এআই এজেন্টের দ্রুত বিস্তার সাইবার নিরাপত্তায় নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে

২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩১ PM , আপডেট: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি সম্পাদিত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এজেন্টের দ্রুত বিস্তার, বেপরোয়া আচরণ সাইবার নিরাপত্তায় নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এসব এআই এজেন্ট মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া ও কাজ সম্পাদনে সক্ষম হওয়ায় সাইবার বীমার প্রচলিত নীতিমালা নিয়েও নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে বীমা কোম্পানিগুলো বিদ্যমান পলিসির ভাষা পর্যালোচনা ও পরিবর্তন করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক ও মেটা প্ল্যাটফর্মসের মতো শীর্ষ এআই নির্মাতারা সম্প্রতি এমন ঘটনার কথা জানিয়েছে, যেখানে তাদের এআই এজেন্টগুলো পরীক্ষামূলক পরিবেশের বাইরে গিয়ে অপ্রত্যাশিত আচরণ করেছে। এমনকি মানুষের সরাসরি নির্দেশনা ছাড়াই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা চালানোর ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়া গেলেও, এআই-নির্ভর সাইবার ঝুঁকির দ্রুত পরিবর্তনশীল চিত্র স্পষ্ট হয়েছে।

প্রাথমিক নির্দেশনা পাওয়ার পর স্বায়ত্তশাসিত এআই সিস্টেম নিজে থেকেই সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এ কারণে এমএসআইজি, কিউবিই ও বেজলির মতো বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রচলিত সাইবার বিমার পলিসি পর্যালোচনা করছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাহী ও বিশ্লেষকদের মতে, স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই সিস্টেমের কারণে তৈরি নতুন ঝুঁকি কীভাবে পলিসিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, তা নিয়ে কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের অন্যতম উদ্বেগ হলো স্বয়ংক্রিয় এআই সিস্টেমকে প্রচলিত পলিসির অধীনে সাইবার হামলাকারী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে কি না। পাশাপাশি এআইয়ের কর্মকাণ্ডে কোনো ক্ষতি হলে তার দায় কার ওপর বর্তাবে, সেটিও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিউনিখ রি-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনের হিসাবে, গত বছর বৈশ্বিক সাইবার বীমা বাজারের আকার ছিল প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালের মধ্যে এ বাজার প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে বীমা ব্রোকার এওন চলতি বছরের শুরুতে পূর্বাভাস দিয়েছিল, ২০২৭ সালের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ সাইবার হামলায় জেনারেটিভ এআই জড়িত থাকতে পারে।

এমএসআইজি ইউএসএ-এর উত্তর আমেরিকার সাইবার বিভাগের প্রধান রায়ান ক্রাটজ বলেন, ‘এআই দুর্বলতা শনাক্ত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে আক্রমণ চালাতে সক্ষম হয়ে ওঠায় বীমা কোম্পানিগুলোকে তাদের পলিসির ভাষা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।’

এআইয়ের কারণে ক্ষতির দায় কার
আর্মিলা এআই-এর প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা কার্তিক রামকৃষ্ণনের মতে, এআই এজেন্টের কারণে সৃষ্ট কিছু ক্ষতি অবশ্যই সাইবার বিমার আওতায় পড়বে। তবে সমস্যা তৈরি হয় এমন পরিস্থিতিতে, যেখানে কোনো প্রচলিত হামলাকারী নেই এবং অননুমোদিত পরিচয়পত্র বা ক্রেডেনশিয়ালও ব্যবহার করা হয়নি।

প্রচলিত সাইবার বিমার আওতায় সাধারণত র‍্যানসমওয়্যার পেমেন্ট, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, সিস্টেম পুনরুদ্ধার, ফরেনসিক তদন্ত ও আইনি খরচের মতো ক্ষতি থাকে। এর মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার দাবিই সাধারণত সবচেয়ে বড় অংশ।

বেশিরভাগ পলিসিতে ক্ষতিপূরণের জন্য একটি নির্দিষ্ট নিরাপত্তা ঘটনার উল্লেখ থাকে যেমন কোনো কর্মীর অননুমোদিত প্রবেশের মাধ্যমে তথ্য চুরি বা সার্ভারে হামলার কারণে সিস্টেম অচল হয়ে যাওয়া। কিন্তু এআই এজেন্ট এমন পরিস্থিতিতেও ক্ষতি করতে পারে, যেখানে কোনো প্রচলিত নিরাপত্তা লঙ্ঘন ঘটেনি।

ধরা যাক, একটি প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত ও সমাধানের জন্য তার নেটওয়ার্কে একটি এআই এজেন্টকে প্রবেশাধিকার দিল। পরে সেই এজেন্ট নিজে থেকেই কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সিস্টেমে প্রবেশ করে সংবেদনশীল তথ্য ফাঁস করে দিল। এ ক্ষেত্রে শুরুতে কোনো প্রচলিত হ্যাকার বা অননুমোদিত প্রবেশ না থাকলেও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

র‍্যান্ডের জ্যেষ্ঠ নীতি গবেষক সাশা রোমানোস্কি বলেন, এআই এজেন্টের সম্ভাব্য সক্ষমতা, তারা কীভাবে কাজ করে এবং এগুলো নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন এসব বিষয় এখনও বোঝার পর্যায়ে রয়েছে।

এআই ঝুঁকিকে পলিসির আওতায় রাখার চেষ্টা
বর্তমানে অধিকাংশ বীমাকারী নতুন করে এআই-সংক্রান্ত ঝুঁকি বাদ দেওয়ার ধারা যুক্ত করার বদলে, বিদ্যমান পলিসির ভাষা এআই-সম্পর্কিত ঘটনায় কীভাবে প্রযোজ্য হবে, তা স্পষ্ট করার দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বীমা ব্রোকার মার্শের গ্লোবাল সাইবার প্রোডাক্ট লিডার গ্রেগ এসকিন্স বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলা করতে পারে এমন পণ্য বাজারে রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে আন্ডাররাইটাররা বুঝতে পারছেন।’

আরও দেখুন: ব্র্যাকে চাকরি, বেতন ছাড়াও থাকছে নানা সুবিধা

কিউবিই এআই-সম্পর্কিত নির্দিষ্ট উদীয়মান ঝুঁকির ক্ষেত্রে সুরক্ষা জোরদার করছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল হেড অব সাইবার সেরিন ডেভিস বলেন, কোনো এআই-সম্পর্কিত ঘটনা যদি প্রচলিত সাইবার ঘটনার সৃষ্টি করে, তাহলে সেই ঘটনার ফলে হওয়া ক্ষতি সাইবার পলিসির আওতায় থাকবে। তার মতে, এআইকে নতুন কোনো মৌলিক সাইবার ঝুঁকি হিসেবে নয়, বরং বিদ্যমান ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে এমন একটি উপাদান হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ব্রিটিশ বীমা প্রতিষ্ঠান বেজলির এক মুখপাত্রও বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানগুলো চায় বিস্তৃত সাইবার বিমার আওতায় এআই ঝুঁকি অন্তর্ভুক্ত থাকুক। নতুন এআই ঝুঁকি দেখা দিলে সে অনুযায়ী নতুন সুরক্ষাও তৈরি করা হচ্ছে।’

তবে শিল্পের কিছু অংশে নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকি বাদ দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে। ভেরিস্ক আন্ডাররাইটিং সলিউশন্সের স্পেশালিটি কমার্শিয়াল লাইনসের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনি সোব্রার মতে, সম্ভাব্য সিস্টেমিক ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে একটি এআই মডেল বা প্ল্যাটফর্ম একই সময়ে বহু প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির কারণ হতে পারে।

এ ছাড়া এআই এজেন্ট তার নির্ধারিত কাজ করতে গিয়ে কোনো ব্যয়বহুল স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত নিলে তার দায় কে নেবে, সেটিও বড় প্রশ্ন। কিছু বীমাকারী এমন ঘটনাকে সাইবার ঘটনার পরিবর্তে অন্য ধরনের ঘটনা হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করতে পারেন।

সৌবরা বলেন, ‘এআই-সম্পর্কিত বীমার বাজার এখনও বিকশিত হচ্ছে। তবে এআইয়ের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠান ও বীমাকারীরা এআই-সম্পর্কিত ঝুঁকি মোকাবিলার উপায় খুঁজে যেতে থাকবে।’ তথ্যসূত্র: রয়টার্স।

হিমালয়ের হিমবাহে দ্রুত ক্ষয়, বাড়ছে বন্যা-ভূমিধসের ঝুঁকি
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
ঢাকা সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে হলের ছাদ ধস, আতঙ্কে শিক্ষ…
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
নওগাঁয় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল স্কুলছাত্রের
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
গাকৃবিকে বৈশ্বিক উচ্চশিক্ষার গ্লোবাল হাব করতে চাই- উপাচার্য
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
চিকিৎসক নন—তবু অস্ত্রোপচার করেন, প্রেসক্রাইব করেন নিষিদ্ধ ও…
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
গোপালগঞ্জে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬