এগ্রোটেকনোলজির মাধ্যমে কৃষির পুরো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে: ইউজিসি সদস্য মামুন

১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪৬ PM , আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৫৩ PM
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে ইউজিসির কর্মকর্তারা

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে ইউজিসির কর্মকর্তারা © সংগৃহীত

এগ্রোটেকনোলজির মাধ্যমে কৃষির পুরো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে  বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল-মামুন।

শনিবার (১৫ আগস্ট) ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া পারস্পরিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মামুন বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ও অগ্রাধিকার খাত। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে প্রচলিত কৃষিপদ্ধতির পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে তরুণ প্রজন্ম।

তিনি বলেন, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বাড়াতে আধুনিকায়নের বিকল্প নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, ড্রোন ও রিমোট সেন্সিংয়ের মতো প্রযুক্তি কৃষির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। এসব প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিক্ষার্থীদের সময়োপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরিতে সরকার কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষিকে শুধু প্রচলিত পদ্ধতিতে দেখলে চলবে না। এগ্রোটেকনোলজির মাধ্যমে কৃষির পুরো ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজাতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তরুণদের কৃষির সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করা গেলে কৃষিতে নতুন বিপ্লব সম্ভব জানিয়ে এই সদস্য বলেন, পাঠ্যক্রম, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের চাহিদার সঙ্গে পরিচিত করতে হবে।

কৃষিভিত্তিক পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বড় সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক মামুন বলেন, সম্ভাবনার তুলনায় এ খাতের প্রবৃদ্ধি এখনো আশানুরূপ নয়। প্রযুক্তির ব্যবহার, গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো গেলে উৎপাদনশীলতার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের রপ্তানিও বাড়ানো সম্ভব।

তরুণ উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্টার্টআপ খাতে ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল খাতে ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব অর্থায়নের একটি অংশ কৃষিভিত্তিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী উদ্যোগে কাজে লাগানো গেলে তরুণদের কৃষিতে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এসিআই মোটরস, আমান ফিড, বায়ার ক্রপ সায়েন্স ও লাল তীরসহ পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা বৃদ্ধি, কৃষি গবেষণা ও প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল করিম, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদ এবং খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহমেদ কামাল উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগ: ইউজিসি
‘এমবিবিএস’ পরিচয়ে চিকিৎসা, ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরি…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
শেখ মুজিবকে শ্রদ্ধা জানিয়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত নেতাকে ‎‘জোর করে…
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
এনইউবি ফার্মা ডিবেট ক্লাবের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত 
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
জামায়াত-শিবির বাড়াবাড়ি করলে আজীবন গুপ্ত থাকার ব্যবস্থা করা …
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
যোগ্যতা ছাড়াই অবৈধ নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বেতন ফেরত…
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
ডিআইইউতে ছাত্রলীগ নেতা আটক, পুলিশে দিলেন শিক্ষার্থীরা
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬