বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের

২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৮:৫৫ AM , আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৫, ১২:০০ PM
স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদ

স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদ © ফাইল ছবি

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত ও ছিনতাইমূলক কাজ’র নিন্দা জানিয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদ। শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এমন বার্তা দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের না জানিয়ে একাধিক নেতাকে বিভিন্ন দায়িত্ব দেওয়ায় এ প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা। 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজনীতিতে নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, সৌজন্যতাবোধ ও শিষ্টাচার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে ৫ আগস্টে যে নতুন বাংলাদেশের সাক্ষী আমরা হয়েছি, সেখানে একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ‘জেন্টলম্যান পলিটিক্স’ চর্চার একটা নবধারার সূচনা হবে বলে প্রত্যাশা ছিল আমাদের। আমরা আশা করেছিলাম জুলাই অভ্যুত্থানের সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ব্যানার যেমন দলমত নির্বিশেষে সবার ব্যানারে পরিণত হয়েছিলো, বিজয়ের পর সেটি আরো শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের হাতিয়ার হয়ে উঠবে। 

এই ব্যানারে এমন একটি রাজনীতির সূচনা হবে, যেটি পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বন্দোবস্তকে নাকচ করে প্রত্যাশিত রাজনৈতিক সংস্কারের পথকে সুগম করবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, অতীব দুঃখের বিষয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারটি দিন দিন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সংগঠনে পরিণত হয়ে গেল। উপরন্তু তারা এমন কোনো রাজনীতির রূপরেখা জাতির সামনে হাজির করতেও ব্যর্থ হলো, যেটা আমাদেরকে তাদের সাংগঠনিক আনুগত্যের প্রতি আকৃষ্ট করবে। 

এর ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন দলের লোকজন তাদের নিজ-নিজ গণ্ডিতে ফিরে যায় এবং আবারো একটা রাজনৈতিক শূন্যতার পরিস্থিতি তৈরি হয় ক্যাম্পাসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্ভব ঘটে। যার মধ্যে অন্যতম ছিলো স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৯ নভেম্বর ৩০ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ক্যাম্পাসভিত্তিক এক্টিভিজমের নতুন প্লাটফর্ম স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদ। আত্মপ্রকাশের পর থেকে আমরা ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শিক্ষার্থীবান্ধব কর্মসূচি পালন করে আসছিলাম। একটা চমৎকার বোঝাপড়ার মাধ্যমে সাংগঠনিক কার্যক্রম দিয়ে সবার দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হই আমরা। যার ফলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রলোভন ও নানান প্রস্তাবও পেতে থাকি আমরা। 

আরো বলা হেয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকেও যোগাযোগ করা হচ্ছিল আমাদের বিভিন্ন জনের সঙ্গে।  এটা রাজনৈতিক শিষ্টাচার পরিপন্থী কাজ হলেও বিদ্যমান সময়ে রাজনৈতিক কেনা-বেচার যে সংস্কৃতি চলছে, সে হিসেবে অস্বাভাবিক কিছুও মনে হয়নি। এরই মধ্যে গত ৮ জানুয়ারি বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিষয়ক বিশেষ সেল’ নামে একটি সাংগঠনিক উইং ঘোষণা করে, যার প্রধান হিসেবে ঘোষণা করা হয় স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের সদস্য সচিব হাসান ইনামের নাম। 

অথচ এটি করার আগে হাসান ইনাম তার সংগঠন অর্থাৎ স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্রসংসদের সদস্য সচিবের পদ থেকে ইস্তফা দেয়নি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকেও আমাদের সাথে কোনোরূপ যোগাযোগ করা হয়নি। এছাড়াও তারা স্বাধীন বাংলাদেশ ছাত্র সংসদের সদস্য সাইদুর রহমান সোহাগকে এ সেলের আওতাধীন ডকুমেন্টেশন টিম এবং জাকি হাসান ইফতিকে শিক্ষানবিশ আইজীবী টিমের সদস্য হিসেবে ঘোষণা করে। যার মধ্যে জাকি হাসান ইফতি আমাদেরকে জানায় যে, তাকে ব্যক্তিগতভাবেও জানানো হয়নি তার নাম যে ঘোষণা করা হবে।

আরো পড়ুন: প্রকাশ্যে গুলি করে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে হত্যা

অবগত হওয়ার পর তৎক্ষণাৎ সে তার নাম প্রত্যাহারের জন্য বলে দেয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলকে। এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এমন হীন রাজনৈতিক খেলা শুধু আমাদের সাথেই খেলেছে, এমনটা নয়। আরো কয়েকটি সংগঠন থেকেও একই অভিযোগ আমরা শুনতে পেয়েছি। তথাপি আমরা গণঅভ্যুত্থানের মৌলিক ব্যানারের মর্যদার কথা চিন্তা করে ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছিলাম। আশা ছিলো অন্তত রাজনৈতিক সৌজন্যতাটুকু হলেও দেখাবে আমাদের সাথে। আন-অফিসিয়ালি হলেও দুঃখ প্রকাশ করবে এই ধরনের রাজনৈতিক ছিনতাই ও দখলদারিত্বমূলক আচরণের জন্য। 

কিন্তু দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এমন কোনো কিছুই আমরা তাদের থেকে দেখতে পেলাম না। যেটা প্রমাণ করে যে, তারা নিজেদেরকে নতুন বাংলাদেশের রাজনীতির একমাত্র ঠিকাদার হিসেবে কল্পনা করে। যার কারণে ভিন্ন সংগঠনের দায়িত্বশীল কাউকে নিজেদের সংগঠনে পদায়িত করার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কোনো নিয়মনীতি ও সৌজন্যতার তোয়াক্কা তাদের করতে হয় না।

এ ধরনের রাজনীতিই যদি চলতে থাকে এবং ‘জোর যার মুল্লুক তার’ ধরণের পুরোনো নষ্ট রাজনৈতিক চর্চাই যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানের কোনো অর্থ আর বাকি রইল না উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুধু লোক পরিবর্তন হয়েছে, এক্টর নতুন এসেছে, মঞ্চ ও নাটক সব আগেরটাই রয়ে গেছে। এগুলো আমাদেরকে সংগঠন হিসেবেই শুধু আঘাত করেনি, ব্যক্তিগত জায়গা থেকেও পরিপূর্ণ আশাহত করেছে। আমরা এই রাজনৈতিক সংস্কৃতির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে ভবিষ্যতে আরো দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করছি।

নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশনে চাকরি, পদ ৬, আবেদন শেষ ৯ ফেব্র…
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
অবশেষে সাকিবের সঙ্গে আলোচনায় বিসিবি
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
মহিলা সমাবেশ জামায়াতের যুগান্তকারী মুভ, অপেক্ষায় জাকসু এজিএস
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
তাদের কথায় আমি ভীত: মির্জা আব্বাস
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
নির্বাচনে ৩৭ হাজার বিজিবি মোতায়েন থাকবে
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
সনদ জালিয়াতি করে বিসিএস পররাষ্ট্র ও প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি,…
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬