ফেসবুক লাইভে কাঁদছেন আহসান উল্লাহ নয়ন © ভিডিও থেকে নেওয়া
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ৩১১ সদস্যবিশিষ্ট নবগঠিত কমিটিতে পদ না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ আকন্দ সাব্বির, আহসান উল্লাহ নয়নসহ বেশ কয়েজন জন নেতাকর্মী। পদবঞ্চিত অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজেদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন, যা ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটিতে পদ না পেয়ে ফেসবুকে লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন আহসান উল্লাহ নয়ন নামে এক কর্মী। ২০২৩ সালে নৌবাহিনীতে চাকরি নিশ্চিত হওয়ার পরও পুলিশ ভেরিফিকেশনে ছাত্রদলের বিভিন্ন পোস্টার দেখানোয় তিনি চাকরি হারান বলে দাবি করেছেন।
শনিবার (২ মে) রাত ১১টার দিকে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের কমিটি প্রকাশের পর বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে এসে অঝোরে কাঁদেন নয়ন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি স্থানীয় ভাবখালী ইউনিয়নের মো. আব্দুল হাইয়ের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তিনি।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নয়নকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা নিরাশ ছিলাম, এখনো নিরাশই রইলাম। ৫ আগস্টের পর লোক এনে কমিটিতে বসানো হয়েছে। আমরা এতদিন আন্দোলন-সংগ্রাম, হরতাল করে কমিটিতে আসতে পারলাম না। আপনারা যেটি করেছেন, তা ঠিক হয়নি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে অসংখ্য ছবি থাকার পরও তাদের কমিটিতে জায়গা দেওয়া হয়েছে। আর আমরা জীবন-যৌবন সবকিছু এ ছাত্রদলের জন্য ব্যয় করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছাত্রদল করার কারণে নৌবাহিনীর চাকরি থেকেও বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের জঙ্গি তকমা দেওয়া হয়েছে। আমরা সবকিছু ছেড়ে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন করেছি, কিন্তু কমিটিতে আমাদের রাখা হয়নি। শিক্ষাজীবনসহ সবকিছু দিয়েও যদি দলীয় পরিচয় না পাই, তাহলে বেঁচে থাকার অধিকারই বা কোথায়?’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, ‘২০২৩ সালে নৌবাহিনীতে চাকরি নিশ্চিত হয়েছিল। আমরা দুজন টিকেছিলাম। পরে পুলিশ ভেরিফিকেশনে এলাকায় আমার ছাত্রদলের পোস্টার দেখানো হলে ১৩ দিনের মাথায় আমাকে চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়।’
আরও পড়ুন: দেশে এলো যুক্তরাষ্ট্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী লিমনের মরদেহ
একই সময়ে মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ আকন্দ সাব্বির তার ফেসবুক পোস্টে কমিটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো সমন্বয় ছাড়াই একতরফাভাবে কমিটি গঠন করেছেন। সুপার ফাইভের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সংগঠনের নিয়মবিরোধী।
তিনি অভিযোগ করেন, কমিটিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি যোগ্যতা ও সিনিয়রিটি উপেক্ষা করে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে কথা ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজের মোবাইল ফোন নম্বরে একাধিকবার কলা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রুকন বলেন, ‘আহসান উল্লাহ নয়ন ছাত্রদলের একজন ত্যাগী কর্মী। ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হলে এটি আরও সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী হতো।’
শনিবার (২ মে) রাত ৯টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে ৩১১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি এবং মো. রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।