সুযোগ পেয়েও অনিশ্চিত ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন, চাইলেন সহায়তা

ইসমাইল
ইসমাইল  © সংগৃহীত

বরগুনার তালতলীর হতদরিদ্র নুরুল ইসলাম বেপারির ছেলে ইসমাইল। তিনি এবারে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু টাকার অভাবে তিনি মেডিকেলে পড়তে পারবেন কিনা, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এজন্য তিনি বিত্তবানদের নিকট সহায়তা চেয়েছেন।

ইসমাইল বলেন, আমার স্বপ্ন ছিল চিকিৎসক হওয়ার। আল্লাহ আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে ভর্তি সুযোগ পেয়েছি। এ জন্য আল্লাহর কাছে হাজার শুকরিয়া, কিন্তু আমি মনে হয় ডাক্তারি পড়তে পারব না, আমাদের আর্থিক অবস্থা এতই নাজুক, বাবার পক্ষে আমার লেখাপড়ার খরচ চালানো অসম্ভব।

দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে ইসমাইল বলেন, কোনো স্বহৃদয়বান ব্যক্তি যদি আমার লেখাপড়া করার জন্য সাহায্য করতেন তা হলে আমার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতো। আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই— যেন পড়াশোনা শেষ করে ভালো একজন চিকিৎসক হয়ে অসহায় দরিদ্র মানুষের সেবা করতে পারি।

উপজেলার মোমেসেপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছয় সদস্যের পরিবারে চার সন্তানের মধ্যে ইসমাইল সবার ছোট। তিনি তালতলী সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৭ সালে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৪.৯১ পেয়ে এসএসসি এবং তালতলী সরকারি কলেজ থেকে ২০১৯ সালে জিপিএ-৪.৩৩ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন।

২০১৯ সালে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিত বিভাগে সুযোগ পান; কিন্তু গত বছরের ফল আশানুরূপ না হওয়ায় ২০২০ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় আবারও অংশগ্রহণ করে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরে এ বছর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে মেডিকেলে সুযোগ পান।

ইসমাইলের বাবা নুরুল ইসলাম বলেন, আমি একজন হতদরিদ্র কৃষক, আমার বাড়ির জমিটুকু ছাড়া আর কোনো কিছু নেই। আমার ছেলে মেডিকেলে চান্স পেয়েছে কিন্তু আমার কাছে টাকা-পয়সা নেই যে, আমার ছেলেকে ডাক্তারি পড়াব। আমি গরিব মানুষ দিন আনি দিন খাই। কোনোরকমে সংসার চলে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাওসার হোসেন বলেন, আমি শুনেছি ইসমাইল নামে এক মেধাবী ছাত্র দিনাজপুরের মেজর আ. রহিম মেডিকেল কলেজে চান্স পেয়েছে। আমরা খুবই আনন্দিত। তার বিষয়ে আমরা খোঁজখবর রাখছি।


মন্তব্য

এ বিভাগের আরো সংবাদ