বট অ্যাকাউন্ট কী, এটা কীভাবে কাজ করে?

২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪২ PM , আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০০ PM
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি © টিডিসি ফটো/ এআই

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘বট আইডি থেকে ছড়ানো’ একটি এডিটেড ফটোকার্ডকে কেন্দ্র করে রাজধানীর শাহবাগ থানায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন ও সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ১০ সাংবাদিকসহ বেশ কয়েকজন হেনস্তা ও মারধরের শিকার হয়েছেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ হলো ‘বট’। শব্দটি মূলত ‘রোবট’ থেকে এসেছে। বট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টগুলো দেখতে সাধারণ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের মতো হলেও, এর পেছনে থাকে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা প্রোগ্রাম, যা নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ পরিচালনা করে। এসব অ্যাকাউন্ট মানুষের আচরণ অনুকরণ করে বিভিন্ন অনলাইন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে সক্ষম।

বট অ্যাকাউন্ট এবং ফেক অ্যাকাউন্ট—দুটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, তবে এদের প্রকৃতি এক নয়। বট অ্যাকাউন্ট হলো স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্ট, যা নির্দিষ্ট কমান্ড অনুযায়ী নিজে থেকেই পোস্ট করা, লাইক-কমেন্ট করা বা কনটেন্ট শেয়ার করার মতো কাজ সম্পন্ন করে। এসব অ্যাকাউন্টে মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ খুব সীমিত বা থাকে না।

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বট অ্যাকাউন্টের শক্তিও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এসব বট অ্যাকাউন্টে এআই সংযুক্ত করে নির্দিষ্ট কমান্ড সেট করে দিলে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কনটেন্ট তৈরি করে পোস্ট করতে সক্ষম। শুধু পোস্টই নয়, পজিটিভ বা নেগেটিভ মন্তব্য করা থেকে শুরু করে সামাজিক মাধ্যমে নির্দিষ্ট ভূমিকা পালন করার জন্য যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়, ঠিক সেভাবেই কার্যক্রম পরিচালনা করে এসব বট অ্যাকাউন্ট।

বট অ্যাকাউন্ট মূলত অ্যালগরিদম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কী-ওয়ার্ড, হ্যাশট্যাগ বা ট্রেন্ড অনুসরণ করে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যেটি স্বাভাবিক ব্যবহারকারীর পক্ষে সম্ভব নয়।

সামাজিক, রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে বট অ্যাকাউন্টের ব্যবহার বাড়ছে। কোনো একটি মতামতকে জনপ্রিয় দেখানো, ভুয়া প্রচারণা চালানো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সমন্বিতভাবে অসংখ্য বট অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করা হয়। এতে অনেক সময় সাধারণ ব্যবহারকারীরা ভুল তথ্যকে সত্য বলে ধরে নেন।

এত অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে কীভাবে পরিচালনা করা হয়?

একাধিক বট অ্যাকাউন্ট একসঙ্গে পরিচালনার জন্য বিশেষ সফটওয়্যার, স্ক্রিপ্ট এবং অটোমেশন টুল ব্যবহার করা হয়। সাধারণত একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল সিস্টেম বা সার্ভারের মাধ্যমে শত শত এমনকি হাজারো অ্যাকাউন্ট একযোগে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়। এসব সিস্টেমে আগে থেকেই নির্দিষ্ট নির্দেশনা, সময়সূচি এবং কনটেন্ট সেট করে দেওয়া থাকে।

ফোন ফার্মিং/ এভাবে অনেকগুলো ফোন একটি কম্পিউটারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়

এক্ষেত্রে ‘ফোন ফার্মিং’ নামের একটি পদ্ধতিও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এতে একটি স্থানে অনেকগুলো স্মার্টফোন একসঙ্গে স্থাপন করে প্রতিটি ফোনে আলাদা আলাদা অ্যাকাউন্ট চালানো হয়। বিশেষ সফটওয়্যার বা রিমোট কন্ট্রোল ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব ফোন একসঙ্গে পরিচালিত হয়।

ফোন ফার্মিংয়ের মাধ্যমে একসঙ্গে বহু মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। এসব ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয় বা আধা-স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট পরিচালনা, কনটেন্টে লাইক-কমেন্ট ও শেয়ার বৃদ্ধি, এবং নির্দিষ্ট পোস্ট বা পেজের অ্যানগেজমেন্ট কৃত্রিমভাবে বাড়ানোর কাজ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দেখা বা ক্লিক করার মাধ্যমে আয় দেখানোর চেষ্টা, অ্যাপ ডাউনলোড ও ব্যবহার বৃদ্ধির পরিসংখ্যান কৃত্রিমভাবে তৈরি করা, এমনকি ভুয়া ট্রাফিক জেনারেট করার মতো কার্যক্রমও পরিচালিত হয়। এর ফলে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বাস্তব ব্যবহারকারীর আচরণকে বিকৃত করে একটি কৃত্রিম জনপ্রিয়তা বা প্রভাব তৈরি করা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন: বট অ্যাকাউন্টের এডিটেড পোস্ট নিয়ে ছাত্রদলে উত্তেজনা, হামলায় আহত ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকরা

এছাড়া আইপি এড্রেস গোপন রাখতে ভিপিএন বা প্রক্সি সার্ভার ব্যবহার করা হয়। যাতে একাধিক অ্যাকাউন্ট একই উৎস থেকে পরিচালিত হচ্ছে—এটি সহজে শনাক্ত করা না যায়। এসব সমন্বিত ব্যবস্থার কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বট অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয়ে কোনো নির্দিষ্ট বার্তা বা প্রচারণা দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সক্ষম হয়।

‘বট অ্যাকাউন্ট’—‘ফেক অ্যাকাউন্ট’

বট অ্যাকাউন্ট এবং ফেক অ্যাকাউন্ট—দুটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, তবে এদের প্রকৃতি এক নয়। বট অ্যাকাউন্ট হলো স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্ট, যা নির্দিষ্ট কমান্ড অনুযায়ী নিজে থেকেই পোস্ট করা, লাইক-কমেন্ট করা বা কনটেন্ট শেয়ার করার মতো কাজ সম্পন্ন করে। এসব অ্যাকাউন্টে মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ খুব সীমিত বা থাকে না।

অন্যদিকে, ফেক অ্যাকাউন্ট সাধারণত একজন বাস্তব মানুষই তৈরি ও পরিচালনা করে, তবে সেখানে ভুয়া নাম, ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, এটি স্বয়ংক্রিয় নয়, বরং উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিচয় গোপন বা ভিন্ন পরিচয়ে অনলাইনে সক্রিয় থাকার একটি মাধ্যম।

ফলে বট অ্যাকাউন্টের মূল বৈশিষ্ট্য হলো অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয়তা, আর ফেক অ্যাকাউন্টের মূল বৈশিষ্ট্য হলো ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে মানব-নিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম পরিচালনা।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি যুবলীগ নেতা গ্রে…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
বোমাসদৃশ বস্তুর বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এনটিআরসিএ সভা আজ, শুরুতেই ৯ম শিক্ষক নিয়োগ…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
রাতভর এপাশ-ওপাশ? ভালো ঘুমের জন্য এই অভ্যাসগুলো মেনে চলুন
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
জুলাই গণঅভ্যুত্থান মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, দেশপ্রেম ও গণত…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে এক ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচার…
  • ০৩ আগস্ট ২০২৬