পরীক্ষায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি: দুশ্চিন্তা নয়, চাই আত্মবিশ্বাস

১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৪ AM
​ খোন্দকার কাওসার আহমেদ

​ খোন্দকার কাওসার আহমেদ © টিডিসি সম্পাদিত

কথায় বলে—‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’। তাই আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি হওয়া উচিত খুব ধীরস্থির ও শান্ত মেজাজে। ভয় ও টেনশন তো দূরের কথা, কোনো বিষয়েই বিন্দুমাত্র অস্থির হওয়া যাবে না। এ লক্ষ্যে পরীক্ষার্থীদের জন্য আমার কিছু পরামর্শ-

​১. এখন নতুন কোনো বিষয় নিয়ে পড়াশোনা শুরুর মানে হয় না। যা পড়া হয়েছে, সেগুলোই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে হবে এবং বারবার লিখতে হবে। মনে রাখা প্রয়োজন পরীক্ষায় খাতায় লিখতে হয়, মুখে বলতে হয় না। বিগত বিভিন্ন সালের বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্ন সামনে রেখে ‘পরীক্ষার রিহার্সাল’ দেওয়াটা হতে পারে তোমাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতির দুর্দান্ত অংশ।

​২. কোনো একটি বিষয়ের পাঠ শেষ করার পর যখন অন্য বিষয় অনুশীলন করতে যাবে, তখন মাঝখানে অবশ্যই কিছুটা বিরতি রাখবে। এতে মগজ ক্লান্ত হবে না। বিষয়টি একটি কচুরিপানায় ভরা পুকুরের মতো। ওপর থেকে পানি দেখা না গেলেও একটি ঢিল ছুড়লে যেমন সাময়িক ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়, পড়াশোনার মাঝে বিরতিও তেমনি মগজে নতুন তথ্য ধারণের জায়গা করে দেয়। একনাগাড়ে পড়লে মগজ নিঃশক্তি হয়ে পড়ে এবং জানা বিষয়ও অনেকে মনে করতে পারে না। তাই নতুন কিছু পড়ার চাপ না নিয়ে আগের পড়া রিভিশন করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

​৩. জিপিএ-৫ পেতে হলে কোনো বিষয়কেই অবহেলা করা যাবে না; সব বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে অনুশীলন করতে হবে। প্রশ্নে যা চাওয়া হয়েছে, উত্তর ঠিক ততটুকুই হওয়া চাই; অযথা পাতা ভরিয়ে সময় নষ্ট করা যাবে না। লেখার সময় ভুল হলে ঘষামাজা না করে একটানে কেটে দিতে হবে। হাতের লেখা যেমনই হোক, খাতার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে পারলে তা পরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেই। সময়ের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে এবং কোনো উত্তর ছেড়ে আসা যাবে না। কমন না পড়লে পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে প্রাসঙ্গিক কিছু লিখে আসতে হবে।

​৪. রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর, খাতার মার্জিন, প্রশ্নের নম্বর ও বৃত্ত ভরাটের মতো সাধারণ বিষয়গুলোতে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। প্রশ্ন ভালোভাবে বুঝে লেখা শুরু করতে হবে। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও এমসিকিউ-তে অতিরিক্ত সময় নষ্ট করা চলবে না। লেখার সময় অবশ্যই বানানের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

​৫. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ঘড়ি ধরে প্রতিটি প্রশ্নের মান অনুযায়ী সময় ভাগ করে নিতে হবে। পরীক্ষা শেষের ঘণ্টা পড়ার অন্তত পাঁচ মিনিট আগে লেখা শেষ করার চেষ্টা করবে, যেন উত্তরপত্রটি একবার ভালোভাবে মিলিয়ে দেখার সুযোগ পাও।

​৬. সৃজনশীল প্রশ্নের ‘ক’ ও ‘খ’ অংশের উত্তর সাধারণত সুনির্দিষ্ট হয়, তাই এখানে অহেতুক তথ্য দিয়ে সময় নষ্ট করবে না। ‘গ’ ও ‘ঘ’ অংশের উত্তর প্রস্তুত করতে হয় উদ্দীপকের সঙ্গে পাঠ্যবইয়ের উপযুক্ত সমন্বয়ে। এই উত্তরগুলো ঢালাওভাবে না লিখে অনুচ্ছেদ বা প্যারা করে লেখা উত্তম।

​৭. মনে রাখবে—‘ভয়’ একটি ভয়াবহ দুর্বলতা। ভয় মানুষকে শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে। পরীক্ষাভীতি দূর করতে শারীরিক ও মানসিকভাবে ফিট থাকা জরুরি। এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত ঘুম, পুষ্টিকর খাবার, হালকা শরীরচর্চা ও নিয়মিত প্রার্থনা করা প্রয়োজন। মনকে কখনো দুর্বল হতে দেবে না, কারণ দুর্বল মনেই নেতিবাচক চিন্তা বাসা বাঁধে।

আরও পড়ুন: ৭ নভেম্বরসহ নতুন দুটি দিবস পালনের সিদ্ধান্ত সরকারের, থাকছে ছুটি

​৮. সবশেষে পাঁচটি কথা মনে রাখবে:
*বিশৃঙ্খল জীবনযাপন কখনো সুফল বয়ে আনে না। তাই নিয়ম ও শৃঙ্খলাকে অভ্যাসে পরিণত করো।

*সুস্থ থাকার মতো সুখ আর নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলো, কারণ রুগ্ণ শরীর নিয়ে ভালো ফলাফল সম্ভব নয়।

*যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্ত ও ধৈর্যশীল থাকার অভ্যাস করো। মুহূর্তের অস্থিরতা তোমার সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিতে পারে।

*সময়ের কাজ সময়ে করো। সময়ের সঠিক ব্যবহারই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।

*নিয়মিত প্রার্থনা করো; এটি তোমাকে ভেতর থেকে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।

​পরিশেষে তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি তোমরা জয়ী হও, মহৎ হও এবং নিজ নিজ কর্মে হও অমর।

লেখক: সহকারী শিক্ষক, পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, পাবনা।

শিশুদের ‘পিআইসিইউ’ চালুসহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয়ের পরিক…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
নয়াপল্টনের কর্মী থেকে মহাসচিবের চেয়ার— রিজভীর উত্থানের গল্প
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
চুয়েট শিক্ষার্থীদের তৈরি রেসিং কার ও মঙ্গলযান প্রদর্শন করলে…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
অতিরিক্ত আইজিপি হলেন পাঁচ কর্মকর্তা
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ইবিতে বৃক্ষ…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬
ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি বাস্তবায়নে ন্যাশনাল পুল অব ডিজাইনার্স গঠ…
  • ২৩ আগস্ট ২০২৬