মাত্র ৬০ সেকেন্ডে ফুল বডি স্ক্যান করবে এআই

১৯ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © সংগৃহীত

জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (AI) ছবি তৈরির প্রযুক্তির জন্য বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ‘মিডজার্নি’ এবার স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক অবিশ্বাস্য ও ভিন্নধর্মী প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এমন একটি অত্যাধুনিক চিকিৎসা যন্ত্র তৈরি করছে, যা মাত্র ৬০ সেকেন্ডে একজন মানুষের পুরো শরীর নিখুঁতভাবে স্ক্যান করতে সক্ষম হবে।

মিডজার্নির চিরচেনা কাজের পরিধির সঙ্গে এই নতুন প্রকল্পের মিল এতটাই কম যে, অনেকেই প্রথমে এটিকে কোনো রসিকতা বা প্র্যাঙ্ক বলে মনে করেছিলেন। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে—এটি কোনো রসিকতা নয়। ‘মিডজার্নি স্ক্যানার’ নামে যন্ত্রটি বাস্তবেই তৈরি হচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানটি এমন কিছু বিশেষ লাক্সারি স্পা-ও গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে, যেখানে সাধারণ মানুষ গিয়ে অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যে এই স্ক্যানিং সুবিধা নিতে পারবেন।

নিজেদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় মিডজার্নি স্বীকার করেছে যে, এই প্রকল্পের সঙ্গে তাদের আগের কোনো কাজের সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নিয়ে নতুনভাবে ভাবছে। 'আমরা কীভাবে ভিন্ন হতে চাই?' এবং 'আমরা কী হতে চাই?'—মূলত এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই তারা ‘মিডজার্নি মেডিকেল’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই পূর্ণাঙ্গ বডি স্ক্যানারটিই হবে তাদের এই মেডিকেল উদ্যোগের প্রথম হার্ডওয়্যার পণ্য।

উদ্যোগটি সম্পর্কে মিডজার্নি বলেছে, ‘আমরা এমন একটি প্রযুক্তির স্বপ্ন দেখেছি, যা প্রচলিত এমআরআই (MRI)-এর মতোই শক্তিশালী ও কার্যকরী হবে, অথচ কোনো স্পায় যাওয়ার মতোই সহজ, আরামদায়ক ও স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা দেবে। আজ আমরা সেই লক্ষ্য পূরণের একটি নতুন পথ উন্মোচন করছি।’

যেভাবে কাজ করবে এই স্ক্যানার

মিডজার্নির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই স্ক্যানিং প্রক্রিয়ায় একজন ব্যক্তিকে প্রথমে একটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে দাঁড় করানো হবে। এরপর তাকে প্রতি সেকেন্ডে ২ ইঞ্চি গতিতে হালকা পানির মধ্যে নামিয়ে দেওয়া হবে। এই সময় ব্যবহারকারীর শরীরটি একটি বৃত্তাকার রিংয়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করবে। এই বিশেষ রিংটি প্রায় ৫ লাখ ক্ষুদ্র বর্গাকার ইউনিট দিয়ে তৈরি, যার প্রতিটির আকার হবে একটি বালুকণার সমান। এই ক্ষুদ্র ইউনিটগুলো উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আল্ট্রাসনিক তরঙ্গ পাঠাতে এবং মানুষের শরীর থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসা সংকেত গ্রহণ করতে সক্ষম।

সমুদ্রে ডলফিনের শিকার বা পথ চেনার প্রাকৃতিক ‘ইকোলোকেশন’ ব্যবস্থার সঙ্গে এই প্রযুক্তির কার্যপদ্ধতির তুলনা করেছে মিডজার্নি। তাদের ভাষায়, স্ক্যানের সময় একজন মানুষ যেন চারদিক থেকে ঘিরে থাকা ৫ লাখ ক্ষুদ্র ডলফিনের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও তরঙ্গের মধ্য দিয়ে যাবেন।

গতি হবে এমআরআইয়ের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি

মিডজার্নির দাবি, এই আল্ট্রাসনিক স্ক্যানের মাধ্যমে মানুষের ভেতরের শরীরের একটি পূর্ণাঙ্গ ত্রিমাত্রিক (3D) মানচিত্র তৈরি হবে, যার সূক্ষ্মতা হবে এক মিলিমিটারেরও ভগ্নাংশ মাত্রায়। দেখতে এটি বর্তমান এমআরআই চিত্রের মতো হলেও এর গতি হবে সাধারণ এমআরআইয়ের চেয়ে প্রায় ১০০ গুণ বেশি। যেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ শরীরের এমআরআই করতে সাধারণত ৬০ থেকে ৯০ মিনিট সময় লাগে এবং রোগীকে একটি বদ্ধ মেশিনের ভেতর দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকতে হয়, সেখানে মিডজার্নির লক্ষ্য পুরো স্ক্যানিং প্রক্রিয়াটি মাত্র ৬০ সেকেন্ড বা এক মিনিটেরও কম সময়ে সম্পন্ন করা।

ক্রিপ্টো ব্রিফিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বখ্যাত হ্যান্ডহেল্ড আল্ট্রাসাউন্ড ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘বাটারফ্লাই নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে যৌথভাবে মিডজার্নি এই যুগান্তকারী যন্ত্রটি তৈরি করছে। বিগত ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে বাটারফ্লাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে একটি বিশেষ লাইসেন্সিং চুক্তি স্বাক্ষর করে মিডজার্নি, যার মাধ্যমে তারা প্রতিষ্ঠানটির পেটেন্ট করা ‘আল্ট্রাসাউন্ড-অন-চিপ’প্রযুক্তির একচেটিয়া ব্যবহারের অধিকার পায়।

এই উচ্চাভিলাষী প্রজেক্টটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মিডজার্নির কনজ্যুমার হার্ডওয়্যার বিভাগের প্রধান আহমাদ আব্বাস। তিনি ২০২৩ সালের শেষ দিকে মিডজার্নিতে যোগ দেন। এর আগে তিনি প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল-এর বহুল আলোচিত ‘ভিশন প্রো’ মিক্সড-রিয়েলিটি হেডসেট প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।


আগামী বছরজুড়ে মিডজার্নি তাদের মেডিকেল অ্যালগরিদম ও স্ক্যানার প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করবে, ক্লিনিক্যাল বা গবেষণামূলক পরীক্ষা পরিচালনা করবে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের হার্ডওয়্যার নকশা নিয়ে কাজ করবে। প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর (২০২৭) যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে এই স্ক্যানারসমৃদ্ধ প্রথম ‘হেলথ স্পা’ বাণিজ্যিকভাবে চালু করা হবে।

এর পরের ধাপে যন্ত্রটির মাধ্যমে নিখুঁত রোগ নির্ণয়-সংক্রান্ত সক্ষমতার প্রমাণ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (FDA) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। ২০২৮ সালের মধ্যে বিশ্বের আরও বিভিন্ন বড় শহরে এই সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি তৃতীয় প্রজন্মের (3rd Gen) স্ক্যানার উন্মোচনের পরিকল্পনা রয়েছে মিডজার্নির। এই নতুন সংস্করণে সম্পূর্ণ নিজস্ব কাস্টম সিলিকন চিপ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা আরও উচ্চমানের ও নিখুঁত ইমেজ তৈরি করতে পারবে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, তখনই এই প্রকল্প সত্যিকার অর্থে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে’ পৌঁছাবে এবং প্রচলিত ব্যয়বহুল এমআরআই প্রযুক্তির বিকল্প হিসেবে সরাসরি বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতা অর্জন করবে।

দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হিসেবে মিডজার্নি জানিয়েছে, তারা ২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৫০ হাজার এমন বডি স্ক্যানার স্থাপন করতে চায়। প্রতিষ্ঠানটির জোরালো দাবি, ‘ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যদি মানুষের শরীরে রোগ বাসা বাঁধার একদম প্রাথমিক পর্যায়েই পর্যাপ্ত ইমেজিং নিশ্চিত করা যায়, তবে বিশ্বে বিভিন্ন রোগে মোট মৃত্যুর ৩০ শতাংশ এবং ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাঁচানো সম্ভব হতে পারে।’

শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়ে জিয়াউর রহমান ১৬ দিনে যা করেছিলে…
  • ১৯ জুন ২০২৬
ভাঙ্গুড়ায় ধান সংগ্রহে অনিয়ম, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট জিম্মি …
  • ১৯ জুন ২০২৬
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজারের ওপর
  • ১৯ জুন ২০২৬
‘মাস্টারমাইন্ড অলওয়েজ অ্যা ব্যাড ওয়ার্ড’
  • ১৯ জুন ২০২৬
তিস্তা প্রকল্পের অগ্রগতি দেখতে মাঠে তিন মন্ত্রী
  • ১৯ জুন ২০২৬
রাজধানীর সড়কে এআই ক্যামেরা বন্ধের তথ্য, যা বলছে ট্রাফিক কর্…
  • ১৯ জুন ২০২৬