হাইকোর্ট © ফাইল ছবি
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা-২০২৪ লঙ্ঘন করে ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় আদালতে রিট দায়ের করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ রিটের শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটকারীদের আইনজীবী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের আহবায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আজমল হোসেন খোকন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি। কিন্তু তারা কোনো জবাব দেয়নি। যার প্রেক্ষিতে মজলুম শিক্ষকরা রিট দায়ের করেছে। গত রবিবার শুনানির দিন ধার্য করা হলেও কোর্টের সময় ফুরিয়ে যাওয়ায় আগামীকাল বুধবার শুনানি হতে যাচ্ছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস নিজ বাড়ি থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে চাকরি করা অসহায় শিক্ষকরা আদালতে ন্যায়বিচার পাবেন এবং তারা বদলি নীতিমালা ২০২৪ অনুযায়ী নিজ জেলায় শূন্য পদে যোগদান করতে পারবে।’
এ প্রসঙ্গে ঢাকায় কর্মরত শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমরা ৭ম গণবিজ্ঞপ্তি বন্ধ করতে আসিনি। আমরা চাই ৬৭ হাজার শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক। তবে বদলি নীতিমালা অনুযায়ী আগে আমাদের বদলি কার্যকর করতে হবে। তারপর শূন্যপদে শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে হবে। এতে হবু শিক্ষকদের কোনো পদের ঘাটতি হবে না। যতটি পদ ততটিই থাকবে। আমরা আশাবাদী মহামান্য আদালত ন্যায়বিচার করবে।’
দক্ষিণবঙ্গে কর্মরত উত্তরবঙ্গের আরেক অবহেলিত নারী শিক্ষক শাহরিয়া জয়া বলেন, ‘দূরে চাকরিরত নারী শিক্ষকরা প্রতিনিয়ত নানাভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্থার শিকার হচ্ছি। স্বামী-সংসার ফেলে ৬০০/৭০০ কিলোমিটার দূরে চাকরি করা খুবই কষ্টকর। আমরা বদলির সুযোগ চাই। আশা করছি আদালতে ন্যায় বিচার পাব।’
রিটের শুনানি সম্পর্কে চাঁদপুরের কচুয়ার পালাখাল উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, শূন্য পদে বদলি সম্পর্কে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনেকবার যোগাযোগ করেও যখন আমরা বদলির ক্ষেত্রে সুরাহা পাইনি, বরং আমাদের অধিকারকে নস্যাৎ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এনটিআরসিএর মাধ্যমে সপ্তম নিয়োগ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে, যা একান্তই অনাকাঙ্খিত ও ন্যায় বিচারের পরিপন্থী। এজন্যই আমরা আমাদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠার জন্য উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আমরা রিটের শুনানির মাধ্যমে উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি, আশা করি উচ্চ আদালত ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।