বেতন-ভাতার কোনো শতাংশ নয়, শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ চায় জমিয়াতুল মোদার্রেছীন

১৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৪০ PM
মাদ্রাসা শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষিকাদের করণীয় শীর্ষক সেমিনার

মাদ্রাসা শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষিকাদের করণীয় শীর্ষক সেমিনার © টিডিসি ফটো

বেতন-ভাতার কোনো শতাংশ নয়, বরং কর্মরত সকল মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ চায় মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। সংগঠনটির সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, ২০১৭ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষক সমাবেশ করে জমিয়াতুল মোদার্রেছীন শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছিল। এই দাবি আদায়ে তখন থেকেই কর্মসূচিও পালন করছে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কাজ করবে মাদ্রাসা শিক্ষকরা। 

আজ শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীস্থ গাউসূল আজম কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের উদ্যোগে আয়োজিত মাদ্রাসা শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষিকাদের করণীয় শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। 

এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে এখন যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারা শুধু স্ট্যানবাজি করছে, আমরা কোনো শতাংশের হিসেবে বেতন-ভাতা চাই না, আমরা চাই জাতীয়করণ করে শতভাগ সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তবে সেটি রাস্তায় দাঙ্গাবাজি করে নয়, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে। জমিয়াত সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকার চাইলেও এখন কোনো বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করতে পারবে না। তবে আগামীতে যারা রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবেন তারা ইতোমধ্যে অঙ্গীকার করেছেন চাকরি জাতীয়করণ করার। আমরা বিশ্বাস করি তখন শিক্ষকদের বেতন-ভাতার জন্য দাবিও করতে হবে না, শিক্ষক-কর্মচারীরা যা চায় তার চেয়েও বেশি তারা পাবেন। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন-স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক দিলরুবা খান। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, সর্বশেষ প্রকাশিত এইচএসসির ফলাফলে দেখা গেছে বিপর্যয় ঘটেছে। কলেজে ফলাফল খারাপ হওয়া আর মাদ্রাসায় ফলাফল খারাপ হওয়া এক বিষয় নয়। কিছুদিন পরে আবার এসএসসি-দাখিল ও এইচএসসি-আলিম পরীক্ষা আছে। কিন্তু এর মধ্যে দাবি-দাওয়ার নাম করে ক্লাস বন্ধ রেখে আন্দোলন করা হচ্ছে। অথচ এখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য পিক টাইম। সামনে নির্বাচন আছে সে সময় এমনই প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। সেগুলো বিবেচনায় না নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে সবকিছু বন্ধ রাখার অপচেষ্টা চলছে। রাস্তায় দাঙ্গাবাজি করে দাবি আদায়ের নামে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে। 

শিক্ষকদের দাবিকে যৌক্তিক এবং এর প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারও নিশ্চয়ই এই দাবির সাথে একমত, সরকারও চাচ্ছে, কিন্তু ড. ইউনূস সাহেব যে পরিস্থিরি উপর, যে অর্থনৈতিক অবস্থায় দায়িত্ব নিয়েছেন সেখান থেকে তিনি চাইলেই কী দিতে পারবেন, কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এটা আমাদের বুঝতে হবে। যারা এটা বুঝেও শিক্ষকদের রাস্তায় রেখে পরিবেশ নষ্ট করছেন তারা শুধু স্ট্যান্ডবাজি ছাড়া আর কিছুই করছেন না। 

জমিয়াত সভাপতি বলেন, আগামী দিনে দেশের প্রধানমন্ত্রী হবেন তারেক রহমান, ইনশাল্লাহ। কেউ কোনো কিছু পরিবর্তন করতে পারবে না। তিনি ক্ষমতায় আসল ২ হাজার নয়, ৫ হাজার টাকা করে চাইলেও শিক্ষকরা পাবেন। সমাজ গঠনে নারীদের ভূমিকা ও গুরুত্বের কথা তুলে ধরে ইনকিলাব সম্পাদক বলেন, আলেম সমাজ সব সময় নারীদের এগিয়ে নেয়ার জন্য কাজ করেছে, নারী শিক্ষা ও নারীর অগ্রগতির জন্য আলেম সমাজ কখনো বাধা সৃষ্টি করেনি, বাধা হচ্ছে নারী শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি। 

এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের সমাজে ইসলামি চিন্তা-চেতনা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এটি যদি ভুল পথে পরিচালিত হয় তাহলে ভয়াবহ পরিণতি হবে। আমরা মনে করি, এদেশে ইসলাম ও সমাজ থাকবে, এখানে লালন উৎসবও হবে আজান-নামাজও হবে। এজন্য রাজনৈতিক নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। 

জমিয়াত সভাপতি বলেন, যারা মিথ্যাচার করে, একসময় সাঈদী ও নিজামী সাহেবরা শহীদ মিনারকে বলতেন কুফরি-শিরক। এখন সেই জামায়াতের নেতৃত্বে শহীদ মিনারে গিয়ে শিক্ষকদেরকে নিয়ে আন্দোলন করছে। 

তিনি বলেন, নারী শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা আরো বেশি বাড়াতে হবে। দেশের বাইরে প্রশিক্ষণের জন্য নারীদের পাঠাতে হবে, চীনে যেন যেতে পারে সেটার ব্যবস্থা করা হবে। 

এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের উন্নয়নে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন সেখানকার মায়েরা, নারী শিক্ষকরা। বাংলাদেশেও যতদিন দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো প্রযুক্তি, বিজ্ঞানে অগ্রগতি হতে হয় তাহলে নারী শিক্ষক ও শিক্ষিত মায়েদের প্রয়োজন। এর কোনো বিকল্প নেই। এজন্য শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া বেশি আসা দরকার নারী শিক্ষকদের কাছ থেকে। তাদের কষ্ট বেশি। তাদের প্রয়োজনীয়তা বেশি। 

জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমদ মোমতাজী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন থেকেই শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে আসছি, এবং দাবি আদায়ে আন্দোলন করছি। আমরা চাই শিক্ষকরা সরকারি চাকরিজীবীদের মতো শতভাগ সুযোগ-সুবিধা পাক। তবে আমরা সব সময় সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের পক্ষে।

তিতাসের পাড়ে একদিন, জীবন ও নদীর মেলবন্ধন
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করতে এসে বাদী নিজেই কারাগারে
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
স্ত্রী তাসনিম জারা ও নিজেকে নিয়ে ছড়ানো লেখা ‘বিভ্রান্তিকর’ …
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
ব্যাডমিন্টন খেলা শেষে বাড়ি ফেরা হলো না দুই বন্ধুর 
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
‎খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জাবিতে শোক বই
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম শান্তকে তারেক রহমানের উপহার
  • ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
X
UPTO
100%
MERIT BASED
SCHOLARSHIP
ADMISSION OPEN FOR
SPRING 2026
Application Deadline Wednesday, 21 January, 2026
Apply Now

Programs Offered

  • BBA
  • Economics
  • Agriculture
  • English
  • CSE
  • EEE
  • Civil
  • Mechanical
  • Tourism & Hospitality
01810030041-9