ক্যাডেট এমডি. মেহেদি হাসান © সংগৃহীত
বিশ্বখ্যাত সমুদ্রচলাচল বিষয়ক সংস্থা ‘দ্য নটিক্যাল ইনস্টিটিউট’ ২০২৫ সালের মর্যাদাপূর্ণ ‘লুডেক প্রাইজ’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও কাপ্তান ক্রিস্টফ ফার্দিনান্দ লুডেকের স্মরণে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এবারের আসরে ফিলিপিন্সের জয়জয়কারের পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্যাডেট এমডি. মেহেদি হাসান রানার-আপ হয়ে দেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্মান বয়ে এনেছেন।
২০২৫ সালের লুডেক প্রাইজ বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিপিন্সের ম্যারিটাইম একাডেমি অফ এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিকের ক্যাডেট জন এমম্যানুয়েল এস্পিরিতু। এছাড়া জয়েন্ট রানার-আপ হিসেবে যৌথভাবে ভূষিত হয়েছেন ফিলিপিন্সের ড্যানি ক্রিশ্চিয়ান জুমায়াও (জন বি ল্যাকসন কলেজেস ফাউন্ডেশন) এবং বাংলাদেশের ক্যাডেট এমডি. মেহেদি হাসান (বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়)।
পুরস্কার হিসেবে বিজয়ী জন এমম্যানুয়েল পেয়েছেন ২৫০ পাউন্ড মূল্যের উপহার ভাউচার এবং তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পেয়েছে ১,০০০ পাউন্ড মূল্যমানের নটিক্যাল ইনস্টিটিউটের বই। অন্যদিকে, রানার-আপ মেহেদি হাসান ও ড্যানি ক্রিশ্চিয়ান প্রত্যেকে ১০০ পাউন্ডের ভাউচার এবং তাদের নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় ৫০০ পাউন্ড সমমূল্যের বই লাভ করেছে।
আরও পড়ুন: ঘুম কি ভবিষ্যতের জন্য ‘জমা’ করে রাখা সম্ভব?
পুরস্কার প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাডেট এমডি. মেহেদি হাসান বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমার পেশাদারিত্ব ও নেতৃত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতিকে আরও দৃঢ় করল। এটি আমাকে বিশ্ব সামুদ্রিক সম্প্রদায়ের সেবায় সততা ও জীবনভর শেখার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করবে।’
বিজয়ী জন এমম্যানুয়েল এবং রানার-আপ ড্যানি ক্রিশ্চিয়ানও তাদের প্রতিক্রিয়ায় এই অর্জনকে ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মানদণ্ড এবং সমুদ্র শিক্ষার বৈশ্বিক অগ্রগতির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দ্য নটিক্যাল ইনস্টিটিউটের সিইও কাপ্তান জন লয়েড বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘লুডেক প্রাইজ জ্ঞান ও নেতৃত্বের সেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে তুলে ধরে যা সমুদ্রচলাচলের ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক। আমরা কাপ্তান লুডেকের উত্তরাধিকার রক্ষায় ভবিষ্যৎ সমুদ্রচারীদের জন্য এই সহায়তা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
উল্লেখ্য, কাপ্তান ক্রিস্টফ ফার্দিনান্দ লুডেক ছিলেন একজন প্রখ্যাত মাস্টার মেরিনার এবং সমুদ্র আইন বিশেষজ্ঞ। তার পেশাগত সততা ও শিক্ষার প্রসারে গভীর বিশ্বাসকে ধরে রাখতেই এই আন্তর্জাতিক পুরস্কারটি প্রবর্তন করা হয়েছে। এবারের ফলাফলে ফিলিপিন্সের আধিপত্য পুনরায় প্রমাণ করেছে কেন দেশটিকে ‘বিশ্বের সমুদ্রপথের রাজধানী’ বলা হয়, আর বাংলাদেশের ক্যাডেটদের এই স্বীকৃতি বৈশ্বিক মেরিটাইম খাতে দেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।