ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির © টিডিসি সম্পাদিত
রাজধানীর আলিয়া মাদ্রাসা ও হাসপাতালে হামলার ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নয় বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
নাছির উদ্দীন বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কারও ওপর হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। আলিয়া মাদ্রাসায় হামলার ঘটনাতেও ছাত্রদল জড়িত নয়। কেউ হামলা করে থাকলে তার পরিচয় ও সংশ্লিষ্টতা তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সূত্রপাত হয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সেখানে ছাত্রশিবিরের একটি পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের ছবি সংবলিত কর্মসূচির পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছবিও রাখা হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছবিটি সরিয়ে রাখার অনুরোধ করলে শিবিরের নেতাকর্মীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। তখন পেছন থেকে শিবিরের এক কর্মী ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে অ্যাসিড নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এরপরই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
নাছির উদ্দীন আরও বলেন, ওই ঘটনার পর রংপুর জেলা ও মহানগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে সংঘাতে জড়ান। এমনকি হামলার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কেউ কেউ এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বনির্ধারিত জুলাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে ইউজিসির চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ছাত্রশিবির বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীকে দিয়ে করানোর দাবি তোলে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজ কার মাধ্যমে হবে, সেটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিজস্ব এখতিয়ার। এ বিষয়ে ছাত্রদলের কোনো স্বার্থ নেই এবং শিবিরেরও এভাবে বিষয়টি নিয়ে সংঘাত তৈরির সুযোগ নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, পূর্বনির্ধারিত ওই কর্মসূচিকে বানচাল ও পরিস্থিতিকে জটিল করার উদ্দেশ্যেই শিবিরের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি করা হয়েছে। একপর্যায়ে সংঘর্ষের সময় আহত ব্যক্তিরা চিকিৎসা নিতে গেলে চিকিৎসাকেন্দ্রেও হামলার ঘটনা ঘটে।
হাসপাতালে হামলার ঘটনায় ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নাছির উদ্দীন বলেন, এ ঘটনায় ছাত্রদলের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। একইভাবে আলিয়া মাদ্রাসায় হামলার ঘটনাতেও ছাত্রদল জড়িত নয়। বরং সেখানে ছাত্রশিবির প্রথমে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহকে নির্মমভাবে মারধর ও কোপানো হয়েছে। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও শিবিরের শীর্ষ নেতাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে। তাই এসব ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।