ইউজিসি ভবনে হিট প্রকল্পের অংশীজনদের নিয়ে কর্মশালায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। © সৌজন্যে প্রাপ্ত
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, হিট প্রকল্পের আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এক লক্ষ শিক্ষার্থীকে সফট স্কিলস, নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ চর্চা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এ জন্য সংশোধিত ডিপিপিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখার নির্দেশনা দেন তিনি। প্রথম ধাপে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে এবং পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদেরও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) ইউজিসি ভবনে হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের ডিপিপি সংশোধন বিষয়ে অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, শিক্ষার্থীদের সফট স্কিলস, নৈতিকতা ও মূল্যবোধভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে আমূল পরিবর্তন আসবে। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে এই সম্পর্কের অবনতির বিষয়টি বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতি উত্তরণে একাডেমিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আরও সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ফ্যাকাল্টি এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালু করা গেলে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবে। তিনি সংশোধিত ডিপিপিতে এ ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় ক্রয়কৃত গবেষণা যন্ত্রপাতির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে এবং এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রিসোর্স শেয়ারিং ব্যবস্থা গড়ে তোলারও আহ্বান জানান।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেছেন, উপপ্রকল্প বাস্তবায়নের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ প্রকল্প ও সরকারি বিধি-বিধান অনুসারে যথাযথভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি-না, তা নিয়মিত মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে প্রকল্পের ডিপিপিতে প্রয়োজনীয় বিধান সংযোজনেরও পরামর্শ দেন তিনি।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, হিট প্রকল্পের গবেষণা উপপ্রকল্প নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মধ্যে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হলে উপপ্রকল্পের মূল্যায়ন থেকে বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থ ছাড়ের আগে ও পরে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর যথাযথ তদারকি জরুরি, যাতে বরাদ্দকৃত অর্থ নির্ধারিত উদ্দেশ্যেই ব্যয় হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রেও নজরদারি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার তাগিদও দেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।
ডিপিপি সংশোধনের ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষায় সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়ে প্রফেসর ড. মামুন আহমেদ বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের রূপান্তর, মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরি এবং দেশি-বিদেশি শিক্ষকদের মধ্যে কার্যকর নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে।
তিনি আরও জানান, সংশোধিত ডিপিপিতে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক ডেস্ক চালু, দেশি-বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে শিক্ষার্থী-শিক্ষক বিনিময় কার্যক্রম সম্প্রসারণ, ভার্চুয়াল পাঠদান প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা, সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার সেন্টার এবং অ্যালামনাই অফিস প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, কমিশনের সচিব ড. মো. ফখরুল ইসলাম, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) ড. সরদার মো. কেরামত আলী, হিট প্রকল্পের পরিচালক প্রফেসর ড. আসাদুজ্জামানসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ইউজিসি, হিট প্রকল্প, বিডিরেনসহ বিশ্বব্যাংক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।