ফের ৫ দফা বাস্তবায়ন চাইল কোটা আন্দোলনকারীরা

০২ অক্টোবর ২০১৮, ০৮:১৮ PM
পাঁচ দফা দাবিতে মঙ্গলবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানবন্ধন

পাঁচ দফা দাবিতে মঙ্গলবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানবন্ধন

কোটা বাতিলের সুপারিশ নিয়ে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের মধ্যেই মাঠে নামল আন্দোলনকারী। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে মঙ্গলবার জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানবন্ধন করেছে তারা।  মানববন্ধনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মাইদুল ইসলাম, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং কোটা ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলন থেকে আটককৃতদের মুক্তির দাবি জানানো হয় ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র ব্যানারে।

আন্দোলনকারীরা জানান, কোটা বাতিল নয়, আমরা পাঁচ দফার আলোকে সংস্কার চাইছি।  তারা বলেন, আমরা শুধু প্রথম শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য আন্দোলন করিনি।  আমরা সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি।  সে অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরের সঞ্চালনায় অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী বলেন, কোটা বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেনি। তারা কোটার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করেছে। কিন্তু এখন কোটা বাতিল করে শিক্ষার্থীদের উপর দায় ছাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা গণমাধ্যমেও স্পষ্ট হওয়া দরকার।  এদিকে যেসব শিক্ষক নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়িয়েছে, তাদেরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।  এ ধরনের দৃশ্য আমরা স্বৈরাচারী সরকারের আমলেও দেখিনি।  কিন্তু যে সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী, সে সরকারের আমলে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি।

quata-20180926125740

চাকরি প্রত্যাশী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা মিলে ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছে।

মানবন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.  সামিনা লুৎফা বলেন, আমরা যখনি দেখি, আমাদের শিক্ষার্থীরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। তখনি আমরা তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি। তাদের পাশে দাঁড়ানোর অপরাধে শিক্ষকদেরকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। চবির শিক্ষক মাইদুল ইসলাম নিপীড়িত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে।  যার জন্য সে এখন জেলে বন্দি হয়ে আছে।  আমরা তার অবিলম্বে মুক্তি দাবি করছি।  একই সাথে আলোকচিত্রী শহীদুল আলমসহ আন্দোলনে যেসব শিক্ষার্থী গ্রেফতার হয়েছে, তাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেন বলেন, ‘আন্দোলন থেকে যত শিক্ষার্থী গ্রেফতার হয়েছে সকলকে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের পাশে যেসব শিক্ষকরা দাঁড়িয়েছেন তাদেরও মুক্তি দিতে হবে। আগামীকাল মন্ত্রী পরিষদ সভায় আমাদের পাঁচ দফা দাবির আলোকেই কোটা সংস্কার করতে হবে। আমরা শুধু প্রথম শ্রেণি এবং দ্বিতীয় শ্রেণির জন্য আন্দোলন করিনি।  আমরা সকল বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি।

আন্দোলনকারীদের পাঁচটি দাবির মধ্যে রয়েছে ১) বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা ২) কোটায় কোনও ধরনের বিশেষ নিয়োগ না দেওয়া ৩) চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহারের সুযোগ না দেওয়া ৪) সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন কাট মার্কস ও বয়সসীমা নির্ধারণ করা এবং ৫) কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোয় মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে সরকারি চাকরিতে সংরক্ষিত কোটা ৫৬ শতাংশ।  বাকি ৪৪ শতাংশ নেয়া হয় মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে। বিসিএসে নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৩০, জেলা কোটায় ১০, নারী কোটায় ১০ ও উপজাতি কোটায় ৫ শতাংশ চাকরি সংরক্ষণ করা আছে। এই ৫৫ শতাংশ কোটায় পূরণযোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সে ক্ষেত্রে ১ শতাংশ পদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগের বিধান রয়েছে।

এই কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছিলেন শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধও করছিলেন তারা। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষও হয় আন্দোলনকারীদের। গ্রেফতারও হন আন্দোলনকারী নেতারা।  সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, কোটা নিয়ে পর্যালোচনা কমিটির দেয়া সুপারিশ শিঘ্রই মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। 

এইচএসসি পাসেই চাকরি স্কয়ার গ্রুপে, নেবে সেলস অফিসার
  • ২৯ জুন ২০২৬
ভূমিকম্পে স্ত্রী-সন্তান হারালেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার
  • ২৯ জুন ২০২৬
অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি প্রকাশ
  • ২৯ জুন ২০২৬
চার বছরেও চালু হয়নি কোটি টাকার মেশিন, সেবা থেকে বঞ্চিত রোগী…
  • ২৯ জুন ২০২৬
আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার ফেরত পাচ্ছে ইরান
  • ২৯ জুন ২০২৬
মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে নিজ পরিকল্পনার কথা জানালেন প্রধানম…
  • ২৯ জুন ২০২৬