উপার্জনহীন যৌনকর্মীদের খাওয়াতেন রিনা

২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৮:৫৭ AM
রিনা আকতার

রিনা আকতার © ফাইল ফটো

চলতি বছর বিবিসি সেরা একশ নারীর তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন বাংলাদেশের রিনা আকতার। যৌনকর্মীদের জীবনমানের উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ে রিনা ও তার টিম ঢাকায় প্রতি সপ্তাহে অন্তত চারশ’ যৌনকর্মীর খাবার সরবরাহ করেছেন। এসব যৌনকর্মীরা মহামারির কারণে চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থায় পড়েছেন।

বিবিসি বাংলাকে দেয়া সাক্ষাৎকারে রিনা জানান, এখানের কোন মেয়েকে যদি পুলিশ ধরে নিয়ে যায়, আমি তাদের ছাড়াইয়া আনি। কোন মেয়ে যদি মারা যায় তখন আমরা নিজেরা কিছু চাঁদা তুলে ওর দাফনের ব্যবস্থা করি। আমার এ কাজে জড়ানোর কারণ হলো ভালো মানুষজন যারা আছে তারা তো আর যৌনকর্মীদের পাশে এসে দাঁড়াবে না। যৌন কর্মীদের পাশে যৌন কর্মীদেরেই দাঁড়াতে হবে।

রিনা বলেন, আমি ভাসমান যৌন কর্মী ছিলাম। এখন আমি যৌনকর্মীদের নিয়েই কাজ করি। আমার বাড়ি থেকে এনে একজনে বিক্রি করে দিয়েছিল। এরপরে আমি অনেক দিন অনেক পেশার সাথে ছিলাম। কোন পেশায় আমি ভালো স্বীকৃতি পাইনি, তাই এই পেশা বেছ নিয়েছিলাম।

যেভাবে ভাসমান যৌনকর্মীদের ভরসা হয়ে উঠলেন রিনা আকতার

করোনা মহামারির সময়ে আয় বন্ধ হয়ে যায় ভাসমান যৌনকর্মীদের। তখন টানা চার মাস দৈনিক প্রায় ২০০ জন কর্মীর খাবার ব্যবস্থা করেছেন রিনা। তিনি বলেন, কলেজের কিছু ছাত্ররা আমাদের জন্য এগিয়ে এসেছিল। প্রতিদিন ওরা আমাদের ৫-৭ হাজার টাকা দিত। আমরা প্রতিদিন ডিম-খিচুরি বা মুরগি খিচুড়ি রান্না করে ভ্যান গাড়িতে করে এনে পার্কে, কমলাপুর, সদরঘাট এগুলোতে বিতরণ করতাম।

এখনো বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য নিয়ে যৌনকর্মীদের খাবারের ব্যবস্থা করেছেন তিনি। রিনা বলেন, এই প্যাকেটগুলো আমি আমার বোনদের জন্য নিয়ে এসেছি, অনেক বোনেরা এ খেয়ে আছে। ওদের তিন-চারটা বাচ্চা আছে, বাচ্চাগুলো নিয়ে অনেক কষ্ট করছে। ওদেরকে যদি আমি পাঁচ দিনের খাবার দিতে পারি তাহলে পাঁচটা দিন ওরা সুন্দর করে চলতৈ পারবে, এই কষ্টটা থাকবে না।

ভাসমান যৌন কর্মীদের জন্য ড্রপ-ইন সেন্টারের ব্যবস্থা করেছেন রিনা। তিনি বলেন, সমাজে তো যৌন কর্মীদের কোন স্বীকৃতি নাই। যদি কেউ জানে যে যৌন কর্মী তাহলে তো বাসা ভাড়া দেয় না। এদের নিয়েই আমি কাজ করছি। যেনমন একটা কমিউনিটি ড্রপ-ইন সেন্টার তৈরি করেছি। এখানে সকাল থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ওরা থাকতে পারে। ঘুমাইতে পারে, খাইতে পারে, টিভি দেখতে পারে, গোসল করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সংগঠন, এনজিও এবং নানান জনের কাছ থেকে আমি চেয়ে নিই। কারণ তারা তো সরাসরি আসতে পারে না মাঠে, করোনাকালে ভয় পায়। আমি তো আর ভয় পাই না, কারণ এরা আমার বোন। এদরে কাছে আমার যেতেই হবে। এজন্য আমি এই উদ্যোগটা নিয়েছি।

ট্রাম্পকে কড়া বার্তা, জ্বালানিকেন্দ্র উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি ইর…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
কলেজছাত্রীর ভিডিও ধারণকে কেন্দ্রে করে নবীগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সং…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
হবিগঞ্জে বাস-পিকআপ সংঘর্ষে নিহত ৪
  • ২২ মার্চ ২০২৬
ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসতে পারেন পারকি সমুদ্রসৈকতে
  • ২২ মার্চ ২০২৬
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ে প্রতারণা, ড. আরিফ চৌধুরী গ্র…
  • ২২ মার্চ ২০২৬
রফিকুল ইসলাম মাদানীর ছেলে মারা গেছেন
  • ২২ মার্চ ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence