ঘরে গাছ রাখলেই কি বাতাস বিশুদ্ধ হয়, জানালেন বিশেষজ্ঞরা

২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২২ PM
ঘরের বাতাস পরিস্কার করে মনে করে অনেকেই বাসায় ইনডোর প্লান্ট রাখেন

ঘরের বাতাস পরিস্কার করে মনে করে অনেকেই বাসায় ইনডোর প্লান্ট রাখেন © সংগৃহীত

ঘরের বাতাস সতেজ ও বিশুদ্ধ রাখতে অনেকেই বাড়ি কিংবা অফিসে নানা ধরনের গাছ ইনডোর প্ল্যান্ট রাখেন। অধিকাংশই মনে করেন, গাছ ঘরের কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন ছাড়ে এবং প্রাকৃতিক বায়ু পরিশোধক হিসেবে কাজ করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরের বাতাসের মান উন্নত করতে শুধু গাছের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ঘরে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা।

যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক জন ট্রেগনিংয়ের মতে, সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে এবং অক্সিজেন ছাড়ে। পর্যাপ্তসংখ্যক গাছ থাকলে সেগুলো পরিবেশে অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়াতে পারে। তবে একটি মানুষের প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহের জন্য ঘরে কয়েকশ গাছ রাখার প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি বলেন, একটি সাধারণ গাছ দিনে মাত্র কয়েক লিটার অক্সিজেন উৎপন্ন করে। অন্যদিকে একজন মানুষ প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার অক্সিজেন গ্রহণ করেন। ফলে একজন মানুষের প্রয়োজন মেটানোর মতো অক্সিজেন উৎপাদন করতে কয়েকশ গাছের প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ঠিকভাবে চলার জন্য গাছের পর্যাপ্ত আলোও দরকার।

ট্রেগনিংয়ের মতে, ঘরের অক্সিজেনের মাত্রা অনির্দিষ্টভাবে বাড়ানোর চেষ্টাও ঠিক নয়। কারণ, অতিরিক্ত মাত্রায় অক্সিজেন বিষক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

ঘরের বাতাস ভালো রাখতে যা জরুরি

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘরের বাতাসের মান মানুষের শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ঘরে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্লান্তি বা ঝিমঝিম ভাব দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল না থাকলে একই ঘরে থাকা মানুষের মধ্যে সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

এ কারণে ঘরের বাতাস সতেজ রাখতে নিয়মিত জানালা খোলা এবং বাইরের বাতাস চলাচলের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। গাছ ঘরের পরিবেশকে সুন্দর ও মনোরম করে তুললেও সেগুলো পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের বিকল্প নয়।

গাছের সান্নিধ্যে থাকতে পারে স্বাস্থ্যের উপকার

ঘরের বাতাস পরিশোধনে গাছের ভূমিকা সীমিত হলেও মানুষের সুস্থতায় প্রকৃতির ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে বলে মনে করেন ট্রেগনিং। তিনি ১৯৮০-এর দশকে প্রকাশিত একটি গবেষণার কথা উল্লেখ করেন। ওই গবেষণায় অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের ওপর পরিবেশের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডের জানালা দিয়ে গাছ দেখা যেত, অন্য ওয়ার্ডের জানালার সামনে ছিল ইটের দেয়াল।

গবেষণায় দেখা যায়, গাছ দেখা যেত এমন ওয়ার্ডের রোগীরা অন্য ওয়ার্ডের রোগীদের তুলনায় কম ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করেছেন এবং তুলনামূলক দ্রুত সুস্থ হয়েছেন।

অর্থাৎ, ঘরে গাছ রাখা পরিবেশকে মনোরম করার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ঘরের বাতাসের মান উন্নত করতে গাছের পাশাপাশি পর্যাপ্ত আলো-বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি। 

একযোগে ৮৫ সাব-রেজিস্ট্রার বদলি, কে কোন জেলায়
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ডি-থ্রি টুর্নামেন্টের নিলাম শেষে কেমন হলো ৬ দলের স্কোয়াড
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
সংকটে জাতিকে পথ দেখাবে গণঅধিকার পরিষদ: নুরুল হক নুর
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
মেহেরপুর জেলা পরিষদ কার্যালয় নিয়োগ দেবে বিভিন্ন পদে, আবেদন …
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
ধানমন্ডিতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান, সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আটক 
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাবিপ্রবি উপাচার্যের সৌজন্য সাক্ষাৎ
  • ২৬ অক্টোবর ২০২৬