পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন-৩ © টিডিসি
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) একাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় দুই শিক্ষার্থীকে একটি কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার অভিযোগ তুলে ৫০ হাজার টাকা দাবি, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ ছিনিয়ে নেওয়ার পাল্টা অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীদের একজনকে মারধর ও জোর করে ভিডিও ধারণের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ ওঠা শিক্ষার্থীরা হলেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের ফয়সাল ও রাসেল এবং আর্কিটেকচার বিভাগের শোয়েব, প্রান্ত ও তৈকি।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাতটার দিকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ হিরণ ও ঋতু সরকার একাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় ডিন অফিসের অব্যবহৃত একটি কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ করেন শোয়েব, ফয়সাল, রাসেলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী।
তবে ওই রাতেই ঘটনার পর ফয়সাল আহমেদ হিরণ নিজেই বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে অবহিত করেন। এ সময় তিনি ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি এবং তার ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন।
বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ওই রাতেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। মোবাইল ফোন নেওয়ার বিষয়টি শোয়েব স্বীকার করলেও ল্যাপটপ নেওয়ার বিষয়টি কেউ স্বীকার করেননি। মধ্যরাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ চলে। ল্যাপটপ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও পরদিন সকালে আনসার সদস্যের মাধ্যমে ল্যাপটপটি প্রক্টর অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ফয়সাল আহমেদ হিরণের অভিযোগ, তাদের দুজনকে কক্ষের বাইরে থেকে আটকে রাখা হয় এবং তাকে জোর করে ভিডিওতে কথা বলতে বাধ্য করা হয়। এ সময় তাকে মারধরও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হিরণ বলেন, ‘আমরা কোনো খারাপ উদ্দেশ্যে সেখানে যাইনি। একাডেমিক কাজের জন্য ল্যাপটপ নিয়ে ডিন অফিসের নিরিবিলি একটি কক্ষে বসে কাজ করছিলাম। এ সময় শোয়েব, ফয়সাল, রাসেলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে কক্ষটি বাইরে থেকে আটকে দেন। পরে তারা আমাকে জোর করে ভিডিওতে কথা বলতে বাধ্য করেন এবং মারধর করেন।’
আরও পড়ুন: ১৮তম নিবন্ধনের সুপারিশ না পাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে যা বলছে এনটিআরসিএ
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘একপর্যায়ে তারা আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। এরপর প্রান্ত আমার ল্যাপটপটি তার ব্যাগে ঢোকান। কিন্তু ব্যাগটি ছোট হওয়ায় পরে ল্যাপটপটি তৈকির ব্যাগে রাখা হয়। এরপর আমাকে বলা হয়, এক দিনের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এসব নিয়ে যেতে। এ সময় আমার মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়।’
অন্যদিকে অভিযুক্তরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল বলেন, ‘ল্যাপটপ আর টাকা চাওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তারা রুমে বন্দি অবস্থায় থাকার সময় আমি সেখানে যাই। তবে ফোনটি শোয়েব রেখেছিল। সে শুধু বলেছিল, আমার রুমে এসে দেখা করে ফোন নিয়ে যেতে।’
অভিযুক্ত শোয়েবও টাকা দাবি করার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘সেখানে তাদের কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা দাবি করা হয়নি। ফোনটি নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়েছিলাম, যা আমার ভুল ছিল। তবে তাদের কোনো ল্যাপটপ নেওয়া হয়নি। তাদের আপত্তিকর অবস্থায় থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ রয়েছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘ল্যাপটপটা আমার অফিসে সিকিউরিটি মাধ্যমে আমার দপ্তরে দিয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’