গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি

শহীদ মিনারে ছাত্রদলের ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ কর্মসূচি

০১ জুলাই ২০২৬, ০১:৪২ AM
শহীদ মিনারে ছাত্রদলের ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ কর্মসূচি

শহীদ মিনারে ছাত্রদলের ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ কর্মসূচি © টিডিসি ফটো

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বুধবার (১ জুলাই) রাত ১২টায় প্রথম প্রহরে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টা থেকে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে থাকেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই আলো শুধু সাময়িক অন্ধকার দূর করার জন্য নয়। এটি ভুবন ভরা আলো। জুলাইয়ের স্মৃতি আমাদের আলোকিত করবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তি জোগাবে।

তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল শুভ সময়ে জন্ম নেয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তারা দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথ চলেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই দীর্ঘ আন্দোলনেরই শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।

আবেগঘন বক্তব্যে রিজভী বলেন, আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো বুক চিতিয়ে কীভাবে গুলি খেতে হয়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি। আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে তপ্ত বুলেট বরণ করতে দেখেছি। আমি প্রশান্ত মহাসাগর দেখিনি, কিন্তু আহাজাবের মায়ের চোখের জল দেখেছি। সেই অশ্রু প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়েও গভীর।

তিনি বলেন, শহীদদের স্মৃতি শুধু একটি দিনের জন্য নয়, একটি মাসের জন্যও নয়। তাদের স্মৃতি আমাদের প্রতিদিন জাগিয়ে রাখবে, যেন আর কোনো স্বৈরাচার, অগণতান্ত্রিক শক্তি বা ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান না ঘটে।

রিজভী আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ পরাজিত হয়েছে, কিন্তু তার অবশিষ্টাংশ এখনো সমাজের নানা জায়গায় রয়েছে। তাই ছাত্রসমাজকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে। ইতিহাস বলে, ছাত্রসমাজ কখনো ঘুমায় না।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া হাজারো ছাত্র-জনতা এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ১৪২ জন নেতাকর্মী ও সমর্থকের স্মরণে আমরা এই কর্মসূচি পালন করছি। প্রতিবছরই এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে সারাদেশে যারা গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়া হবে না। ছাত্রদল বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবসময় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আমানউল্লাহ আমান বলেন, গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি রক্ত দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্যাতনের পরও দেশের স্বার্থে আমরা কখনো আপস করিনি।

তিনি আরও বলেন, জুলাইকে কোনো ব্যবসার উপকরণ হতে দেওয়া হবে না। এই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় মূল্য দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বাংলাদেশ চলবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও সুশাসনের ভিত্তিতে। সবার আগে বাংলাদেশ—এই নীতিই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

মাদ্রাসাছাত্রকে অপহরণের দায়ে যুবকের ৫ বছর কারাদণ্ড
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
বাবার মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো মাঠে নামলেন মেসি
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
পে-স্কেল নিয়ে শেষ হলো সচিব কমিটির সভা, যেসব সিদ্ধান্ত আসল
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থীর নাম জানা যাবে আজ
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
হাসান মাহমুদের আগুনে বোলিং, সাজঘরে ফিরলেন হেডও
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬
ঢাবি থেকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে মাইগ্রেশন নিয়ে শিক্ষার্থ…
  • ১৩ আগস্ট ২০২৬