শতভাগ শিক্ষার্থীকে বাংলা ও ইংরেজি শুদ্ধভাবে পড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন। তিনি বলেছেন, শতভাগ ছাত্র/ছাত্রীরা যাতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে শুদ্ধভাবে পড়তে পারে; এজন্য বিদ্যালয়ে প্র্যাকটিসসহ নিয়মিত বাড়ির কাজ দিতে হবে এবং তা আদায় করতে হবে।
মঙ্গলবার ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলায় মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে আয়োজিত এক মতবিনিময় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সচিব বলেন, ইউনেস্কোর প্রতিবেদন অনুযায়ী শতকরা ৬৫ ভাগ শিক্ষার্থী বাংলা পড়তে পারে না, যা হতাশাজনক। তার ভাষ্য, প্রতিটি বিদ্যালয়ে যে সকল শিক্ষার্থীরা রিডিং পড়তে পারে না তাদের তালিকা তৈরি করুন এবং তাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিন। এ সময় তিনি "Mother is the first teacher and Teacher is the second mother" বক্তব্যকে বুকে ধারণ করে শিক্ষক ও মায়েদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতকরণে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডঃ এ এফ এম মনজুর কাদির। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় উপ-পরিচালক মাহাবুব এলাহী । স্বাগত বক্তব্য রাখেন মোঃ ওবায়দুল্লাহ।

সচিব বলেন, প্রতি বৃহস্পতিবারে বিদ্যালয়ে পরিস্কার/ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। "one day one word" কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এর সঠিক রেকর্ড রাখতে হবে। প্রতিটি বিদ্যালয় পর্যায় থেকে শুরু করে সকল স্তরে এপিএ স্বাক্ষর করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, গত ১০ বছরে ১৭৮০০০ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়েছে, বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া ও সাউন্ড সিস্টেম দেয়া হয়েছে, তাই শিশুদের আনন্দদায়ক পাঠ দিতে হবে। শতভাগ ছাত্র/ছাত্রীদের মায়ের হাতের রান্না করা খাবার অবশ্যই বিদ্যালয়ে এনে আহার করাতে হবে।
বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, ইতোমধ্যেই বিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংক্রান্ত তথ্যাদি সংগ্রহ করা হয়েছে; সে অনুযায়ী বিদ্যালয়ে নতুন শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ করা হবে, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ করা হবে এবং শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে যাতে বিদ্যালয়গুলোকে একশিফটে রুপান্তরিত করা যায়।
শিক্ষক বদলীর নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বদলী হবে অনলাইনে এবং বছরব্যাপী। এ জন্য শীঘ্রই একটি সফটওয়ার প্রণয়ন করা হবে এবং এতদসংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।
পড়ুন:এক সপ্তাহে দুই প্রাথমিক শিক্ষিকাকে হত্যা, লাশ এবার পানিতে