ছবি তোলার সময় ক্যামেরাম্যান বলে ওঠেন স্মাইল প্লিজ, হেসে ওঠেন সবাই © এআই সৃষ্ট ছবি
আজ ক্যামেরা সামনে এলেই অনেকের মুখে স্বাভাবিকভাবেই হাসি চলে আসে। পারিবারিক অনুষ্ঠান, বন্ধুদের আড্ডা কিংবা সেলফি তোলার আগে ‘স্মাইল প্লিজ’ বলা যেন অলিখিত নিয়ম। কিন্তু দেড়শো বছর আগের ছবিগুলো দেখলে চিত্রটা একেবারেই আলাদা। সেখানে মানুষকে প্রায় সব সময়ই দেখা যায় গম্ভীর মুখে, ঠোঁট শক্ত করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকতে।
তাহলে কি আগের মানুষরা হাসিখুশি ছিলেন না? আসলে বিষয়টি মানুষের স্বভাবের চেয়ে বেশি জড়িয়ে ছিল তখনকার ফটোগ্রাফির প্রযুক্তির সঙ্গে। ছবি তোলার পদ্ধতি, ক্যামেরার গতি এবং ছবি তোলার সামাজিক পরিবেশ সব মিলিয়েই বদলে গেছে ছবিতে মানুষের মুখের অভিব্যক্তি।
কয়েক মিনিট স্থির থাকতে হতো ক্যামেরার সামনে
উনিশ শতকের প্রথম দিকের ক্যামেরায় ছবি তোলা ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ কাজ। ছবির জন্য মানুষকে দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। নড়াচড়া করলে ছবিতে ঝাপসা ভাব চলে আসত। এই পরিস্থিতিতে কয়েক মিনিট ধরে স্বাভাবিক হাসি ধরে রাখা সহজ ছিল না।
তাই মুখের পেশি স্থির রাখতে গম্ভীর বা নিরাবেগ অভিব্যক্তিই ছিল বেশি সুবিধাজনক। পুরোনো ছবিতে যে ‘গম্ভীর মুখ’ দেখা যায়, তার অন্যতম কারণ ছিল এই প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা।
ছবি ছিল বিশেষ আয়োজন
উনিশ শতকে ছবি তোলা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল না। ক্যামেরা ও ছবি তোলার প্রক্রিয়া ছিল ব্যয়বহুল এবং জটিল। ফলে বিশেষ উপলক্ষেই মানুষ স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তুলতেন। স্বাভাবিক মুহূর্তের বদলে আনুষ্ঠানিক ভঙ্গিই বেশি দেখা যেত।
ক্যামেরা সহজ হতেই বদলাল ছবির ধরন
সময়ের সঙ্গে ক্যামেরার প্রযুক্তি উন্নত হয় এবং ছবি তোলার সময় অনেক কমে আসে। পরে সহজে ব্যবহারযোগ্য ক্যামেরা বাজারে আসায় সাধারণ মানুষও ঘরে বসে ছবি তুলতে শুরু করেন। জন্মদিন, ভ্রমণ, পিকনিক বা বন্ধুদের আড্ডার মতো আনন্দের মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হতে থাকে। ফলে ছবিতে গম্ভীর মুখের বদলে হাসি ও স্বাভাবিক অভিব্যক্তি বেশি জায়গা পায়।
হাসি হয়ে উঠল আনন্দের প্রতীক
ফটোগ্রাফি সাধারণ মানুষের জীবনের অংশ হয়ে ওঠার সঙ্গে ছবিতে মানুষের অভিব্যক্তিও বদলাতে থাকে। আনুষ্ঠানিক প্রতিকৃতির বদলে হাসিমুখ, স্বাভাবিক ভঙ্গি এবং আনন্দের মুহূর্ত জনপ্রিয় হতে শুরু করে। ফলে ক্যামেরার সামনে হাসি ধীরে ধীরে এক অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়। বিশেষ করে পারিবারিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ ছবিতে হাসিমুখ যেন ছবিটিকে ভালো স্মৃতি’র সঙ্গে যুক্ত করার একটি সহজ সংকেত হয়ে ওঠে।
আরও খবর: হোয়াটসঅ্যাপের নিরাপত্তায় নতুন ফিচার, টু-স্টেপ ভেরিফিকেশনে এবার আলফানিউমেরিক পাসওয়ার্ড
‘সে চিজ’ কেন বলা হয়?
ছবি তোলার আগে ‘সে চিজ’ বলার চল মূলত হাসির ভঙ্গি তৈরি করার একটি কৌশল। ‘চিজ’ উচ্চারণের সময় ঠোঁট দুই দিকে ছড়িয়ে যায়, ফলে মুখে হাসির মতো আকৃতি তৈরি হয়।
আধুনিক স্মার্টফোনের যুগেও অমলিন স্মৃতি
আজকের দিনে স্মার্টফোনের দৌলতে পলকের মধ্যে হাজারটা ছবি তোলা যায়। আগের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। তবুও কোনও ছবির ফ্রেম বাঁধতে গেলে আজও সেই চেনা ‘স্মাইল প্লিজ়’ ডাকটি সবার আগে ভেসে আসে।
আজ স্মার্টফোনের ক্যামেরায় মুহূর্তের মধ্যে ছবি তোলা সম্ভব। চাইলে গম্ভীর মুখেও ছবি তোলা যায়। তবুও ‘স্মাইল প্লিজ’ এখনও ছবির পরিচিত একটি অংশ। প্রযুক্তি বদলেছে, ছবি তোলার ধরন বদলেছে কিন্তু ক্যামেরার সামনে একটু হাসার অভ্যাসটি রয়ে গেছে। (সূত্র: এই সময়)