা শেষ হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি কারণ ২০ তলাবিশিষ্ট অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের পাইলিংয়ের কাজ ছিল জটিল। পাইলিং করতেই লেগেছে দেড় বছর। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি না হলে ও সব কিছু ঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

এই কাজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের পক্ষে দায়িত্বরত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম বলেন, বর্তমানে যে কাজ হয়েছে তার থেকে বেশি অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কিছু কারণে কাজের বিলম্ব হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিমেল মারা যাওয়ার পরে প্রায় দুই মাস কাজ বন্ধ ছিল। তাছাড়া নির্মাণাধীন ভবনে একজন শ্রমিকের মৃত্যু ও ভারী গাড়ি চলাচলে সমস্যা হওয়ায় কাজ চালিয়ে যেতে বাধা সৃষ্টি হয়েছে।

ট্যাগ: রাবি
জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকলেন রাষ্ট্রপতি 
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত ১৬৪, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
'র' প্রধানের ঢাকা সফর নিয়ে স্পেকুলেশনের কিছু নেই: প্রধানমন্…
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে কুশিয়ারা নদীর পানি, অব্য…
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
মিরসরাইয়ে প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি, বৃদ্ধকে কুপিয়ে জখম
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
বড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে, পদ ১৯৭, আবেদন …
  • ১১ আগস্ট ২০২৬