ছাত্রদল-শিবির-ছাত্রশক্তির সমঝোতা বৈঠক

বিচার না হওয়া পর্যন্ত আপসে রাজি নয় জবি শিবির-ছাত্রশক্তি

১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৭ PM , আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৯ PM
সমঝোতা বৈঠকের পর ছাত্রদল ও শিবিরের প্রেস ব্রিফিং

সমঝোতা বৈঠকের পর ছাত্রদল ও শিবিরের প্রেস ব্রিফিং © টিডিসি সম্পাদিত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদল, শিবির, ছাত্রশক্তি ও ছাত্রফ্রন্টের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের বিষয়ে ‘সমঝোতা’ করতে বৈঠকে বসেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল সংগঠন। তবে নিজেদের ওপর হামলার ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতা বা আপোষ মীমাংসায় যেতে রাজি হয়নি ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) জবি উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে জরুরি এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সমঝোতায় রাজি না হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতারা।

জানা গেছে, গত ৪ আগস্ট ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র শক্তি ও বাম সংগঠনের মধ্যে দফায় দফায় হামলা- পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ছাত্রদল ছাড়া অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা আহত হন। এ ঘটনায় জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্‌দীনের আহ্বানে একটি সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়।  বৈঠকটি জবির কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে শুরু হয়ে চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত। বৈঠকে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তির শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 

এ সময় বিএনপির ঢাকা-৭ আসনের এমপি হামিদুর রহমান, ঢাকা-৫ আসনের জামায়াতের এমপি মোহাম্মদ কামাল হোসাইন, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম ও  ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদসহ জবি ছাত্রদল-শিবিরের সাবেক নেতারা। 

এর আগে গত গত ৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর নিকট হস্তান্তরের দাবি জানানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্ট ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

ওই ঘটনা প্রেক্ষিতে আজ শনিবার এক জরিরি আলোচনা সভা ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় সংসসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতারাসহ সহ ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উভয় পক্ষকে সমঝোতায় রাজি হয়ে কোলাকুলি করার অনুরোধ করা হলে এতে আপত্তি জানান ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতারা। হামলার ঘটনায় বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতায় রাজি হবে না বলে জানান তারা। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সমঝোতা বৈঠক সমাপ্ত হয়।

এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির সভাপতি মো. শাহিন মিয়া বলেন, ‘৪ আগস্ট হামলার বিচার হওয়ার পূর্বে কোন ধরনের সমঝোতায় থাকবে না ছাত্রশক্তি। হামলার সঙ্গে জড়িতদের আগে বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

জকসুর জিএস ও জবি শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে একটাই দাবি ছিল যে বিচার নিশ্চিত করা। বিচার নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ভিসি স্যার যতবারই আমাদের ডাকবেন, ক্যাম্পাসের বৃহত্তর স্বার্থে আমরা সবাই একসঙ্গে বসব, কথা বলব। তবে ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য বিচারটা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে আমরা সবসময় ছিলাম, এখনো আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা সবসময় প্রস্তুত। তবে বিচারের আগে কোনো ধরনের সমঝোতায় আমরা রাজি নই।’

এ বিষয়ে জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘হামলার বিচার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। আজকের বৈঠকে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর এবং একটি কার্যকর কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়নের পরই সমঝোতার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী সন্ত্রাসী হামলার শিকার না হয়, সে জন্য জকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ’

এদিকে সভায় জকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১৫ দফা সম্বলিত প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের জন্য পালনীয় একটি সার্বজনীন কোড অব কন্ডাক্ট প্রনয়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। 

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, জকসু সভাপতির উপস্থাপিত প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে একটি সমন্বিত কোড অব কন্ডাক্ট তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি একটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।

তিনি বলেন, ‘মত ও সংগঠন যার যার, জবি পরিবার আমার, সবার”—এই চেতনাকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সংগঠনকে সৌহার্দ্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মত ও পথের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য; কিন্তু সেই ভিন্নতার মধ্যেও অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করাই একটি সুন্দর ও সহাবস্থানমূলক ক্যাম্পাস সংস্কৃতির ভিত্তি।’

উপাচার্য আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক মতাদর্শ ও অবস্থান ভিন্ন হতে পারে এবং ভুল বা অসংগতির সমালোচনাও হতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন ভাষা বা পারিবারিক পরিচয় তুলে অবমাননাকর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শালীনতার মধ্য দিয়েই মতপার্থক্যের চর্চা হওয়া উচিত।’

বৈঠক থেকে ছাত্রশক্তির ওয়াকআউট
এদিকে সমঝোতা সভা থেকে এক পর্যায়ে ওয়াক আউট করেন ছাত্রশক্তির নেতারা। নেতাদের অভিযোগ, বৈঠকে তাদের ডাকা হলেও এটি যে সমঝোতা বৈঠক, সে বিষয়ে আগে থেকে তাদের জানানো হয়নি। তারা বৈঠক থেকে বের হয়ে আসেন। তবে প্রশাসনের অনুরোধের প্রতি সম্মান দেখিয়ে আবারও উপস্থিত হন। 

জবি ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘আজ সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে সভায় ডাকা হয়েছিল। আমরা উপস্থিত হয়ে দেখি, সেখানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা, তাদের মূল সংগঠনের নেতা ও এমপিরাও ছিলেন। কিন্তু ছাত্রশক্তিকে এসব বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা স্থানীয় পর্যায়ের কাউকেও বলা হয়নি। এজন্য আমরা বের হয়ে আসি। পরে শিক্ষকদের অনুরোধে আবার সভায় যোগ দিই।’

নাফেইন ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিতে প্রথম গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে ঢাবিতে বৃক্ষরোপণ ছাত্রদল নেতা …
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন হাসনাত, দিলেন ৪ প্রস্ত…
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
‎১৫ আগস্টে শেখ মুজিবকে নিয়ে পোস্টের জেরে দুই ছাত্রদল নেতার…
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
মাদক ট্যাপেন্টাডলসহ রাবি ছাত্রদল নেতা হাসিব আটক
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
নিশিডাক এবং প্রাচীর থেকে কথা: আল মাহমুদের কবিতায় শেখ মুজিবে…
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬