আন্দোলনে সহকারী শিক্ষকরা
বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে আন্দোলনে নেমেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। রাষ্ট্রপতি অনুমোদিত সদ্য খসড়া বিধিমালায় প্রধান শিক্ষকদের জন্য দশম গ্রেড এবং সহকারী শিক্ষকদের জন্য ১২তম গ্রেড প্রদান করায় মাঠে নেমেছেন তারা। তারা বলছেন, প্রধান শিক্ষকের পরেই তাদের বেতন রাখার দাবি দীর্ঘদিনের। কিন্তু তা না করেই হঠাৎ করেই এই খসড়া অনুমোদন দেয়ায় ফের বৈষম্যের শিকার হবেন তারা। শুধু তাই নয়, বিষয়টি আত্মসম্মানের বলেও দাবি তাদের।
এদিকে ওই বিধিমালার প্রতিবাদে আজ ঢাকা, রাজশাহী, বরিশাল, বগুড়া, ঝালকাঠী, নীলফামারী, নড়াইল, পটুুয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন করেছেন সহকারী শিক্ষকরা। হুশিয়ারি দিয়েছেন বিক্ষোভ ও অনশনের মত কর্মসূচির। শিক্ষকরা বলছেন, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার যে, প্রধান শিক্ষকের পর সহকারী শিক্ষকদের বেতন হবে। কিন্তু তা না করে একধাপ পেছনে দেয়ার আত্মসম্মানে আঘাত দেয়ার মত। সংশোধন হতে যাওয়া গেজেটে ১১ গ্রেড প্রদান না করা হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে তারা জানিয়েছেন।
এদিকে দাবিতে প্রেক্ষিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ফেসবুক গ্রুপেও চলছে চোর প্রচারণা। আসমাউল আলম নামে বলছেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে, প্রত্যেক উপজেলায় সহকারীদের ১১তম গ্রেড প্রাপ্তির নিমিত্তে ‘রিট কমিটি’ গঠন করতে হবে। তার বক্তব্য, ‘সরকার সহকারীদের বেতন বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ১১তম গ্রেড ছাড়া বিদ্যমান বৈষম্য নিরসন সম্ভব নয়।’
এর আগে বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেছিলেন, আমাদের দাবি প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেড। কিন্তু সহকারী প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি হলে আমরা যখন ওই পদে পদোন্নতি পাব, তখন এমনিতেই আমরা ওই পদের স্কেলে বেতন পাব। তাহলে সহকারী শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য থেকেই যাবে। তাই আমরা এ মুহূর্তে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদ চাই না। আমরা প্রধান শিক্ষকের পরের গ্রেডে বেতন চাই।
বর্তমানে প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণীর হলেও তারা বেতন পান ১১তম গ্রেডে। অথচ দ্বিতীয় শ্রেণীর অন্য সব চাকরিজীবী দশম গ্রেডে বেতন পান। এমনকি ৩৪তম বিসিএস থেকে যখন দ্বিতীয় শ্রেণীর পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয় তখন সবাই দশম গ্রেড পেলেও শুধু সরকারি প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা পেয়েছেন ১১তম গ্রেড। ফলে প্রধান শিক্ষকদের একাধিক সংগঠন দশম গ্রেডে বেতনের দাবিতে আন্দোলন করেছে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকরা বেতন পান ১৪তম গ্রেডে। ফলে প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে তাদের বেতনের পার্থক্য তিন ধাপ। এটি মেনে নিতে রাজি নন সহকারী শিক্ষকরা। তারা প্রধান শিক্ষকের এক ধাপ নিচে বেতন চান। এ নিয়ে একাধিকবার আন্দোলনও করেছেন সহকারী শিক্ষকরা।
শিক্ষক নেতারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন স্কেলের এই পরিবর্তনে প্রধান শিক্ষকরা খুশি হলেও সহকারী শিক্ষকরা খুশি নন। তারা সহকারী প্রধান শিক্ষকের নতুন পদটি চান না। তারা মনে করছেন, এ পদ সৃষ্টি হলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতি পেতে সহকারী শিক্ষকদের দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। আর সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটি না থাকলে এক ধাপ পদোন্নতি পেলেই প্রধান শিক্ষক হওয়া যাবে। তারা প্রধান শিক্ষকের পরের ধাপেই বেতন চান।