সভাপতি পদে লড়াই হবে শ্রাবণের সাথে

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৭:৫৪ PM

জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির সহযোগী ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের আসন্ন ৬ষ্ঠ কাউন্সিল উপলক্ষে সংগঠনটির তৃণমূলে সাড়া পড়েছে। প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন করা হবে- এমন সিদ্ধান্তে পদপ্রত্যাশী নেতারাও চষে বেড়াচ্ছেন সারাদেশ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ, সাংগঠনিক দক্ষতা ও কর্মসূচিতে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে রয়েছে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির বৃত্তি ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ।

এবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ পদে তথা সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ২৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে সভাপতি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ৯ জন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ১৯জন। এর মধ্যে সভাপতি পদের জন্য শ্রাবণ ছাড়াও লড়ছেন হাফিজুর রহমান, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, রিয়াদ মো. তানভীর রেজা রুবেল, মোঃ এরশাদ খান, মোঃ ফজলুর রহমান খোকন, এসএম সাজিদ হাসান বাবু, এবিএম মাহমুদ আলম সরদার এবং মোহাম্মদ মামুন বিল্লাহ (মামুন খান)।

জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির একাধিক নেতা এবং ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবার সভাপতি পদে এগিয়ে রয়েছেন কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ। এ পদের বিপরীতে অন্য প্রার্থীদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তার সাথে। এ পদে আরো কয়েকজনের নাম শোনা গেলেও মেধা, রাজনৈতিক দক্ষতা, যোগ্যতা, ত্যাগ এবং পরিশ্রমের প্রতিযোগিতায় সবাইকে পিছনে ফেলে শীর্ষপদ বাগিয়ে নিতে পারেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির বৃত্তি ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক শ্রাবণ।

এদিকে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতা বলেন, শ্রাবণ দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ছাত্রদল কর্মী হলেও তার বাবা-চাচাসহ পরিবারের অনেক সদস্য আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এটি তাকে ব্যাকফুটে ফেলে দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে দলের প্রতি নিবেদনের ফলে সে পরীক্ষায় তিনি ইতোমধ্যে উৎরে গেছেন। আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান হয়েও দলের প্রয়োজনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে।  বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বও তার প্রতি আস্থাশীল।

জানা যায়, শ্রাবন ২০০১ সালে এসএসসি এবং ২০০৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষা পাস হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। সেসময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলের ছা্ত্র ছিলেন। বাংলা বিভাগ থেকেই অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে বর্তমানে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের (২০১৮-১৯ সেশন) মাস্টার্সে (সান্ধ্যকালীন) অধ্যয়নরত।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা কাজী রফিকুল ইসলাম এবং কাজী রশিদা ইসলাম দম্পতির ছেলে কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের গ্রামের বাড়ি যশোর জেলার কেশবপুর থানায়। ছাত্ররাজনীতি এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের প্রতি ভালবাসা থেকে কলেজ জীবনেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন শ্রাবণ। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হন। বিগত ১/১১, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের কর্মসূচিতে সামনের সারিতে দেখা যায় শ্রাবণকে।  

সংগঠনের প্রতি দায়িত্ব পালনে মাঠে থেকেছেন সবসময়। মারধরের শিকার হয়ে পা ভেঙে অসুস্থ ছিলেন। রাজনৈতিক মামলায় খেটেছেন কারাবাস। এ পর্যন্ত ২৬টি রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়েছেন তিনি। যা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ছাত্রদল নেতাদের মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির শীর্ষ নেতা জানান, বিগত সময়ে মাঠের পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে শ্রাবণকে সভাপতি করার ব্যাপারে দলের হাইকমান্ড ইতিবাচক। ছাত্রদলের সাবেক কয়েকজন সিনিয়র নেতাও পরোক্ষভাবে শ্রাবণের পক্ষে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির অন্য এক সূত্র জানায়, সভাপতি পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদারের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সুবিধাজনক স্থানে আছেন শ্রাবণ। তিনি একদিকে যেমন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু গ্রুপের একক প্রার্থী।এছাড়া সাংগঠনিক কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে প্রায় সব অঞ্চলের কাউন্সিলরদের মধ্যে নিজের চৌকস নেতৃত্ব গুণ প্রমাণ করতে পেরেছেন।

ছাত্রদলের সাবেক এক নেতা বলেন, আমাদের যেকোনো কর্মসূচীতে শ্রাবণের সরব উপস্থিতি ছিলো। স্লোগানে স্লোগানে আমাদের শক্তি যোগাতেন তিনি। দলের জন্য জেল খেটেছেন। এখনো মামলার ঘানি টানছেন। তার ত্যাগের প্রকৃত মূল্যায়ন হবে বলে আশা করছি।

নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ছাত্রদলের প্রতিটি শাখার শীর্ষ পাঁচজন নেতা ভোট দিতে পারবেন। সংগঠনটির ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের ১১৬ শাখায় মোট ৫৬৬ জন ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের ৯ শাখায় ৪৫ ভোট, ঢাকা বিভাগের ২৯ শাখায় ১৩৮ ভোট, চট্টগ্রাম বিভাগের ১২ শাখায় ৫৮ ভোট, কুমিল্লা বিভাগের ছয় শাখায় ৩০ ভোট, খুলনা বিভাগের ১৪ শাখায় ৭০ ভোট, ময়মনসিংহ বিভাগের ৯ শাখায় ৪৫ ভোট, রাজশাহী বিভাগের ১১ শাখায় ৫২ ভোট, সিলেট বিভাগের সাত শাখায় ৩৫ ভোট, রংপুর বিভাগের ১৩ শাখায় ৬৩ ভোট ও ফরিদপুর বিভাগের ছয় শাখায় ৩০ ভোট রয়েছে।

প্রচারণা বিষয়ে কথা বললে শ্রাবণ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, ইতোমধ্যে সিলেট, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ এবং ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগে প্রচারণা চালিয়েছেন। রবিবার জয়পুরহাটে প্রচারণা শুরু করেছেন জানিয়ে শ্রাবণ বলেন, বাকি দিনগুলোর মধ্যেই আশা করছি প্রচারণা শেষ করে ফেলবো।

কাউন্সিল নিয়ে নিজের প্রত্যাশা কী জানতে চাইলে শ্রাবণ বলেন, আসলে নিজের মূল্যায়ণ নিজে করা যায় না। বিগত সময়গুলোতে দলের আদর্শ ও নেতৃত্বের প্রতি ডেডিকেশন বেশি ছিল। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছে। তবে সব মিলিয়ে নেতৃত্বগুণ ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি-নিবেদন বিবেচনায় নিয়ে কাউন্সিলররা এবং সামগ্রিকভাবে দল আমাকে সভাপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ দেবে বলে আমি আশাবাদী।

ট্যাগ: ছাত্রদল
আপনি মুহসিন হলের ভাইদেরকে সময় বেশি দিচ্ছেন: সংসদে ডেপুটি স্…
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
টোকিওতে বৈশাখী মেলায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন ড. সবুর …
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
লিজেন্ড অব রূপগঞ্জে লিটন-মিরাজ, লক্ষ্য শিরোপা খরার অবসান
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
মাদ্রাসায় টিকটক, অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি দিল শিবির
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
নতুন আরেকটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ 
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬
বাসে ৬৪ শতাংশ, লঞ্চে দেড় গুণ ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব
  • ১৯ এপ্রিল ২০২৬