আইফোনে ‘গুপ্ত ট্র্যাকার’ আসলে কি ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি চালায় অ্যাপল?

২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ AM , আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৬ AM
আইফোন

আইফোন © সংগৃহীত

বর্তমানে আইফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলছে। এর এমন সব ফিচার যা ব্যবহারকারীকে আকৃষ্ট করছে ফোনটি ব্যবহারের জন্য। তবে আপনি কোথায় যাচ্ছেন, কতবার যাচ্ছেন এসব তথ্য ফোনেই জমা থাকছে। আইফোনের নতুন এক ফিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, সফটওয়্যার হালনাগাদের মাধ্যমে আইফোনে এমন একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর চলাফেরার ওপর নজর রাখে।

ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়া সুবিধার নাম 'সিগনিফিক্যান্ট লোকেশন'স' ফিচার। তবে ২৪ ঘন্টা নজরদারির বিষয়টি পুরোপুরি এমন নয়। এটি আইফোনের নতুন কোনো গুপ্ত ট্র্যাকার নয়। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ফিচারটি দীর্ঘদিন ধরেই আইফোনে রয়েছে এবং ব্যবহারকারী যেসব জায়গায় নিয়মিত যান, সেগুলো ডিভাইসকে চিনতে সাহায্য করে। 

কোন তথ্য জমা রাখে আইফোন
আইফোনের ‘গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও যাত্রাপথ’ নামের এই ফিচারটি ব্যবহারকারীর নিয়মিত যাতায়াতের জায়গাগুলো চিনে রাখে। যেমন বাড়ি, কর্মস্থল, বাজার, রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো পরিচিত জায়গা। অর্থাৎ, ফোনটি ব্যবহারকারীর চলাফেরার ধরন থেকে কোন জায়গাগুলো তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ, তা বুঝতে পারে। 

এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে আইফোনের বিভিন্ন ব্যক্তিগত সুবিধা দেওয়া হয়। যেমন ছবি সাজানো, নিয়মিত যাতায়াতের পথের পরামর্শ দেওয়া বা সম্ভাব্য গন্তব্য সম্পর্কে আগে থেকে তথ্য দেখানো। এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তার প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, একজন মানুষ নিয়মিত কোথায় যান বা কোন পথে চলেন এসব তথ্য তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে অনেক কিছু জানিয়ে দিতে পারে।

তাহলে কি অ্যাপল নজরদারি করছে?
আইফোনে এসব তথ্য জমা থাকা সত্যি হলেও, অ্যাপল ব্যবহারকারীর ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করছে এমন প্রমাণ নেই। অ্যাপল বলছে, গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও যাত্রাপথের তথ্য এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত এনক্রিপ্ট করা থাকে। ফলে এই তথ্য অ্যাপলের পক্ষেও পড়া সম্ভব নয়। একই অ্যাপল অ্যাকাউন্টে যুক্ত একাধিক ডিভাইসের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান হলেও তা একইভাবে সুরক্ষিত থাকে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে আইফোনের কোনো অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্যই অ্যাপলের কাছে যায় না। অবস্থানভিত্তিক কিছু সেবা চালু থাকলে রাস্তার যানজট, মানচিত্রের তথ্য বা কাছাকাছি জায়গা সম্পর্কে সেবা দিতে কিছু তথ্য বেনামি ও এনক্রিপ্ট করা অবস্থায় অ্যাপলের কাছে যেতে পারে।

চাইলে ফিচারটি বন্ধ করা যাবে?
ব্যক্তিগত চলাফেরার তথ্য ফোনে সংরক্ষিত থাকুক, এমনটা না চাইলে এই সুবিধা বন্ধ করে দিতে পারেন ব্যবহারকারী। এ জন্য আইফোনের সেটিংস থেকে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা অপশনে যেতে হবে। এরপর অবস্থান সেবা, সেখান থেকে সিস্টেম সেবাতে গিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ও যাত্রাপথ বন্ধ করতে হবে। আগে সংরক্ষিত তথ্যও সেখান থেকে মুছে ফেলা যায়। অ্যাপলের নির্দেশনা অনুযায়ী, অবস্থান সেবার বিভিন্ন ব্যবস্থাও ব্যবহারকারী নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী বন্ধ করতে পারেন।

কতটা সতর্কতা প্রয়োজন
আইফোন ব্যবহারকারীর চলাফেরার কিছু তথ্য যে ফোনে জমা থাকতে পারে, সেটি বাস্তবতা। তবে সেই তথ্যের কারণে অ্যাপল গোপনে ব্যবহারকারীর প্রতিটি পদক্ষেপ দেখছে এমন দাবির যৌক্তিক প্রমাণ নেই। তবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ নিয়ে উদ্বেগ থাকলে ফিচারটি বন্ধ করে দেওয়া যেতে পারে। 

আজ থেকে বসছে সংসদের তৃতীয় অধিবেশন, উঠছে ৩ গুরুত্বপূর্ণ বিল
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে আহত ৪, তিন সদস্যের তদন্ত কম…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
বদলির আবেদনের শেষ দিন আজ, সফটওয়্যার জটিলতায় শিক্ষকদের ভোগান…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
ভিডিওর ভয় দেখিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা স্কুলছাত্রী, প…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬
আইফোনে ‘গুপ্ত ট্র্যাকার’ আসলে কি ব্যবহারকারীর ওপর নজরদারি চ…
  • ২৭ আগস্ট ২০২৬