লেখক-শিল্পী-ছাত্র-শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সংহতি সমাবেশে © সংগৃহীত
সরকার নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ‘অরাজনৈতিক’ আন্দোলনকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তকমা দিয়ে বিকৃত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের সময় ‘উসকানিমূলক অপপ্রচারের’ অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোকচিত্রী শহিদুল আলম এবং সংঘর্ষের ঘটনায় রিমান্ডে পাঠানো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ শিক্ষার্থীর মুক্তির দাবিতে শনিবার এক সংহতি সমাবেশে এই অভিযোগ করেন তিনি।
ঢাকায় জাতীয় জাদুঘরের সামনে ‘লেখক-শিল্পী-ছাত্র-শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী’ ব্যানারে এই সংহতি সমাবেশে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের এই অরাজনৈতিক আন্দোলনকে বুর্জোয়া দুটি দলের ট্যাগ দিয়ে বিকৃত করার চেষ্টা করেছে সরকার। আন্দোলনের মূল মর্মবাণীকে নিঃশেষ করে দিতে সরকার নানা ষড়যন্ত্র করেছে।
ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে গত ২৯ জুলাই বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর সপ্তাহজুড়ে রাজধানী অচল করে শিক্ষার্থীদের ওই আন্দোলনকে সেলিম বর্ণনা করেন ‘কিশোর বিদ্রোহ’ হিসেবে।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা প্ল্যাকার্ড নিয়ে এসেছিল- রাষ্ট্রের মেরামতের কাজ চলছে। শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়েছে অর্থনৈতিক, সামাজিক, জেন্ডার বৈষম্যসহ নানা ক্ষেত্রে সমাজ ও রাষ্ট্র পচে গলে গেছে। আমাদের আকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের দিকটি শিক্ষার্থীরা দেখিয়ে দিয়ে গেছে।”
নিরাপদ সড়কের দাবিতে এই আন্দোলনের মধ্যে ফেইসবুক লাইভে এবং আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সরকারের সমালোচনা করা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তারের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সিপিবি সভাপতি বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণের প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু সেদিন বলেছিলেন, যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। এই আহ্বান তো সরকারের বিরুদ্ধে ছিল, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়। সরকারের বিরুদ্ধে বলা আর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বলা এক জিনিস নয়।”
সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, যে কোনো ‘সংবেদনশীল সরকার’ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন থেকে নতুন শক্তি সঞ্চয় করে উন্নয়নের পথ যথাযথভাবে অনুসরণ করত। কিন্তু এ সরকার কোনো সমালোচনা গ্রহণ করতে চায় না। সরকার যা করবে না, তা নিয়ে অন্য কেউ কথা বলুক, সরকার তা চায় না। সরকার এদেশের নাগরিকদের মনে করে প্রজা। সরকার জনগণের শক্তি ধারণ করতে অক্ষম।
প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইংগিত করে তিনি বলেন, “কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় তিনি বলেছেন, কোটা থাকবে না। পরে বললেন, কোটা থাকবে। শিক্ষার্থীরা তাকে কীভাবে বিশ্বাস করবে? নিরাপদ সড়কের দাবিতে সড়কে নামা শিক্ষার্থীদের তিনি ঘরে ফিরে যেতে অনুরোধ করেছেন। শিক্ষার্থীরা কেন তাকে বিশ্বাস করে ঘরে ফিরে যাবে?”
অন্যান্যদের মধ্যে শ্রমিক আন্দোলনের নেত্রী মোশরেফা মিশু, বেলার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, লাকী আক্তার, সেন্ট্রাল উইমেন্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য পারভীন হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সামিনা লুৎফা, দৃকের মহাব্যবস্থাপক এস এম রেজাউর রহমান, নারী কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পপি এই সংহতি সমাবেশে বক্তব্য দেন।