শিক্ষকদের আন্দোলন © সংগৃহীত
অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা এমপিওভুক্ত করার দাবিতে ঈদের দিন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা এবং ঈদ বর্জনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
গত কয়েকদিন ধরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ইবতেদায়ি মাদরাসা শিক্ষকরা। সোমবার (২৫ মে) টানা পঞ্চম দিনের মতো তাদের এই অবস্থান চলমান ছিল। এর মধ্যেই নতুন করে ঈদের দিনের এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।
আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানান, অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করা এবং বকেয়া বেতন ছাড়ের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এর আগে রোববার দুপুরে এমপিওভুক্তির দাবিতে সচিবালয়ের উদ্দেশে পদযাত্রা করলে পুলিশ তাদের আটকে দেয়। পরে সন্ধ্যায় শিক্ষক নেতারা সভা করে মাদরাসাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ এবং ঈদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান আন্দোলনকারীদের সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল হান্নান হোসেন।
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে এমপিওভুক্ত করার যে আশ্বাস দিয়েছিল সে আশ্বাস মতো মাদরাসাগুলো এমপিওভুক্ত না করা পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। আমরা এমপিওভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত মাদরাসাগুলো বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছি। একই সঙ্গে আমরা ঈদ বর্জন করে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব। ঈদের দিন এমপিও ভুক্তির দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন উদ্দেশে পদযাত্রা করব।’
এদিকে কোরবানির ঈদ ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি শুরু হয়েছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি চলবে ১১ জুন পর্যন্ত। ১২ ও ১৩ জুন সাপ্তাহিক ছুটির পর ১৪ জুন থেকে পুনরায় শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই ছুটির মধ্যেই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষকরা।
ইসলামি ও সাধারণ শিক্ষার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা আলিয়া মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো প্রাথমিক স্তরের সমমানের শিক্ষা প্রদান করে থাকে। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গোড়াপত্তন হয় ১৯৮৪ সালে।
মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের তথ্যমতে, দেশে বর্তমানে অনুদানভুক্ত এক হাজার ৫১৯টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা তিন হাজার টাকা করে অনুদান পেয়ে থাকেন।