সামিউল করিম © টিডিসি সম্পাদিত
ছুটির পর বাবার কাছে আসছিল রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সামিউল করিম (১২)। এ সময় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজেআই মডেলের একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে এর একটি জ্বলন্ত অংশ সামিউলের পিঠের ওপর পড়ে। এতে দগ্ধ হয়ে নিহত হয় সে। সোমবার ২১ জুলাই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কয়েক দিন আগে বরিশালে বেড়াতে গিয়েছিল সামিউল। দুর্ঘটনার দুই দিন আগেই ঢাকায় ফেরে সে। ২১ জুলাই স্কুলে যায় সে। স্কুল ছুটির পর বাবার সাথে বাসায় ফেরার কথা ছিল তার। কিন্তু মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে স্কুল থেকে বের হওয়ার আগেই মৃত্যু হয় তার। ওই দিন রাতেই তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়ে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত সামিউলের বাবা রেজাউল করিম বলেন, ‘আমি দেখতেছি আমার ছেলে আসতেছে। এরইমধ্যে বিমানটা বিধ্বস্ত হলো, ওদের ক্লাসরুমের ভেতর দিয়ে বের হয়ে গেল। ওরে আমি ধরতে যাচ্ছি, তখন দেখি ওর পিঠের ওপর বিমানের জ্বলন্ত অংশটা পড়ল, ও পড়ে গেল। তখন ওকে হেলিকপ্টারে করে সিএমএইচে নিয়ে গেছি, সেখানে ডাক্তাররা বলল আমার ছেলেটা আর বেঁচে নাই। আমার ছেলেটা খুব শান্ত একটা ছেলে। ওর টিচাররাও তাই বলত। আমার এই ছেলেটাকে আল্লাহ আমার কাছ থেকে নিয়ে গেল। এই বিমানগুলোর প্রশিক্ষণ কেন এমন জায়গায় ব্যবস্থা করে। সরকারের প্রতি অনুরোধ যে এই ধরনের প্রশিক্ষণ যেন আর এমন জনবহুল জায়গায় করা না হয়। আমার ছেলেটার বয়স মাত্র ১২ বছর। আর কোনো বাবাকে যেন এইভাবে তার সন্তানকে হারাতে না হয়। বাবার কাছে সন্তানের লাশ যে কতটা ভারি তা শুধু যাদের সন্তান মারা গেছে তারাই বুঝতে পারবে।’
প্রসঙ্গত, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলটসহ ৩২ জন নিহত হয়েছেন। এতে দগ্ধ হয়ে আরও ১৬৪ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার পর থেকেই অভিযোগ উঠেছে যে, দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। এ নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।