বছরজুড়ে জলাবদ্ধতা, কমছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থী

২৬ জুলাই ২০১৯, ০৮:১২ PM

© টিডিসি ফটো

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার শহরতলী এলাকার পাঁচথুবী ইউনিয়নের একাশি বছরের পুরনো চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে কয়েক বছর ধরে কোনো খেলাধুলা, অ্যাসেম্বলি, অভিভাবক সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় না। বিদ্যালয়ের নিচু মাঠ ভরাট না করার কারণে বছরের বেশিরভাগ সময় এটি জলমগ্ন থাকে।

এতে দুর্গন্ধযুক্ত ময়লা পানি মাড়িয়ে নাকে রুমাল দিয়ে শিক্ষক ও শিশুশিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে যাওয়া-আসা করে। গত দুই বছর ধরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা জেলা পরিষদ ও আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদে মাঠ ভরাটের বরাদ্দের জন্য আবেদন করলেও কোনো কাজ হয়নি। ফলে এ বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার বঞ্চনাসহ অসহনীয় দুর্ভোগের মাঝেই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতে হচ্ছে। এদিকে বছরজুড়ে মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীও ক্রমে হ্রাস পাচ্ছে।

সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৩৮ সালে ৪০ শতক জায়গায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। কুমিল্লা শহরতলীর ডুমুরিয়া-চাঁদপুর এলাকা থেকে একটু নিচু স্থানে এই বিদ্যালয়ের অবস্থান। এখন এ বিদ্যালয়ে আটজন শিক্ষক ও দুইশ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এ বিদ্যালয়ে একটি একতলা পাকা ভবন এবং তিন কক্ষের টিনশেডের একটি ভবন রয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়ের পুরো মাঠে পানি থইথই করছে, এ পানিতে হাঁসের ঝাঁক ডুবসাঁতারে মেতে উঠছে। বাতাসে পচা পানির উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যালয় মাঠে অ্যাসেম্বলি হয় না, শিশুরা এই মাঠে কোনো খেলাধুলা করতে পারছে না, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা অভিভাবক সমাবেশও করা যাচ্ছে না। দুই শিফটের এই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুটি বিদ্যালয় ভবনের বারান্দায় আলাদা করে দাঁড় করিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়। বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাটের জন্য গত ২০ মার্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক কুমিল্লা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট এবং এর আগে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করেন।

ওই বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৮ জন শিক্ষার্থী জানায়, ‘কাদা পানিতে অনেক সময় তাদের বই ও পোশাক নষ্ট হয়ে যায়, পচা পানির উৎকট গন্ধে নাকে রুমাল দিয়ে শ্রেণিকক্ষে যাওয়া-আসা করতে হয়। বৃষ্টি হলে অনেকে ক্লাসে আসে না।’

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগম জানান, ‘এখানে যোগদানের পর প্রায় ২১ বছর ধরে দেখে আসছি বিদ্যালয়ের মাঠখানা বছরের প্রায় দশ মাস জলমগ্ন থাকে। এতে শিক্ষার্থীদের অ্যাসেম্বলি এবং খেলাধুলাও করানো যাচ্ছে না। এছাড়া এই বিদ্যালয়ে অবকাঠামোর সমস্যা ও বেঞ্চ সমস্যা রয়েছে। তবে জলাবদ্ধতাই এখন প্রধান সমস্যা। জলাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে।’

বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান জানান, ‘একাশি বছরের এই বিদ্যালয়ে সীমানাপ্রাচীর ও ফটক ছিল না, বর্তমানে তা নির্মাণ করা হয়েছে। এখন জলাবদ্ধতা দূর করার জন্য মাঠখানা ভরাট করা প্রয়োজন, এজন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সাড়া মেলেনি।’

আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম টুটুল বলেন, ‘বিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার মানুষ তাদের বাড়িঘরে ও প্লটে মাটি ফেলে উঁচু করার কারণে বিদ্যালয়ের মাঠে পানি ঢুকে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এখানে চারতলার একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণ হবে, তখন মাঠ ভরাট করা হবে। এখন মাঠখানা ভরাট করলে শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে। আশা করি সহসা এ অবস্তার নিরসন হবে।’

নতুন প্রজন্মেই বাঁচবে বাংলা নববর্ষের ঐতিহ্য
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
বাবা-মা কর্মস্থলে, আমগাছে কিশোরীর মরেদহ
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ভেস্তে গেল গণভোট নিয়ে জাকসুর সেই সেমিনার
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
করোনাকালে মৃতদের গোসল করানো সেই উদ্যোক্তা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
জনরোষে এই দলটা কতক্ষণ টিকবে বুঝতে পারছি না!
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬
ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল না করলে ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
  • ১৩ এপ্রিল ২০২৬