ল্যাবে পুড়েছে আইসি, রাত জেগে পড়াশোনা—সিফাতের ডিনস অ্যাওয়ার্ড জয়ের গল্প

সৈয়দ সিফাত আহমেদ

সৈয়দ সিফাত আহমেদ © টিডিসি সম্পাদিত

১০ মে ২০২৫ সিলেট থেকে মাত্র একদিন আগে বাসায় ফিরেছেন সৈয়দ সিফাত আহমেদ। মাস্টার্সের ল্যাবের কাজ শেষ করে আবার ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ঠিক তখনই ফোনের নোটিফিকেশন। পাবিপ্রবি ইইসিই বিভাগের চেয়ারম্যানের মেসেজ ডিনস অ্যাওয়ার্ড-২০২৪ এর চূড়ান্ত তালিকায় চার নম্বরে তার নাম। আলহামদুলিল্লাহ মুখ থেকে অজান্তেই বেরিয়ে এলো কৃতজ্ঞতার শব্দ।

বাবা-মায়ের চোখে আনন্দের অশ্রু দেখে সেই মুহূর্তে পৃথিবীর সব সুখ যেন ফিকে হয়ে গেল। ১৩ মে ২০২৫, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ডিনস অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ভাইস চ্যান্সেলর ও ডিনের হাত থেকে ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট তুলে নেওয়ার সময় সৈয়দ সিফাত আহমেদের চোখের সামনে ভেসে উঠছিল ল্যাবে পোড়া আইসির গন্ধ, রাত জেগে থ্রি-ফেজ সার্কিট বোঝার সংগ্রাম আর ৫-বি-১ মেসের একাকী রাতগুলো।

সাধারণ ছেলের অসাধারণ যাত্রা
২০১৭ সালে পাবিপ্রবির ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইসিই) বিভাগে ভর্তি হন সৈয়দ সিফাত আহমেদ। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। চোখে স্বপ্ন, বুকে সংশয়। প্রথম সেমিস্টারে ৩.৭৪ পেয়ে নিজের ওপরই অসন্তুষ্ট হয়ে পড়েন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় তার পড়াশোনার স্টাইল বদলানোর অভিযান।প্রতিদিন ক্লাস শেষে মেসে ফিরে টেক্সটবুক, রেফারেন্স বই আর ইন্টারনেট ঘেঁটে প্রতিটি থিওরির কেন ও কীভাবে খুঁজতেন। নিজের ভাষায় সহজ করে, রঙিন কলমে নোট তৈরি করতেন। এই নোট খাতাগুলোই পরীক্ষার আগে হয়ে উঠত তার আলাদিনের চেরাগ। পরীক্ষার খাতায় জটিল বিষয় পয়েন্ট আকারে, স্পষ্ট ডায়াগ্রাম এঁকে লেখার কৌশল তাকে বারবার এগিয়ে রেখেছে।

কঠিন ইঞ্জিনিয়ারিং জীবন ও ব্যালেন্স 
ইইসিই-এর কঠিন কোর্স, ল্যাবে সার্কিট না মেলা, আইসি পুড়ে যাওয়া, রাত জেগে অ্যাসাইনমেন্ট  এসবই ছিল তার দৈনন্দিন সঙ্গী। তবু তিনি কখনো ক্লাস মিস করতেন না। সব মিলিয়ে পুরো বি.এসসি. জীবনে মাত্র ১০টি ক্লাস মিস করেছেন হয়তো। সিআর হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বন্ধুদের সাথে গ্রুপ স্টাডি, টং-এর চা-আড্ডা, ছাদে ক্রিকেট, পিকনিক সবকিছুর মধ্যেই রেখেছিলেন ভারসাম্য।

সিলেটের আরটিএম আল-কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের প্রভাষক সিলেট সৈয়দ সিফাত আহমেদ বলেন, ‘ইঞ্জিনিয়ারিং লাইফে শুধু পড়াশোনা নয়, ব্যালেন্স খুব জরুরি। কিন্তু সেই ব্যালেন্স যেন পড়াশোনাকে নষ্ট না করে।’

চতুর্থ বর্ষে লিটন স্যারের তত্ত্বাবধানে মাইক্রোওয়েভ অ্যান্টেনা নিয়ে থিসিস করতে গিয়ে তার রিসার্চ জার্নি শুরু হয়। স্যারের অনুপ্রেরণায় একাধিক রিসার্চ পেপার প্রকাশ করেন তিনি। সর্বশেষ সিজিপিএ ৩.৮৪ নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

বর্তমান ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন
বর্তমানে সৈয়দ সিফাত আহমেদ সিলেটের আরটিএম আল-কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ইইই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। একই সাথে রুয়েটে এম.এসসি. (ইইই) সম্পন্ন করছেন। তার পরবর্তী লক্ষ্য বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করা। এজন্য ইতোমধ্যে আইইএলটিএস-জিআরই প্রস্তুতি, আন্তর্জাতিক জার্নালে পেপার প্রকাশ এবং প্রফেসরদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

জুনিয়রদের উদ্দেশে বার্তা 
অনুষ্ঠান শেষে জুনিয়রদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রথম সেমিস্টার থেকেই সিরিয়াস হোন। ল্যাবকে ভয় পাবেন না, এখানেই আসল ইঞ্জিনিয়ারিং শেখা হয়। প্রতিদিন অল্প করে পড়ুন। শুধু সিজিপিএ নয়, প্রবলেম সলভিং, কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিস ও টেকনিক্যাল স্কিলও তৈরি করুন।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড কখনো হঠাৎ আসে না। এটা প্রতিদিনের ধারাবাহিকতা, শৃঙ্খলা ও নিজের সাথে যুদ্ধ জয়ের ফল।’

সৈয়দ সিফাত আহমেদের এই সাফল্য শুধু একজন শিক্ষার্থীর নয়, বরং অধ্যবসায়ী প্রতিটি তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা। তার গল্প বলে  স্বপ্ন যদি খাঁটি হয় এবং চেষ্টা যদি অব্যাহত থাকে, তবে সাফল্য একদিন ঠিকই দরজায় কড়া নাড়বে।

ভাড়া বাসা থেকে কলেজছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার কুয়েটে যাচ্ছেন শিক্ষামন্ত্রী
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
শরীর ভালো মানেই সব ঠিক কি? স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে ১১ ভুল ধা…
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
বিদেশি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপে বিধিনিষেধ জারি করল যুক্তর…
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
ল্যাবে পুড়েছে আইসি, রাত জেগে পড়াশোনা—সিফাতের ডিনস অ্যাওয়ার্…
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬
দুপুরের মধ্যে ১১ জেলায় ঝড়ের আভাস
  • ২৯ আগস্ট ২০২৬