কক্সবাজার, ইনসেটে স্মার্টফোন © টিডিসি সম্পাদিত
ছাত্রীর গোসলের ভিডিও ধারণের পর কক্সবাজারে যাওয়াসহ তিনটি শর্ত দেয় এসএসসি পরীক্ষার্থী। শর্ত পূরণ না করলে গোপনে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সহপাঠীকে আটক করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার, আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে উপজেলার জুঁইদন্ডী ইউনিয়ন থেকে মো. শাওন (১৭) নামের স্কুলছাত্রকে আটক করা হয়। তিনি ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. আবুর ছেলে। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন সহপাঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী (১৬) চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে ইমো অ্যাপে একটি ভিডিও পায় সে। ভিডিওটি খুলে দেখার পর বুঝতে পারে, সেটি তারই গোপনে ধারণ করা বিবস্ত্র অবস্থার ভিডিও। পরে আজ দুপুরে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেয় পরিবার।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার আসনবিন্যাস প্রকাশ (কেন্দ্র তালিকা দেখুন)
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ভিডিও পাঠানোর পর অভিযুক্ত কয়েকজন কিশোর ভয়েস মেসেজ ও কলের মাধ্যমে কিশোরীর কাছে বিভিন্ন দাবি জানায়। তারা সমুদ্রসৈকতে যাওয়া, ১০ হাজার টাকা প্রদান অথবা ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন দিতে বলে। এসব শর্ত না মানলে ভিডিওটি ফেসবুক, ইমো ও টিকটকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী বিষয়টি এক সহপাঠীকে জানালে অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন ও বার্তার মাধ্যমে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ, হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এক পর্যায়ে অভিযুক্ত মো. শাওনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কিশোরীর মোবাইল নম্বর অন্যদের কাছে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এতে পরিবারটি ধারণা করছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
আরও পড়ুন : এইচএসসি ও আলিমের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ট্রাস্ট, আবেদনের তারিখ ঘোষণা
অভিযোগ পত্রে আরও বলা হয়, নিরাপত্তার জন্য কিশোরী এক বান্ধবীর বাড়িতে আশ্রয় নিলে অভিযুক্তরা সেখানে গিয়ে তাকে অপহরণের হুমকিও দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, ‘মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চরম উদ্বিগ্ন। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। অভিযুক্তদের পরিবারের পক্ষ থেকেও আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে।’
আনোয়ারা থানার ওসি (তদন্ত) মো. মজনু মিয়া বলেন, ‘ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে একজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে অন্যদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।