স্মার্টফোনে দুই সপ্তাহ ইন্টারনেট ব্যবহার না করলে যে উপকার হয়

০১ মার্চ ২০২৫, ১২:২৭ PM , আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৫, ০৪:১৯ PM
স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার

স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার © সংগৃহীত

প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। অফিসের কাজ, পড়াশোনা, কেনাকাটা, বিনোদন, এমনকি সামাজিক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই স্মার্টফোন এক অপরিহার্য বিষয়। তবে সব সময় ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকার এই প্রবণতা আমাদের অজান্তেই মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার একদল গবেষক জানিয়েছেন, স্মার্টফোনে ইন্টারনেট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখলে মানসিক স্বাস্থ্যে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন হয়। গবেষণায় অংশ নেওয়া ৯১ শতাংশ ব্যক্তি স্মার্টফোনে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার না করায় নিজেদের আগের তুলনায় আরও সুস্থ অনুভব করেছেন।

পিএনএএস নেক্সাস সাময়িকীতে প্রকাশিত ‘ব্লকিং মোবাইল ইন্টারনেট অন স্মার্টফোনস ইমপ্রুভস সাসটেইন্ড অ্যাটেনশন, মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড সাবজেকটিভ ওয়েল-বিয়িং’ শীর্ষক গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, মাত্র দুই সপ্তাহ স্মার্টফোনে ইন্টারনেট বন্ধ রাখলেই ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য, মনোযোগের স্থায়িত্ব এবং জীবনমানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হতে পারে।

এ বিষয়ে গবেষকদলের সদস্য এবং ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনের মনোবিজ্ঞানী অ্যাড্রিয়ান এফ ওয়ার্ড বলেন, ‘আমরা দেখেছি, স্মার্টফোনে ইন্টারনেট বন্ধ রাখার পর গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মানসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি এবং মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা অনেকটাই বেড়ে গেছে।’

গবেষণা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ৪৬৭ জন ব্যক্তিকে ‘ইন্টারভেনশন’ ও ‘কন্ট্রোল’ নামের আলাদা দুটি গ্রুপে বিভক্ত করা হয়। ইন্টারভেনশন গ্রুপের অংশগ্রহণকারীদের স্মার্টফোনে একটি বিশেষ অ্যাপ ইনস্টল করা হয়, যা দুই সপ্তাহের জন্য তাদের মোবাইল ইন্টারনেট (ওয়াই-ফাই ও মোবাইল ডেটা) সম্পূর্ণ বন্ধ রাখে। তবে ফোনকল, মেসেজ এবং ডেস্কটপ বা ল্যাপটপে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছেন তারা।

অন্যদিকে কন্ট্রোল গ্রুপের সদস্যদের প্রথম দুই সপ্তাহ স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়। এরপর তাদেরও একই ধরনের ইন্টারনেট নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়। এরপর গবেষকেরা অংশগ্রহণকারীদের স্থায়ী মনোযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং ব্যক্তিগত সন্তুষ্টি পর্যালোচনা করেন। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রেখেছিলেন, তাদের মানসিক স্বাস্থ্য, জীবনমান ও মনোযোগের স্থায়িত্বে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।

গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল এসেছে মনোযোগ উন্নতির ক্ষেত্রে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, স্মার্টফোনে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা অংশগ্রহণকারীরা স্থায়ী মনোযোগ পরীক্ষায় ভালো করেছেন। তাদের মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেন তাদের বয়স ১০ বছর কমে গেছে। এ থেকে বোঝা যায়, স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার মস্তিষ্কের মনোযোগ ধরে রাখার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। শুধু তা-ই নয়, স্মার্টফোনে ইন্টারনেট বন্ধ রাখলে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার লক্ষণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখায় অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি যোগাযোগে বেশি সময় ব্যয় করেছেন। এতে তাদের সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে। তারা শারীরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন, যেমন অবসর সময়ে ব্যায়াম করেছেন, যা মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে। প্রকৃতির সান্নিধ্যে বেশি সময় কাটানো, স্ক্রিন টাইম কমানো এবং ঘুমের মান উন্নত হওয়া তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ড্যাফোডিল কর্মচারীর ৭ বছরের মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগ বাড়িওয়ালা…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
নয়া জ্বালানি ব্যবস্থা গড়তে চান চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
ট্রাম্পের যুদ্ধাপরাধ নিয়ে সতর্ক হতে বললেন মার্কিন সিনেটর
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
নবম শ্রেণির ছাত্রীকে ৫ ঘণ্টা আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিয…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সরকারের সমালোচনা করায় নারী কর্মী আটক, ‘অগণতান্ত্রিক আচরণ’ আ…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
সুযোগ থাকলে ইরানের তেল দখল করে নিতাম, কিন্তু আমেরিকানরা চায়…
  • ০৭ এপ্রিল ২০২৬
close