কেন্দ্রের নির্দেশ মানছে না ঢাবি ছাত্রলীগ

১৭ আগস্ট ২০১৮, ০১:১৯ PM
মেহেদী হাসান

মেহেদী হাসান © সংগৃহীত

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশ পালন করছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।  বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপসের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, গত ১৪ আগস্ট এক সাংবাদিককে হেনস্তা করার অভিযোগে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসানকে হল থেকে বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রী কমিটি। একই সাথে এ ঘটনায় জড়িত থাকায় হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ধ্রুব রায়হান ওরফে রনিকেও ছাত্রলীগ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করে হল ছাড়ার নির্দেশ দেন কেন্দ্রী সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।  ।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের মাধ্যমে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দেয়া হয়।  এজন্য হল শাখার বর্তমান ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেলকে বহিষ্কৃত মেহেদী হাসানের রুমে গিয়ে ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতে বলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী। 

পাশাপাশি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ধ্রুব রায়হানকে বহিষ্কার ও হল ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দিকনির্দেশনা দেন।  বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন তিনি।  হল ছাড়তে অস্বীকৃতি জানালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে পুলিশের হাতে সোপর্দ করতে বলা হয়। 

হল সূত্রে জানা যায়, বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা এখনও অবৈধভাবে হলে আছেন (ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে ৫ বছর আগে)। হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশ উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কথা এখনও মেহেদী হাসানকে জানাননি।

জানতে চাইলে হল শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি তাহসান আহমেদ রাসেল বলেন, হলের সাধারণ সম্পাদক হলে নেই।  সাধারণ সম্পাদক আসলে এবিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তাপসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, মেহেদী হাসানসহ অবৈধ সকলকে হল ত্যাগ করার ব্যাপারে ছাত্রলীগ পদক্ষেপ নিবে। তবে শোক দিবসের কর্মসূচির কারণে ব্যস্ত থাকায় আমরা এখনও তার ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পারিনি।

এর আগে ১৪ আগস্টের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ছাত্রলীগ সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন বলেন, আমরা অত্যন্ত দুঃখিত।  কারণ আমাদের এক সাংবাদিক ভাইকে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনায় যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।  আশা করি ভবিষ্যতে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৯ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে শাহবাগের পিকক বারে মদ নিতে গিয়ে দোকান বন্ধ পান মেহেদী।  সেসময় দোকান খোলা নিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে বাদানুবাদ হয়। এরই একপর্যায়ে কর্মচারীরা তাকে মারধর করে। পরে ছাত্রলীগ সভাপতি ঘটনাটি হলে জানালে হলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক দিদার শতাধিক কর্মী নিয়ে শাহবাগে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এসময় কয়েক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।  তাদেরকে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় পরের দিন মেহেদী হাসানকে ছাত্রলীগ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরের কমিটিতে (সোহাগ-জাকির) কোন পদ পায়নি মেহেদী হাসান।

আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬০০ ধাপ এগিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় 
  • ২৯ জুন ২০২৬
প্রশিক্ষণ ছাড়া পদোন্নতি পাবেন না ঢাবির প্রভাষক-সহকারী অধ্যা…
  • ২৯ জুন ২০২৬
থেরাপির সঙ্গে হাঁটাচলা-ব্যায়ামের পরামর্শ, জানা গেল মির্জা আ…
  • ২৯ জুন ২০২৬
১৫ হাজার টাকার কিস্তির চাপে সেই প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যা
  • ২৯ জুন ২০২৬
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেরা ৯ স্কলারশিপ
  • ২৯ জুন ২০২৬
দেশের কল্যাণে কাজ করতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে বললেন প্র…
  • ২৯ জুন ২০২৬