ঘ ইউনিটের প্রশ্নফাঁস

পুনরায় পরীক্ষার দাবিতে সরব সবপক্ষ, নীরব শুধু ছাত্রদল

১৯ অক্টোবর ২০১৮, ০৪:১২ PM
ঘ ইউনিটের ফল বাতিল ও পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ

ঘ ইউনিটের ফল বাতিল ও পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ © টিডিসি ফটো

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ দেশজুড়ে বইছে সমালোচনার ঝড়। এরই মধ্যে ফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি তুলেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট, ছাত্র ইউনিয়ন, বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, এমনকি সরকারি দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগও। এর বিপরীতে শুনসান নরীবতা লক্ষ্য করা গেছে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলে। অবশ্য প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় ব্যক্তিগতভাবে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সংগঠনের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

এক সপ্তাহ আগে গত ১২ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধীন ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নফাঁস হয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে পৌছে যায়। এ ঘটনায় শনিবার রাতে পুলিশ ৬ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের করা মামলাতেই প্রশ্নফাঁসের ঘটনা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। একইসাথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আক্তারুজ্জামান এবং ‘ঘ’ ইউনিটের সমন্বয়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিমের পদত্যাগের দাবি উঠেছে প্রগতিশীল ছাত্রজোট সহ বিভিন্ন থেকে। সবশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল বাতিল এবং উপাচার্যের পদত্যাগ চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

এ অবস্থায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনার তদন্তে উপ-উপচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। স্থগিত করা হয় ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার ফল ঘোষণা। তবে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের আগেই তড়িঘাড়ি করে গত মঙ্গলবার ‘ঘ’ ইউনিটের ফল ঘোষণা করেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান। এসময় সাংবাদিকদেও প্রশ্নের জবাবে প্রশ্নফাঁসের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, আগে দুইদিন আগে প্রশ্নফাঁস হতো, এবার পরীক্ষা শুরুর ঘন্টাখানেক আগে ফাঁস হয়েছে। এটাকে তার প্রশাসনের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

এদিকে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে জমা দিয়ে বুধবার উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর আগেই উত্তর শিক্ষার্থীদের হাতে চলে এসেছে। বিষয়টি এখন আর ধাপাচাপা দিয়ে লাভ হবে না।

সকল ইউনিটের পরীক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পান।  ‘ঘ’ ইউনিটের পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই ইউনিটে এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্বিগুন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। এবং ‘ঘ’ ইউনিটে যিনি প্রথম হয়েছেন তিনিসহ উত্তীর্ণদের শীর্ষ ১০০ জনের মধ্যে ৭০ জনের অধিক নিজ নিজ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করেছিলেন। অস্বাভাবিক এই ফলাফল প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়া ছাড়া সম্ভব নয় বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে ‘ঘ’ ইউনিটের ফল বাতিল করে পুনরায় ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনশন করেছেন আইন বিভাগের শিক্ষার্থী আখতার হোসেন। তার প্রতি সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছেন আইনবিভাগের শিক্ষার্থীরা। ফল বাতিলের দাবিতে ক্যম্পাসে বিক্ষোভ বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। একই দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল।

তবে শুরু থেকেই নীরবতা পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ক্যাম্পাস কিংবা রাজপথে সংগঠনটির আন্দোলন, সংগ্রাম অনেকটাই ইতিহাসের পাতায় ঠায় নিলেও যেকোনো ইস্যুতে গণমাধ্যমে প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাতো সংগঠনটি। তবে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সেটাও লক্ষ্য করা যায়নি। অবশ্য বিষয়টিতে ব্যক্তিগতভাবে সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের স্বোচ্চার দেখা গেছে। তবে সাংগঠনিকভাবে প্রতিবাদ কিংবা কোনো কর্মসূচি না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক ইজাজ শাহ দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদ ও ফল বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেয়ার দাবি সম্বলিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি ঢাবি ছাত্রদলের পক্ষ্য থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেটি পাওয়া যায়নি জানালে তিনি স্বীকার করেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে তাদের ই-মেইলটি সেন্ড হয়নি। এজন্য ব্যক্তিগতভাবে তিনি কোনো কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তা সরবরাহ করেছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী বলেন, দুইদিন আগে করা ওই ই-মেইলটি সেন্ড না হওয়ার বিষয়টি তাকে জানানো হয়নি।  তিনি বলেন, ‘ঘ’ ইউনিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি প্রমাণিত সত্য। ফল বাতিল করে নতুনকরে পরীক্ষা নিতে হবে। এই দাবিতে তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে কর্মসূচি পালন করবেন।  বাশার সিদ্দিকী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণের পর গতবছরের পর এবারও প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। বিষয়টি প্রমাণ হওয়া ও প্রতিবাদ, সমালোচনার পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। একই কারণে তিনি ভিসি আক্তারুজ্জামানের পাশাপাশি ‘ঘ’ ইউনিটের সমন্বয়ক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিমের পদত্যাগ দাবি করেছেন।

ফুলবাড়ীয়ায় মাদক কারবারিদের বাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ
  • ২৯ জুন ২০২৬
প্রত্যেকে একটি করে গাছ লাগাবে, ভাই-বোন জন্ম  নিলে তাদের নাম…
  • ২৯ জুন ২০২৬
পিকআপ-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল এসএসসি পরীক্ষার্থীর
  • ২৯ জুন ২০২৬
আমি সিলেটের মানুষ, প্রধানমন্ত্রী হাফ সিলেট, আমরা ওয়ান প্লাস…
  • ২৯ জুন ২০২৬
জাপানকে নিয়ে সতর্ক আনচেলত্তি—‘এটা ফাইনালের মতোই কঠিন ম্যাচ’
  • ২৯ জুন ২০২৬
নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ৪২তম অ্যাকাডেমিক কাউন্সিল সভ…
  • ২৯ জুন ২০২৬