শিক্ষা কার্যক্রম নেই তবুও এমপিওভুক্তি!

২৫ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:২১ AM

এমপিওভুক্তির তালিকায় অন্তর্ভূক্তির খবর শুনে রাতের আঁধারে পঞ্চগড়ের একটি প্রতিষ্ঠানে সাইনবোর্ড স্থাপন, ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন অবকাঠামো স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। বুধবার রাত থেকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার ঝলইশাল শিরি ইউনিয়নের নতুন হাট টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের কাজ শুরু করে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। রাতারাতি ইট গেঁথে ভবনের ভিত্তি কাঠামো দাঁড়া করা হয় টাঙ্গিয়ে দেয়া হয় কলেজের নাম সম্বলিত সাইনবোর্ড।

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নতুনহাট বাজারের অদূরেই হোসনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা সংলগ্ন একটি জমিতে ওই কলেজের সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে। কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক জোরেশোরে ইট দিয়ে ভবন নির্মাণের কাজ করছেন। ইটের গাঁথুনির পাশাপাশি টিউব ওয়েল বসানোর কাজ করছেন কয়েকজন।

কয়েকজন শ্রমিক বালু ফেলার কাজ করছেন। চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নির্মাণ সামগ্রী। এ সময় কোন শিক্ষক, শিক্ষার্থী কাউকে পাওয়া যায়নি। খবর নিয়ে জানাযায় পঞ্চগড় বিসিক নগর টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজ মেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ দেলদার রহমান এই কলেজ প্রতিষ্ঠিত করেছেন। স্থানীয়রা জানান, নামে থাকলেও এখানে ওই কলেজের কোন কার্যক্রম ছিলো না। কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো দেলদারের কলেজ থেকেই।

দেলদার রহমানের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে ওই প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি বলে দাবি করেন। তিনি জানান, এই প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ তার স্ত্রী শামীমা নাজনীন। তার দাবি,২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপিত। বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানে ২’শ জনছাত্রছাত্রী পড়ছেন। শিক্ষক রয়েছে ৬ জন। চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬০ জন। পাশ করে ৫৮ জন। কাগজে কলমে সব ঠিক রয়েছে বলে দাবি করেন দেলদার।

রাতারাতি ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ঘর আমি যখন খুশি তখন উঠাবো। সাংবাদিকরা ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ও শিক্ষক শিক্ষার্থীদের তথ্য দেখতে ও জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। তিনি বলেন, এর আগে টিন শেড ঘরে অধ্যায়ন কার্যক্রম চলতো। এছাড়া তার নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুনহাট টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় অধিবাসী জানান, প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি দেলদার রহমান পঞ্চগড়ের বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে একাধিক কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। বিএম অধ্যক্ষ পরিষদের বড় নেতা তিনি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তার অদৃশ্য শক্তিবলে প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্তির তালিকায় গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। খবর নিয়ে জানা গেছে পঞ্চগড় জেলায় এবার ৪ টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম এমপিও ভুক্তির তালিকায় স্থান পায়।

মোহাম্মদ আজম নামে এক ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেইসবুকে মন্তব্য করেন, আমরা যেখানে এমপিও'র সকল শর্ত পূরণ করা সত্যেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এমপিওভুক্ত হতে পারছি না। সেখানে এইরকম ভুইফোঁড়, অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠান কিভাবে এমপিও'র তালিকায় নাম আসে সেটাই প্রশ্ন। তিনি বিষয়টি আরও তদন্ত করে এমপিও ভুক্তি চূড়ান্ত করার দাবি জানান।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিমাংশু কুমার রায় সিংহ বলেন, এমপিও ভুক্তির বিষয়ে আমাদের কোন ভূমিকা নেই। এমপি, সচিব ও মন্ত্রী উনারা কিভাবে এনপিওভুক্তির তালিকা দিয়েছেন তা তারাই ভাল জানেন।

ট্যাগ: এমপিও
খুবি ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, নৌপরিবহন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে …
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
ইসলামী ব্যাংকের উপশাখাগুলোর অর্ধবার্ষিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্ম…
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যু
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
সিরিয়ার পলাতক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
ভিকারুননিসা ইংরেজি শিক্ষক আলী আনোয়ার বাঁচতে চান
  • ১১ আগস্ট ২০২৬
শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় কসমেটিকস জব্দ
  • ১১ আগস্ট ২০২৬