প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো
কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন এমনকি স্বাস্থ্য ট্র্যাকিং—সবকিছুর জন্যই স্মার্টফোন আজ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে স্ক্রিন টাইম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে চোখের বিভিন্ন সমস্যার ক্রমবর্ধমান প্রবণতা লক্ষ্য করছেন।
যদিও স্মার্টফোন সাধারণত চোখের অপূরণীয় বা স্থায়ী ক্ষতি করে না, তবুও অতিরিক্ত ও ভুল ব্যবহারের ফলে কিছু চোখের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব সমস্যা চোখের আরাম, দৃষ্টিশক্তি, ঘুম এবং দৈনন্দিন কর্মক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। জেনে নিন স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণে চোখে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে—
ডিজিটাল আই স্ট্রেন (কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম): মোবাইল ফোন ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত সবচেয়ে সাধারণ চোখের সমস্যাগুলোর একটি হলো ডিজিটাল আই স্ট্রেন, যা কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম নামেও পরিচিত। দীর্ঘ সময় ধরে ছোট একটি স্ক্রিনে চোখ স্থির রেখে তাকিয়ে থাকলে চোখকে ক্রমাগত কাছাকাছি দূরত্বে ফোকাস করতে হয়। এর ফলে চোখের পেশিগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়ে।
এই সমস্যার কারণে চোখে ক্লান্তি, মাথাব্যথা, ঝাপসা দৃষ্টি, মনোযোগ ধরে রাখতে অসুবিধা এবং কখনও কখনও ডাবল ভিশনও দেখা দিতে পারে।
ড্রাই আই: ড্রাই আই আরেকটি গুরুতর সমস্যা, যা বর্তমানে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বেশি দেখা যাচ্ছে। স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকার ফলে চোখের পলক পড়ার হার স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। এর ফলে চোখের অশ্রু নিঃসরণের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।
ড্রাই আই হলে চোখে শুষ্কতা, লালভাব, জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত পানি পড়া এবং চোখে কণা বা বালির মতো অনুভূতি হতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না করলে পড়াশোনা, গাড়ি চালানো এবং স্ক্রিনে কাজ করার ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে সমস্যা বাড়তে পারে।
চোখের অস্বস্তি ও ঘুমের ব্যাঘাত: স্মার্টফোনের স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের অস্বস্তি সৃষ্টি করার পাশাপাশি ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দও ব্যাহত করতে পারে। বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহার করলে ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন মেলাটোনিনের উৎপাদন কমে যায়।
নীল আলোর অতিরিক্ত সংস্পর্শে থাকার ফলে চোখে ক্লান্তি, ঘুমাতে অসুবিধা এবং ঘুমের মানের অবনতি ঘটে। এর প্রভাব পড়ে চোখের স্বাস্থ্য ও সামগ্রিক মানসিক সুস্থতার ওপরও।