জিপিএ-৫
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান © টিডিসি সম্পাদিত
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা সারাদেশে শুরু হচ্ছে। জীবনের অতিগুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষার দ্বারপ্রান্তে লাখো খুদে শিক্ষার্থী। কাঙ্ক্ষিত ও আশানুরূপ ফলাফল অর্জনের জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তারা। অপরদিকে জিপিএ-৫ অর্জনের জন্য অভিভাবকরা মুখিয়ে থাকেন।
কিন্তু এই প্রতিযোগিতা ‘অশুভ’ উল্লেখ করে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেছেন, এই মানসিকতা থেকে প্রত্যেক অভিভাবককে বেরিয়ে আসতে হবে। সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, আমি নিজেও কিন্তু একজন অভিভাবক। আমার মেয়ে আগামীতে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবে। আমি একজন অভিভাবক হিসেবে আমি প্রথম কথা বলতে চাই যে, আমাদের দেশের অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের আনহেলথি কম্পিটিশন আছে।
সেটা হলো যে, ছেলেমেয়েদের যেকোনো মূল্যে অনেক ভালো ফলাফল তারা প্রত্যাশা করেন। ভালো ফলাফলের চেয়ে ভালো পড়াশোনা জানা—এটার ব্যাপারে তাদের আগ্রহ আমাদের কম।
আরও পড়ুন: সন্ধ্যার পর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগী করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন কর্মসূচি
‘‘এই যে সমাজে একটা অশুভ প্রতিযোগিতা। কার ছেলে এপ্লাস পেল, গোল্ডেন এপ্লাস পেল—এ মানসিকতা থেকে প্রত্যেক অভিভাবকের বের হয়ে আসতে হবে। এটি প্রাপ্তির জন্য আমার সন্তানের অন্যায় সুবিধা নিশ্চিত করে দিচ্ছি। তাই এই মানসিকতা থেকে প্রত্যেক অভিভাবকের বের হয়ে আসা দরকার।’’
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার্থীদের এই ধারণার মধ্যে থেকে বের হয়ে আসা দরকার। আমি অনেক শিক্ষার্থীকে দেখেছি যে, সাধারণ ফলাফল করে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তারা ভর্তি হয়ে সেখানে ভালো ফলাফল করছেন। আবার অনেকে আউটস্ট্যান্ডিং রেজাল্ট কোথাও ভর্তি হতে পারছেন না।
‘তো আমরা মনে করি যে, প্রত্যেক অভিভাবক এবং তাদের এই ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া উচিত যে তার ছেলের ফাউন্ডেশনটা যেন ভালো হয়। এই ব্যাপারে ভালো ফলাফলের চেয়ে ফাউন্ডেশন। ফলাফলের অবশ্যই গুরুত্ব আছে। কিন্তু এর চেয়েও যেন মানে শিক্ষার যে ফাউন্ডেশন যেন তার ভালো হয়। এ ব্যাপারে তারা যত্নবান হবেন।’