খেলোয়াড়দের আন্দোলনে ভোগান্তিতে ইবির ২৫০০ শিক্ষক-শিক্ষার্থী

০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:১৯ PM
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় © টিডিসি ফটো

‘প্রতিদিন দুপুর ২টার বাসে মেসে গিয়ে দুপুরের খাবার খাই। এ কারণে বেশি টাকা নিয়ে আসিনি। অল্প কিছু টাকা নিয়ে আসছিলাম সেটি বন্ধুদের সঙ্গে ঝাল-মুড়ি খেয়ে শেষ হয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেট আটকে আন্দোলনের ফলে দেড় ঘণ্টা যাবৎ দাঁড়িয়ে আছি। কাছে টাকা না থাকায় ভাড়া বাসেও যেতে পারছি না। পেটে ক্ষুদা কাছে নেই টাকা ভোগান্তিতে পড়েছি।’

এমনটাই বলছিলেন খেলোয়াড়দের আন্দোলনে ভোগান্তিতে পড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নজরুল ইসলাম। খেলায় অংশগ্রহণের বাজেটের দাবিতে মঙ্গলবার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টা থেকে সাড়ে ৩টা পযর্ন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন খেলোয়াড়রা। ফলে ক্লাস-পরীক্ষা শেষে বাসসমূহ নির্ধারিত সময় বেলা ২টায় যাওয়ার কথা থাকলেও দেড় ঘণ্টা দেড়িতে সাড়ে ৩টায় ছেড়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

জানা যায়, আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্পস টুর্নামেন্ট। এ টুর্নামেন্টে ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, বাস্কেটবলসহ ১১ ধরনের খেলায় অংশগ্রহণের সক্ষমতা রয়েছে খেলোয়াড়দের। তবে বাজেট কম থাকায় ৪টি দল অংশ নেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

পরে ১১ ধরনের ক্যাটাগরির খেলায় অংশগ্রহণের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইনগেট বন্ধ করে আন্দোলন শুরু করেন খেলোয়াড়রা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস আটাকে পড়ে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল কয়েকবার আলেচনায় বসে বিষয়টির সমাধানের আশ্বাস দিয়ে পরিবেশ শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে সাড়ে ৩টায় দিকে ক্রীড়া বিভাগের পরিচালক তাদের দাবি উপাচার্য মেনে নেওয়ার কথা জানালে আন্দোলন স্থগিত করেন। ফলে বাসসমূহ নির্ধারিত সময় বেলা ২টায় যাওয়ার কথা থাকলেও দেড় ঘণ্টা দেড়িতে ছেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: কুবিতে শেষ হলো সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান সপ্তাহ

এতে ভোগান্তি পোহাতে হয় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে। অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়েল বাস থেকে নেমে লাইনের বাসে করে গন্তব্যে ফিরেছেন। বাসে আটকে থাকা শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রধান ফটক আটকানোর পরপরই প্রশাসন চাইলে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করতে পারতো। প্রশাসনের অদূরদর্শী আচরণের কারণেই প্রায় আড়াই হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজা কুমার বলেন, প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে বাস ছেড়ে যায়। আমরা মেসে গিয়ে খাওয়া দাওয়া করি। আজকে বাস আটকে পড়ায় আমরা ভোগান্তিতে পড়েছি। 

আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. জহুরুল ইসলাম বলেন, বাস আটকে রেখে আন্দোলনের কোন মানে হয় না। কোন দাবি থাকলে কথা বলার জন্য নির্দিষ্ট স্থান আছে। এভাবে সকলকে ভোগান্তিতে ফেলা উচিত নয়।

এ ছাড়া একই দাবিতে গতকাল সোমবার ক্রীড়া বিভাগের গেটে তালা দিয়ে এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেন তারা। এতে ক্রীড়া বিভাগের কর্মকর্তারা দেড় ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে গেটের তালা খুলে দেন আন্দোলনকারীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া বিভাগের পরিচালক ড. সোহেল বলেন, তারা খেলায় অংশগ্রহণের জন্য আন্দোলন করছিলেন। তাদের দাবি উপাচার্য মেনে নেওয়ায় আন্দোলন স্থগিত করেছেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা নীতিগতভাবে খেলায় অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তারপরেও কেন আন্দোলন করলো? তাদের দাবির কথা আমাদের সঙ্গে আলেচনা করেও বলতে পারত।

গণভোটের রায় রক্ষাসহ ৩ দাবিতে ঢাবি শিক্ষার্থীর আমরণ অনশন
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
৪২ উন্নয়নের ছাপ রেখে বিদায় নিলেন জহুরুল হক হল প্রাধ্যক্ষ
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
সরকার গঠনের দুই মাসেই বিএনপির মধ্যে দমনমূলক প্রবণতা দেখা যা…
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসকদের সাথে ঢাবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, …
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষকদের বেতন নিয়ে বড় সুখবর দিল মাউশি
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকদের স্কুলে যেতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
  • ০৮ এপ্রিল ২০২৬
close