© সংগৃহীত
গত ২৪ নভেম্বর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ময়লার গাড়ির ধাক্কায় গুরিস্থানে নটরডেম কলেজের শিক্ষার্থী নাঈম হাসানের নিহতের পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে গেল কয়েকদিন ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চলছে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। এদিকে, গত ২৯ নভেম্বর রাতে রামপুরায় বাসচাপায় একরামুন্নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র মাইনুদ্দিন নিহত হওয়ার পর সেখানে আন্দোলন করছে একদল শিক্ষার্থী। সেই আন্দোলনে সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস নামের এক তরুণীকে নিয়ে শুরু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়েছে নানা আলোচনা।
আরটিভির ফেসবুক পেজে একটি ভিডিওটি আপলোডের পর পরই সেটি ছড়িয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। আরটিভির পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইউনিফর্ম থাকলেই স্টুডেন্ট নয়!’

এই ক্যাপশন কেন্দ্র করে বেশ কিছু ফেসবুক ব্যবহারকারী দাবি করেছেন, পুলিশের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়ানো দুই কিশোরী ‘শিক্ষার্থী’ নন। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইউনিফর্ম পরে আন্দোলনে উস্কানি দিচ্ছেন। তাদের দাবি, সোহাগী একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী। শিক্ষার্থী আন্দোলন স্থগিত করলেও স্কুলের ইউনিফর্ম পরে রাস্তায় নেমে উস্কানি দিচ্ছেন সোহাগী।
তবে এটি পুরোটা ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন সোহাগী। তিনি বলেন, আমার কাছে আইডি কার্ড আছে। আমি রাজধানীর খিলগাঁও মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরিক্ষার্থী।

জানা যায়, রামপুরা ব্রিজের ওপর আজ শনিবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার পরপরই অবস্থান নেয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা লাল কার্ড উঁচিয়ে সড়ক ও পরিবহন খাতের লুটপাট আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সোহাগী সামিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সড়কে দুর্ঘটনায় পুরো সিস্টেম জড়িত। এই সিস্টেমে ঘুষ আছে, লুটপাট আছে। এর সঙ্গে জড়িত সরকারি-বেসরকারি লোক। এই লুটপাট ও দুর্নীতিকে আজ আমরা লাল কার্ড দেখাচ্ছি।
এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নিজেদের ‘রেফারি’ দাবি করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা জানায়।
এদিকে, সোহাগী ইস্যুতে কথা বলেছেন খোদ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তার দাবি, রামপুরায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পেছনে একটি রাজনৈতিক দলের ইন্ধন আছে।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আজ সকালে সড়ক নিরাপত্তা ও গণসচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সড়ক নিরাপত্তামূলক রোড শোতে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
কাদের বলেন, রাজনৈতিক দল থেকে শিক্ষার্থীদের উসকানি দেয়া হয়। সেটার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। এর ভিডিও ফুটেজ আছে। এটা একটা রাজনৈতিক দলের মহানগরের মহিলা নেত্রী রামপুরায় রাস্তায় নেমে ছাত্র-ছাত্রীদের উস্কানি দিচ্ছেন, স্কুলের ড্রেস পরে।
মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের জবাবে সোহাগী বলেন, আমাদের অনেক সৌভাগ্য আমরা এত দিন ধরে আন্দোলন করছি, এই আন্দোলনকে বিব্রত করার জন্য তিনি মুখ খুলেছেন। তার যে এখানে নজর এসেছে, এ কারণে আমরা ধন্য।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে যে চর্চা চলছে, তার পুরোটা ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন সোহাগী।
তিনি বলেন, আমি নাকি ছাত্রী না, আমি নাকি ৩০ বছরের একটি মহিলা। আমি নাকি স্কুল ড্রেস পরে শিক্ষার্থীদের উসকানি দিচ্ছি। প্রথমে বলতে চাই, আমাদের ছাত্ররা রোবট না। তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব চিন্তাভাবনা আছে। দ্বিতীয়ত, আমি ৩০ বছরের মহিলা নই। আমার কাছে আইডি কার্ড আছে। আমি যে একজন ছাত্রী তার সব প্রমাণ আমি এখানে হাজির করেছি।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিষ্কার করেন আন্দোলনকারী এই শিক্ষার্থী। বলেন, আমি বুক ফুলিয়ে বলছি, আমি ২০১৭ সাল থেকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট করি। আমি ঢাকা মহানগরের দপ্তর সম্পাদক। প্রশ্ন এখানে না, আমি এ দেশের একজন নাগরিক। আমার সংগঠন করার অধিকার রয়েছে।
‘প্রশ্ন হচ্ছে এটা যে, আমি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু এখানে টেনে এনেছি কি না। আমি শুরু থেকেই এই আন্দোলনে যুক্ত। আমার কোনো স্লোগান, আমার কোনো বক্তব্যে কোনো রাজনৈতিক ইস্যু আনিনি, সেটা সবাই জানে।’
এ সময় সোগাহী নিজের পরিচয়পত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমি আমার আইডি কার্ড আপনাদের সামনে শো করছি। আমি খিলগাঁও মডেল কলেজ থেকে এইচএসসি পরিক্ষার্থী।’ বেলা ১টা ১০ মিনিটে অবস্থান তুলে নেয় আন্দোলনকারীরা।