ছোটেননি চাকরির পেছনে, ব্যতিক্রমী ‘চাষীবোন’ উদ্যোগে সাফল্য মিরার

২৫ নভেম্বর ২০২০, ১১:০৪ AM
কামরুন্নেছা মিরা

কামরুন্নেছা মিরা © টিডিসি ফটো

২৫ বছর বয়সী তরুণ উদ্যোক্তা কামরুন্নেছা মিরা কৃষিক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তার সামাজিক ব্যবসায়িক সংস্থা ‘চাষীবোন’ একটি উদীয়মান ধারণা, যা কেবলমাত্র কৃষি ব্যবসা বিকাশই করেনি, দালাল নির্মূল করেছে এবং কৃষক ও ক্রেতাদের মধ্যে সুষ্ঠু বাণিজ্য নিশ্চিত করেছে।

স্নাতক শেষ করার পর মিরা চাকরির পেছনে না ছুটে ভ্রমণ এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার সমাধান অনুসন্ধান করতে শুরু করেন। তার সামাজিক ব্যবসার মডেল কয়েকশ’ নারীকে বাল্যবিবাহ, সহিংসতা থেকে বেরিয়ে আসতে এবং তাদের সম্প্রদায়ের বিকাশের সক্রিয় অংশে পরিণত করতে সহায়তা করে। ২০১৮ সালে তিনি এমন একটি বাস্তুতন্ত্রের বিকাশের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন, যেখানে কৃষকরা ন্যায্য দাম পেতে পারে।

বাংলাদেশ একটি কৃষিভিত্তিক দেশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে এখানে কৃষকরা বেশিরভাগ মধ্যস্থতাকারী এবং দালালদের কারণে বঞ্চিত রয়েছে। তারা ক্রেতাদের থেকে কখনও ন্যায্যমূল্য পায় না। তাই মিরা এমন একটি আদর্শ গ্রামের পরিকল্পনা করেন, যেখানে তিনি একটি কৃষক ইউনিয়ন তৈরি করতে পারেন, তাদের স্মার্ট কৃষি, ফসল সংগ্রহ ও বিপণন সম্পর্কে শিখিয়ে দিতে পারেন। সেজন্য তিনি নাটোর জেলায় জমি কিনে নিজের কৃষি ব্যবসা শুরু করেন।

কৃষকদের সাথে কাজ করে মিরা শেখেন আর জানেন, কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। হস্তক্ষেপের ঘাটতি, বীমা সুবিধার অভাব, প্রত্যক্ষ বাজারের সাথে দুর্বল সম্পর্ক, জলবায়ু অভিযোজনে চ্যালেঞ্জ এবং নতুন পোকামাকড় শনাক্তকরণে কৃষকরা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হন।

এসব সমস্যা থেকে কৃষকদের মুক্তির উপায় খুজতে মিরা একটি কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে কৃষি কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও বিজ্ঞানীরা তাদের কৃষিকাজ উন্নয়নের জন্য পোকামাকড় এবং উর্বরতা সম্পর্কে নতুন জ্ঞান সরবরাহে কৃষকদের বিনামূল্যে অনলাইন এবং অফলাইনে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন। তার ‘চাষীবোন’ উদ্যোগটি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য নেয় এবং সরাসরি শহরে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করে।

বিনিয়োগ, বীমা এবং আশ্বাস বিবেচনা করে মিরা প্রাক-অর্ডার ভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। এখানে কৃষক এবং ক্রেতাদের সাথে সংযোগের সময় তিনি মোট অর্থের ৬০ শতাংশ দিয়ে পণ্যগুলোর জন্য প্রাক বুকিং নেন। এই পরিকল্পনাটি দিয়ে কৃষকরা ইতিমধ্যে জানে যে, তার পণ্য কোথায় চলছে এবং তারা উদ্বেগ ছাড়াই কৃষিতে মনোনিবেশ করতে পারে। এই প্রক্রিয়াটিতে কৃষকরা পণ্য উৎপাদন করতে পর্যাপ্ত অর্থ পাচ্ছেন।

ফলে কৃষকরা স্থানীয় সুদ দালাল দ্বারা নির্মিত চক্রের মধ্যে পড়ে লোন নেওয়া থেকে মুক্ত থাকতে সক্ষম হচ্ছেন। মিরা লাভের ভাগ বা ব্যবসায়ের ইক্যুইটি শেয়ার করে কৃষকদের সাথে মাইক্রো বিনিয়োগকারীদেরও সংযুক্ত করেছে। এই পদ্ধতিতে বিশ্বের যে কোনও জায়গা থেকে যে কেও নাটোর ও চট্টগ্রামে কৃষিকাজে বিনিয়োগ করতে পারবেন।

মিরার এখন নাটোর জেলায় ১৪৮ জনের কৃষক ইউনিয়ন রয়েছে, যারা তার উদ্যোগ থেকে সরাসরি সুবিধা পাচ্ছে। এই ১৪৮ জন কৃষকও এ এলাকার উন্নয়নে সহায়তা করছেন। তাদের একটি নন ফরমাল লিটারেসি সেন্টার রয়েছে, যেখানে তারা বেসিক শিক্ষা পাচ্ছে। এগুলি ছাড়াও বর্তমানে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

অনির্দিষ্টকালের বন্ধ সিলেটে সব পেট্রোল পাম্প
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
সংসদ থেকে ওয়াক-আউট, যা বললেন বিরোধীদলীয় নেতা
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
স্বামীর কাছে যাওয়ার আগের দিন ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল গৃহবধূর লাশ
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
ব্যক্তি উদ্যোগে মহাসড়ক থেকে ময়লার স্তুপ অপসারণ
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি অফিস সূচি পরিবর্তনের বিজ্ঞপ্তিটি ভু…
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
দেশের ৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence