পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র আদনান সানি ও তার মা সীমু বেগম © টিডিসি ফটো
রংপুরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের স্কেলের আঘাতে অন্ধ হয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীকে সু-চিকিৎসার জন্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও শিক্ষকদের দারে দারে ঘুরছেন অভিভাবক ও স্বজনরা। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের অসহযোগিতার অভিযোগ করে গত বুধবার দুপুরে নগরীর দর্শনা আরকে রোডস্থ নালন্দা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন অন্ধ হয়ে যাওয়া পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র আদনান সানির মা সীমু বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র আদনান পড়ালেখায় দুর্বলতার কারণে শিক্ষিকা কর্তৃক নিষ্ঠুরভাবে রাগান্নিত হয়ে এলোপাতাড়ি স্কেল দিয়ে মারপিট করে আদনানের ডান চোখ গুরুত্বর জখম করে। প্রথমে রংপুর এবং অবস্থা বেগতিক দেখে ঢাকায় পাঠানো হয়। ঢাকায় তার পরিবারের পক্ষে আদনানের চিকিৎসার ব্যয়ভার করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। প্রথম পর্যায়ে আদনানেন চোখের অপারেশনের সময় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়া হলেও এখন তারা ধরা ছোয়ার বাইরে থাকছেন। একাধিকবার যোগাযোগ করেও তাদের কোনোরূপ সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না।তিনি সাংবাদিকদের লেখনির মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির মামা আশরাফুল ইসলাম শামীম জানান, সানির বাবা ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন ও তার মা শিমু বেগম ঢাকায় বসবাস করেন। এ কারণে গত বছরের জুলাইয়ে সানিকে নালন্দা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আবাসিক শাখায় ভর্তি করানো হয়। গত শনিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আবাসিক শাখার শিক্ষিকা সাগরিকা রায় স্কেল দিয়ে মারার সময় সানির চোখে আঘাত লাগে। এতে শিশুটির ডান চোখের লেন্স মারাত্মক জখম হয়। এ অবস্থায় সানিকে স্থানীয় দ্বীপ আই কেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে রাতেই শিশুটিকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।
এ সময় নালন্দা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপাল মহিউদ্দীন সাংবাদিকদের জানান, তার উন্নত চিকিৎসার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠান সব ধরণের সহযোগিতা করছে। আদনানেন মায়ের অভিযোগ সঠিক নয়।
উলেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি নগরীর দর্শনায় নালন্দা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র আদনান সামীর ডান চোখ শিক্ষিকা সাগরিকা রায়ের স্কেলের আঘাতে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। পরে সাংবাদিকদের তোপের মুখে স্কুল কর্তৃপক্ষ পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্র আদনান সানীর চোখের চিকিৎসা ব্যয়ভার বহন করবে বলে স্বীকার করেন। ওই দিন অভিযুক্ত শিক্ষিকা সাগরিকা রায়কে পুলিশ আটক করলেও বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন।